মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া চা বাগানে তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য মহাসমাবেশ ও আলোচনা সভা। দিনভর আয়োজনে অংশ নেন হাজারো মানুষ, সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল এই তেলিয়াপাড়ায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের কার্যকর দিকনির্দেশনা আসে। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য এস এম ফয়সাল ও সাখাওত হাসান জীবন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্যসচিব সাদেক আহমেদ খান, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা বলেন, তেলিয়াপাড়া শুধু একটি স্থান নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি তেলিয়াপাড়ার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এতে সহযোগিতা করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকেরা।