ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
নতুন দিনের অঙ্গীকার: স্কাউটিং হোক সবার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 6 April, 2026, 12:51 PM

নতুন দিনের অঙ্গীকার: স্কাউটিং হোক সবার

নতুন দিনের অঙ্গীকার: স্কাউটিং হোক সবার

বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য “নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হোক সবার” শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি নতুন প্রজন্মের জন্য সময়োপযোগী এবং অর্থবহ আহ্বান।  স্কাউটিংয়ের সূচনা হয় ১৯০৭ সালে। এর প্রবর্তক রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল ব্রিটেনের ব্রাউন্সি দ্বীপে প্রথম স্কাউট কার্যক্রম শুরু করেন। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশে স্কাউটিং কার্যক্রমের সূচনা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে প্রায় ছয় কোটি শিশু-কিশোর ও যুবক স্কাউট প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে আত্মনির্ভরশীল, দায়িত্বশীল ও পরোপকারী নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

স্কাউটিং শ্রেণিকক্ষের বাইরের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের চরিত্র, দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিকতার বিকাশ ঘটায়। এটি একটি জনপ্রিয়, অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষামূলক যুব আন্দোলন যা শিশু-কিশোর ও যুব সমাজের অবসর সময়কে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে বৈচিত্র্যময় কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করে এবং উন্নত মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একজন যুবক নিজের অন্তর্নিহিত ইচ্ছাশক্তি কাজে লাগিয়ে আত্মোন্নয়নের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের কল্যাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। স্কাউট প্রতিজ্ঞা ও আইন অনুসরণ এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে স্কাউটরা ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের মানসিকতা অর্জন করে। 

ছয় কোটির বেশি স্কাউট ও প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবীর সমন্বয়ে স্কাউটিং আজ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম যুব আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান বৈশ্বিক জনসংখ্যা প্রায় ৮২৬ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ০.৭৩ শতাংশ মানুষ সক্রিয়ভাবে স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে যুবসমাজের বিকাশে অবদান রাখছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৫-১৯ বছর বয়সীদের হার সর্বোচ্চ যা ১০.০৩ শতাংশ। এছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী জনসংখ্যা ২৮.৬০ শতাংশ এবং ৩০ বছরের কম বয়সী জনসংখ্যা ৫৬.৪২ শতাংশ। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশই শিশু ও তরুণ, যাদের সঠিক উন্নয়ন, দিকনির্দেশনা ও দক্ষতা বিকাশ আজকের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে বাংলাদেশ স্কাউটস ৬ বছর থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ ৩৪ হাজার যা বাংলাদেশকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম স্কাউট দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে দেশের বিশাল যুবসমাজকে উন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে স্কাউটিং কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

মুক্তাঙ্গনে পরিচালিত বৈচিত্র্যময় কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা সহজেই বিকশিত করা যায়। এসব কার্যক্রম তাদের দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে এবং তাদের চরিত্রবান, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বয়সভেদে শিশু ও তরুণদের মানসিক চাহিদা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয়ে থাকে। এ কারণে স্কাউটিং কার্যক্রম তিনটি শাখায় বিভক্ত: কাব স্কাউট, স্কাউট এবং রোভার স্কাউট। কাব স্কাউট হলো সেই বালক-বালিকারা যাদের বয়স ৬ বছরের বেশি কিন্তু ১১ বছরের কম। স্কাউট হলো ১১ বছর বা তার বেশি বয়সী কিন্তু ১৭ বছরের কম কিশোর-কিশোরী। রোভার স্কাউট হলো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অথবা ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী কিন্তু ২৫ বছরের কম তরুণ-তরুণী। এসব শাখার মাধ্যমে শিশুরা নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষা অর্জন করে, সেবার মানসিকতায় গড়ে ওঠে এবং দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে শেখে।

স্কাউটিংয়ে ব্যবহৃত শিক্ষাপদ্ধতিকে স্কাউট পদ্ধতি বলা হয়। এই পদ্ধতির আটটি উপাদান হলো: প্রতিজ্ঞা ও আইন, হাতে-কলমে শিক্ষা, টিম সিস্টেম, ব্যক্তিগত ক্রমবিকাশ, প্রতীকী কাঠামো, বয়স্ক নেতার সমর্থন, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা। এই পদ্ধতি শিশু-কিশোরদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সামাজিকতা, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম, পরিবেশ সচেতনতা এবং সমস্যা সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।

সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন প্রতিটি অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব আর স্কাউটিং সেই দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্কাউটিং শিশুদের সততা, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, সময়ানুবর্তিতা, পরোপকারিতা ও দেশপ্রেমের মতো মৌলিক মূল্যবোধ শেখায়। ক্যাম্পিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা শেখে নিজের কাজ নিজে করা, দায়িত্ব গ্রহণ, দল পরিচালনা, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতিতে টিকে থাকার বাস্তব কৌশল। পারদর্শিতা ব্যাজ অর্জনের মাধ্যমে স্কাউটরা বিভিন্ন বিষয়ে নতুন দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করে। একই সঙ্গে তারা পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যেমন বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদী-খাল পরিষ্কার, প্রাণী সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি। পাশাপাশি রক্তদান, ত্রাণ বিতরণ ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা মানবিক, সহমর্মী ও সেবামুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। উপদল পদ্ধতির মাধ্যমে স্কাউটরা শেখে কীভাবে একটি দল পরিচালনা করতে হয়, দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে হয়। এই অভ্যাসগুলো তাদের ভবিষ্যতের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও সক্ষম করে তোলে। আইসিটি ক্যাম্প, জোটা-জোটি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্কাউটরা অনলাইন নিরাপত্তা, শিক্ষামূলক প্রয়োজনে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, ডিজিটাল টুলের মাধ্যমে পরিকল্পনা ও উপস্থাপনা তৈরি এবং ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক দক্ষতা অর্জন করে। এর ফলে তারা প্রযুক্তিতে পারদর্শী হয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে একধাপ এগিয়ে যায়। নিয়মিত সভা, ক্যাম্প, আলোচনা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে স্কাউটরা সাবলীলভাবে কথা বলতে শেখে, সংকোচ ও ভয় কাটিয়ে ওঠে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক জাম্বুরি, প্রশিক্ষণ, ফোরাম ও সেমিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের মূল্যবোধ দৃঢ়ভাবে গড়ে ওঠে। স্কাউটিং শিশুদের শিষ্টাচার ও সামাজিক আচরণ গঠনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ভদ্র ও মার্জিত আচরণ, অন্যের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি প্রকাশ, শোনা ও কথা বলার শালীনতা এসব গুণাবলি স্কাউট কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই আয়ত্ত করে।

উল্লেখিত গুণাবলি অর্জনের লক্ষ্যে ছাত্রজীবনে শিশু-কিশোর ও যুব বয়সীরা নিজ নিজ শাখার নির্ধারিত প্রোগ্রাম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড অর্জনের সুযোগ পায়। কাব স্কাউট শাখায় রয়েছে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড যা একজন কাব স্কাউটের জন্য সর্বোচ্চ সম্মাননা। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরসম্বলিত সনদপত্রসহ এই অ্যাওয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। স্কাউট শাখায় রয়েছে  প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের চিফ স্কাউটের স্বাক্ষরসম্বলিত সনদপত্রসহ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়। একইভাবে রোভার স্কাউট শাখায়  প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় যা একজন রোভার স্কাউটের জন্য সর্বোচ্চ অর্জন হিসেবে বিবেচিত। এমন সোনালি অর্জনের সুযোগ ছাত্রজীবনে নিশ্চয়ই কেউ হাতছাড়া করতে চাইবে না। এই সম্মাননাগুলো একদিকে যেমন ছাত্রজীবনকে সমৃদ্ধ করে, অন্যদিকে তেমনি তাদের দক্ষ, দায়িত্বশীল ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

স্কাউটরা পতাকা স্পর্শ করে প্রতিজ্ঞা পাঠ করে দীক্ষা গ্রহণ করে। এই প্রতিজ্ঞায় তারা সৃষ্টিকর্তার প্রতি কর্তব্য পালন, দেশের প্রতি কর্তব্য পালন, সর্বদা অপরকে সাহায্য করা এবং স্কাউট আইন মেনে চলার অঙ্গীকার করে। এছাড়া, স্কাউটরা তাদের কর্মযাত্রায় তিনটি মূল মন্ত্রকে অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করে-নিজের প্রতি কর্তব্য পালন, সৃষ্টিকর্তার প্রতি কর্তব্য পালন এবং অপরের প্রতি কর্তব্য পালন। এই আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। স্কাউটদের মূলমন্ত্র হলো, কাব স্কাউটদের “যথাসাধ্য চেষ্টা করা”, স্কাউটদের “সদা প্রস্তুত” এবং রোভার স্কাউটদের “সেবা”। সম্মিলিতভাবে এর অর্থ দাঁড়ায়, “সেবার জন্য সদা প্রস্তুত থাকতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা।” এই মূলমন্ত্র ধারণ করে স্কাউটরা প্রকৃতি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও বিশ্বজনীন কল্যাণে তাদের শুভ বার্তা ছড়িয়ে দিতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ, সমাজকল্যাণ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে স্কাউটিং যুগের পর যুগ ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

শিশুর সর্বাঙ্গীণ বিকাশ, সঠিক মানসিক গঠন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য স্কাউটিং আজকের যুগে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত পথ। সন্তানকে স্কাউটিংয়ে যুক্ত করা শুধু একটি সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি আজীবনের বিনিয়োগ। স্কাউটিং তার জীবনে শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধ, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে। এক কথায়, স্কাউটিং শিশুকে শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজ ও দেশের জন্য দায়বদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status