|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ড. মোশাররফ
শেখ ফরিদ উদ্দিন
|
![]() ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ড. মোশাররফ বিদায়ি সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এবং ওই সংসদের ডেপুটি স্পিকার একাধিক মামলায় কারাগারে থাকায় এবারের অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, কার সভাপতিত্বে নির্বাচিত হবে নতুন স্পিকার-তা নিয়ে আলোচনা চলছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারবেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি দল এবং বিরোধী দলের আলোচনার ভিত্তিতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। এবারও সেই রীতি অনুসরণ করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বর্ষীয়ান রাজনীতিক, বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গয়েশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, গবেষক, ভূ-বিজ্ঞানী, লেখক ও কলামিস্ট। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনে তার ঝুলিতে অর্জনের ভান্ডার বিশাল। তিন মেয়াদে মন্ত্রী এবং পাঁচবারের সংসদ-সদস্য থাকাকালে নির্বাচনি এলাকায় দাউদকান্দি পৌরসভা ও নতুন উপজেলা তিতাস প্রতিষ্ঠা, মেঘনা উপজেলা বাস্তবায়নসহ যুগান্তকারী উন্নয়ন করেছেন তিনি। এছাড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন ও মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে স্বর্ণপদকসহ প্রচুর সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ড. মোশাররফ ‘মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক’ রাজনৈতিক মামলায় ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৭, ২০১২ ও ২০১৪ সালে গ্রেফতার হয়ে প্রায় ৫ বছর কারাভোগ করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭৯ সালে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং দলের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত এবং মন্ত্রী হন। ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ড. মোশাররফ বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেনের লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে বিলাত প্রবাসীদের অবদান’, ‘প্লাবন ভূমিতে মৎস্যচাষ : দাউদকান্দি মডেল’, ‘সংসদে কথা বলা যায়’, ‘এই সময়ের কিছু কথা’, ‘ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের কারাগারে ৬১৬ দিন’, ‘রাজনীতির হালচাল’, ‘সময়ের ভাবনা’, ‘জরুরি আইনের সরকারের দুই বছর (২০০৭ ও ২০০৮)’, ‘মূল্যবোধ অবক্ষয়ের খণ্ডচিত্র’, ‘প্রগতি ও সত্যের সন্ধানে’, ‘করোনাকালে বাংলাদেশ : সংক্রমণের দশ মাস’, ‘স্মৃতির অ্যালবাম’ এবং ‘আমার রাজনীতির রোজনামচা’ নামের ১৩টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল এখনো ঘোষণা হয়নি। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯ এবং তাদের মিত্ররা তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। তাদের জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
