ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের ওসির টাকা চুরি: ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার উৎস কী?
* টাকা চুরি করে ঝাড়ুদার, আর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হলেন মেস কর্মচারী। * ভুক্তভোগীকে ডিবি পুলিশের ৭-৮ জন মিলে নির্মম নির্যাতন ও বৈদ্যুতিক শক । * লিঙ্গ কে মোমবাতি জালিয়ে আধা ঘণ্টা ধরে রাখা হয়। * চিৎকার করলে মুখে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় লাঠি।
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 18 April, 2026, 12:33 PM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 18 April, 2026, 6:30 PM

পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের ওসির টাকা চুরি: ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার উৎস কী?

পিরোজপুরে ডিবি পুলিশের ওসির টাকা চুরি: ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার উৎস কী?

মিথ্যা চুরির অপবাদে ডিবি পুলিশের হাতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তাদের মেসের অস্থায়ী কর্মচারী মো. ইউনুস ফকির (৪০)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—তিনি ডিবি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি করেছেন। অথচ পরে সেই টাকা পাওয়া যায় মেসের ঝাড়ুদার শাকিলের কাছে। গত সোমবার দুপুরে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি জানাজানি হয় গত বৃহস্পতিবার।

এই ঘটনায় খোদ পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এমনকি পুলিশের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ওসির কক্ষে এত টাকা কোথা থেকে এলো, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার খানাখুনিয়ানি গ্রামের মৃত মোবারেক আলী ফকিরের ছেলে ইউনুস জানান, ২০১৮ সাল থেকে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের মেসের চারতলা ভবনটি দেখভালের দায়িত্বে আছেন। দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে থাকেন পিরোজপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম।

ওই কক্ষের দু’টি চাবির একটি ইউনুসের কাছে ছিল। ইউনুস জানান, গত সোমবার দুপুরে আরিফুল তার কাছে থাকা চাবিটি ফেরত চান। কিন্তু সেটি দিতে ব্যর্থ হন ইউনুস। এরপরই আরিফুল দাবি করেন, তার কক্ষ থেকে দুই দিনে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে এবং ইউনুসই সেই টাকা নিয়েছেন। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি ইউনুসকে চাপ দিতে থাকেন।

চুরির কথা অস্বীকার করায় ইউনুসকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ভবনের নিচতলায় নিয়ে যান আরিফুল এবং এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে ডিবি পুলিশের ৭-৮ জন সদস্য সেখানে গিয়ে ইউনুসকে নির্মমভাবে পেটান এবং বৈদ্যুতিক শক দেন। পায়ের তালুতে অসংখ্যবার পেটানো হয়। চিৎকার করলে লাঠি দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। একপর্যায়ে অসহায় ইউনুস জানান, যেহেতু চাবি তার কাছে ছিল, তাই তিনি টাকা পরিশোধ করবেন। ওইদিন বিকেলে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রামে নিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা টাকা দেওয়ার জন্য রাত পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই তাকে মেসে ফিরিয়ে এনে পুনরায় নির্যাতন করা হয়। 

ডিবি সদস্য কাওসারের নেতৃত্বে ৩-৪ জন তাকে রান্নাঘরে নিয়ে লিঙ্গত্বকে মোমবাতি গলিয়ে আধা ঘণ্টা ধরে ধরে রাখে। যন্ত্রণায় চিৎকার করলে মুখে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং বুকে ও মুখে পা দিয়ে চেপে ধরা হয়। সোমবার সন্ধ্যার পর পরিবার সুদে টাকা ধার করে আরিফুলকে দেয়। রাতে ইউনুসকে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকীর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিস্তারিত শোনার পর এসপি ঝাড়ুদার শাকিলকে ডেকে পাঠান। জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল চুরির কথা স্বীকার করেন এবং টাকা উদ্ধার হয়। এরপর ইউনুসের দেওয়া টাকা তাকে ফেরত দেওয়া হয়।

অসুস্থ ইউনুস চিকিৎসা নিতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়সারাভাবে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করানো হয়। জানাজানির ভয়ে ডাক্তারকে কিছু বলতে বাধা দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও তাকে বলতে বাধ্য করা হয় যে, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি নিজে নিজের শরীর পুড়িয়েছেন এবং পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছেন।

গত শুক্রবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না। বৈদ্যুতিক শকের কারণে শরীরের অনেক অংশ অবশ হয়ে আছে। পুলিশের সঙ্গে পেরে উঠবেন না—এই ভয়ে পরিবার মামলা করেনি। তবে ইউনুস ও তার স্বজনরা এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। ইউনুসের ভাই আনিসুর রহমান বলেন, "একজন খুনিকেও এভাবে নির্যাতন করা হয় না।"

অভিযুক্ত ডিবি ওসি আরিফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, তবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status