আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। তবে সেচ কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট ও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বোরো চাষীরা।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে মিনি কক্সবাজার খ্যাত হালতির বিল এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে, যা উপজেলার মোট আবাদি জমির বড় একটি অংশ।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান গাছে রোগবালাই তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। ফলে তারা ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তাদের অভিযোগ, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না।
কৃষকেরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সেচের জন্য জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এ বছর বোরো ধানের ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বিবেচনায় সরকারের কাছে ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, এ বছর উপজেলায় ৭ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হালতির বিল এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানে রোগবালাই কম দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং সার ও বালাইনাশকের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সেচের জন্য জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এ বছর হালতির বিল এলাকায় বোরো ধানের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সেচ কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল এমরান খাঁন জানান, তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির চেষ্টা করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এমন তৎপরতায় কৃষকেরা আশা করছেন, সেচের জন্য জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং চলতি মৌসুমে নলডাঙ্গার বোরো ধানে মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফলন।