|
জাতীয় দক্ষতা সংকট মোকাবিলায় ‘ইয়ুথ এমপ্লয়েবিলিটি সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() জাতীয় দক্ষতা সংকট মোকাবিলায় ‘ইয়ুথ এমপ্লয়েবিলিটি সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত গ্লোবাল এন্টারপ্রেনারশিপ নেটওয়ার্ক (জিইএন) বাংলাদেশ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দক্ষতাই ভবিষ্যৎ’। বক্তারা বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান দক্ষতা সংকট মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থায় যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা জরুরি এবং তরুণদের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি বলেন, “দক্ষ বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু সার্টিফিকেটধারী হলেই চলবে না, প্রয়োজন বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতা। তরুণদের মধ্যে ‘ডুয়ার মেন্টালিটি’ গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” সামিটে ‘ইনোভেশন শোকেস’ নামে একটি বিশেষ পর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও প্রকল্প প্রদর্শিত হয়। এসব উদ্ভাবন উপস্থিত অতিথি ও করপোরেট প্রতিনিধিদের প্রশংসা কুড়ায় এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা তুলে ধরে। ‘গ্লোবাল পলিসি ডায়ালগ’ সেশনে বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষক ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশ্ব শ্রমবাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশি তরুণদের প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধান দক্ষতায় পারদর্শী হতে হবে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তারা শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে না পারলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি সম্ভব নয়। সভাপতির বক্তব্যে ড. সবুর খান বলেন, “চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতা করতে হলে তরুণদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।” ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মূল প্রবন্ধে বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া টেকসই কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। তিনি তরুণদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। জিইএন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. কে. এম. হাসান রিপন স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের তরুণরা শেখার আগ্রহী। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তারা বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।” সম্মেলনটি ড্যাফোডিল গ্রুপের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ দিপ্তী, বিএসডিআই এবং স্কিল ডট জবসের সহায়তায় আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা দেশের শীর্ষ করপোরেট লিডারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান, যা তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
