|
রামগঞ্জে হতদরিদ্রের বসতঘরের সামনে পুলিশ সদস্যের বেড়া: অবরুদ্ধ এক পরিবার
রায়হানুর রহমান, রামগঞ্জ
|
![]() রামগঞ্জে হতদরিদ্রের বসতঘরের সামনে পুলিশ সদস্যের বেড়া: অবরুদ্ধ এক পরিবার ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের উত্তর সমেষপুর গ্রামে অজিত উদ্দিন মিজি বাড়ির মৃত নাজির মিয়ার ছেলে ভ্যানচালক কামাল হোসেনের বসতঘরের সামনে। অভিযুক্ত আবদুল কুদ্দুস একই বাড়ির মৃত হোসেন আহম্মদের ছেলে এবং বর্তমানে নোয়াখালীর চাটখিল থানায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর চাটখিল থানায় যোগদানের পর থেকেই আবদুল কুদ্দুস পারিবারিক জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কথায় কথায় মানুষকে মামলার ভয় দেখানো ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ তার নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে আবদুল কুদ্দুস জোরপূর্বক কামাল হোসেনের বসতঘরের সামনে চলাচলের পথ বন্ধ করে বাঁশের বেড়া দেন। একই দিনে একই বাড়ির সিএনজি চালক নুরু মিয়ার জায়গাতেও বেড়া দিয়ে দখলে নেন তিনি। ভুক্তভোগী কামাল হোসেন বলেন,“আমি পৈতৃকসূত্রে জায়গার মালিক হয়ে প্রায় ২৫ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। দেড় মাস আগে আবদুল কুদ্দুস ও তার ভাই আবুল কালাম আমার ঘরের সামনে জোর করে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। সে পুলিশে চাকরি করে—এই ভয় দেখিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এলাকার কেউ তার ভয়ে এগিয়ে আসে না। এক মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে, আরও তিনটি সন্তান আছে। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে ঢাকা চলে এসেছি। এখন ভ্যানে করে কাঁচামাল বিক্রি করে কোনোমতে জীবন চালাচ্ছি। বাড়িতে ফিরতে পারছি না।” একই বাড়ির সিএনজি চালক নুরু মিয়া অভিযোগ করে বলেন,“আবদুল কুদ্দুস ও তার ভাই আমার জায়গা কিনতে চেয়েছিল। আমি রাজি না হওয়ায় জোর করে জায়গায় বেড়া দিয়ে দখল করে রেখেছে। প্রতিবাদ করলে মারধর ও মামলার হুমকি দেয়।” এলাকাবাসীর মধ্যে ৪/৫ জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কারও বসতঘরের সামনে এভাবে বেড়া দেওয়ার আইনগত অধিকার নেই। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশে চাকরি করায় সাধারণ মানুষ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।” এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান,“এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
