|
ডোপ টেস্ট ‘পজিটিভ’ হলে সরকারি চাকরিতে অযোগ্য, নতুন বিধিমালা জারি
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ডোপ টেস্ট ‘পজিটিভ’ হলে সরকারি চাকরিতে অযোগ্য, নতুন বিধিমালা জারি বাংলাদেশেও এবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগ বা চাকরি অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা-২০২৬’ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, যেকোনো প্রার্থী বা কর্মচারীর ডোপ টেস্টে মাদকদ্রব্য শনাক্ত হলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য অযোগ্য হবেন। ইতিমধ্যেই চাকরিতে রয়েছেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা না নিলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রজ্ঞাপনে ডোপ টেস্ট পরিচালনার জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সভাপতি হবেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, সিআইডি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি এবং নয়জন বিশেষজ্ঞ সদস্য থাকবেন। প্রয়োজনে কমিটি সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। বিধিমালা অনুযায়ী ডোপ টেস্ট প্রযোজ্য হবে সরকারি, আধা-সরকারি, স্থানীয় সরকার, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগের সময়। এছাড়া গাড়ি, নৌযান ও আকাশযান চালনার লাইসেন্স, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স, বিদেশ যাত্রা এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক সেবনের অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে পরীক্ষা নেওয়া যাবে। পরীক্ষার সময় নমুনা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকতে হবে। ছবি ও আঙুলের ছাপ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। নমুনা প্রেরণ বা পরীক্ষার সময় কোনো পক্ষকে ফল জানানো যাবে না। ল্যাবরেটরিতে প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ, সিসি ক্যামেরা এবং ডেটাবেইজ সুরক্ষার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের আগে থেকেই কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), মেট্রোরেল, বিসিএস নিয়োগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এবং গাড়িচালক নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছিল। বিধিমালা জারি হওয়ায় এবার এর আওতায় থাকা সবার জন্য এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে মাদক গ্রহণ না করেও কিছু ঔষধ খাওয়ার কারণে আপনার ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে। ডোপ টেস্ট করার আগে এই ঔষধগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বেশিরভাগ দেশেই সাধারণ ডোপ টেস্টের জন্য প্রাথমিক পরীক্ষায় মূত্র থেকে মাদকের উপস্থিতি সনাক্ত করার বাণিজ্যিকভাবে তৈরী টেস্ট কিট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। টেস্টগুলো করার সময় সাধারণ ল্যাবরেটরিগুলো বেশকিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির নির্দিষ্ট মান ব্যবহার করে। টেস্টের ফলাফল ঐ মানের নিচে আসলে তাকে ডোপ নেগেটিভ ধরা হয়। এবং ফলাফলের মান তার চেয়ে বেশী আসলে তাকে ডোপ পজিটিভ ধরা হয়। প্রথম পরীক্ষায় অনেক সময়ই মাদক গ্রহণ না করলেও ডোপ পজিটিভ আসতে পারে। এর কারণ সাধারণত বিভিন্ন ঔষধ সেবন বা অন্য কোন শারীরিক গঠন। এগুলোর ফলে দেহে তৈরী হওয়া নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক পদার্থের কারণে বেশকিছু ড্রাগ সনাক্তকরণ পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে। কিছু কিছু ঔষধ সেবন করলে দেহে মাদকের মত উপাদান তৈরি হতে পারে ফলে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট ভুল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। একনজরে দেখে নিন ডোপ টেস্টের রিপোর্ট ভুল হওয়ার জন্য দায়ী ঔষধগুলোর নাম। ওজন কমানোর ঔষধ: Phentermine হলো ওজন কমানোর জন্যে বহুল ব্যবহৃত ঔষধ। এর সাথে মিল আছে amphetamines জাতীর মাদকের। এটি সেবন করলে ডোপ টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট আসবে। বিষণ্ণতা কমানোর ঔষধ (Antidepressants): Sertraline (Zoloft) বিষণ্ণতা কমানোর ঔষধ হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়। benzodiazepines জাতীয় মাদকের সাথে এর সদৃশতা আছে। এই ঔষধ ব্যবহারের কয়েক দিন পর পরীক্ষা করলে ডোপটেস্ট পজিটিভ হবে। অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotics): দেহে অণুজীব বংশ বিস্তার করলে বিভিন্ন রোগ হয়। এসব রোগ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন ধরণের এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হয়। যক্ষা রোগের জন্য ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিক Rifampin খাওয়ার ১৮ ঘন্টার মধ্যে ডোপটেস্ট করলে ফলাফল পজেটিভ আসবে। মূত্রথলির সংক্রমণ,টাইফয়েড,নিউমোনিয়া সারানোর ঔষধ levofloxacin, ofloxacin খেলেও একই ফলাফল পাওয়া যায়। কোল্ড এলার্জি ও সর্দির ঔষধ: সর্দি ও কোল্ড এলার্জি সারাতে যেসব জনপ্রিয় ঔষধ ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো diphenhydramine জাতীয় ঔষধ।ডোপ টেস্টের সময় এটি methadone জাতীয় ড্রাগ হিসেবে সনাক্ত হয়। অনেক সময় এটি PCP ধরণের মাদক হিসেবে ধরা পরে। এইডস রোগের ঔষধ: Efavirenz (Sustiva) এইডস রোগের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ডোপ টেস্টের সময় দেহে গাঁজার উপস্থিতির সংকেত দেয়। মানসিক রোগের ঔষধ: এন্টিসাইকোটিক ড্রাগ বা মানসিক রোগের ঔষধ হিসেবে বেশি ব্যবহার করা হয় Quetiapine,chlorpromazine ও Trazodone। এগুলো ডোপ টেস্টের সময় amphetamine জাতীয় মাদকের উপস্থিতির সংকেত দেয়। কাশির ঔষধ: ডেক্সোমেথরফেন কাশির ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি সেবনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডোপ টেস্ট করলে আফিম জাতীয় মাদক ও PCP (phencyclidine) মাদকের উপস্থিতির সংকেত দেয়। উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ: Diltiazem (Cardizem) উচ্চরক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনের জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি ডোপ টেস্টে LSD এর উপস্থিতি নির্দেশ করে। ডায়াবেটিসের ঔষধ: ডায়াবেটিসের ঔষধ সেবনের কয়েক ঘন্টা পর ডোপ টেস্ট করলে amphetamine এবং methamphetamine জাতীয় মাদকের উপস্থিতির সংকেত দেয়। সাইনুসাইটিসের ঔষধ: এটি ডোপ টেস্টের সময় amphetamine এবং methamphetamine জাতীয় মাদক হিসেবে ধরা পরে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ঔষধ: এটি ডোপ টেস্টে amphetamine, methamphetamine অথবা LSD মাদক হিসেবে ধরা পরে। মনোযোগ বাড়ানোর ঔষধ (Methylphenidate): এটি ডোপ টেস্টে amphetamine, methamphetamine এবং LSD মাদক হিসেবে ধরা পরে। ঘুমের ঔষধ (Doxylamine): এটি ডোপ টেস্টের সময় methadone অথবা PCP মাদক হিসেবে ধরা পরে। ব্যথা কমানোর ঔষধ: ৭২ ঘন্টার মধ্যে ব্যথার ঔষধ Tramadol গ্রহণ করলে এটি ডোপ টেস্টে আফিম, মরফিন, হেরোইন হিসেবে ধরা পরতে পারে। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ: Ibuprofen,Oxaprozin এবং naproxen এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ পেটব্যথা ও পিরিয়ডের ব্যথার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এগুলো খাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ডোপ টেস্ট করলে গাঁজা ও PCP সেবনের সংকেত দেয়। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স: এই সিরাপের মধ্যে Riboflavin বা ভিটামিন বি-২ থাকে। এটি CBD OILL এর একটি উপাদান। বেশি পরিমানে ভিটামিন বি-২ গ্রহণ করলে আপনি গাঁজা সেবনকারী হিসেবে ধরা পরবেন। ম্যালেরিয়ার ঔষধ: হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন, কুইনাইন, নিভাকুইন ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এই ঔষধ খাওয়ার পর ডোপ টেস্ট করলে রেজাল্ট পজিটিভ হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
