|
আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর সিগারেট প্রচারণার অভিযোগ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর সিগারেট প্রচারণার অভিযোগ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ জন কর্মী ভাড়া করে একটি সেমিনারের আড়ালে প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানির সুপারভাইজার ইউনুস আলীর তত্ত্বাবধানে কর্মীদের লোগোসম্বলিত জার্সি, মানিব্যাগ ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। পরে তাদের নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও জনবহুল এলাকায় পাঠিয়ে ব্র্যান্ড প্রচারণা চালানো হচ্ছিল, যা সরাসরি দেশের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিপন্থী। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কোম্পানির প্রতিনিধি ইউনুস আলী ও কর্মচারী সাকিব নিয়মিতভাবে শহরের বিভিন্ন স্থানে এমন প্রচারণামূলক কার্যক্রম আয়োজন করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় রোববার (২ মার্চ) শিববাড়ি মোড়ের একটি ভবনের ছাদে গোপনে কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। ![]() আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর সিগারেট প্রচারণার অভিযোগ বাংলাদেশে কার্যকর ‘Smoking and Tobacco Products (Control) Act, 2005’ এবং এর ২০১৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার, প্রমোশন ও স্পনসরশিপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনের ৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না। ব্র্যান্ড নাম, লোগো, প্রতীক বা রং ব্যবহার করে প্রচারণাও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। একই সঙ্গে বিনামূল্যে নমুনা বিতরণ বা উপহার দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা দণ্ডনীয় অপরাধ। সাম্প্রতিক সময়ে জারি হওয়া ‘Smoking and Tobacco Products (Usage Control) (Amendment) Ordinance, 2025’–এ বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী রাস্তা, বিপণিকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা কিংবা সরাসরি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে ব্র্যান্ড প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে; পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের লক্ষ্য করে বিনামূল্যে সিগারেট ও আকর্ষণীয় উপহার দিয়ে প্রমোশন চালানো হচ্ছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কৌশল তরুণদের ধূমপানে প্রলুব্ধ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে আসক্তির ঝুঁকি বাড়ায়। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্টরা স্থান ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের অফিসে গিয়ে তা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, এর আগেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, জরিমানার পরও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। জনস্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, তামাক কোম্পানির এ ধরনের গোপন প্রচারণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ প্রচারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
