|
গৃহকর্মী শিশু নির্যাতন: বাংলাদেশ বিমানের এমডি-সিইওসহ চারজন কারাগারে
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গৃহকর্মী শিশু নির্যাতন: বাংলাদেশ বিমানের এমডি-সিইওসহ চারজন কারাগারে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বিথী (৩৭), শফিকুর রহমান (৬৬), সুফিয়া (৫৫) ও রুপালি (৩৫)। উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্র জানায়, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সারে ৩টায় রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা একজন হোটেলকর্মী। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি তার ১১বছর বয়সী একমাত্র কন্যা কে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় শিশু দেখাশোনার কাজের জন্য একটি বাসায় রাখেন। ওই বাসার মালিক বিথী ও তার স্বামী শফিকুর রহমান ভবিষ্যতে শিশুটির ভরণপোষণ ও বিবাহের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাসও দেন। সেই আশ্বাসে ২০২৫ সালের জুন মাসে শিশুটিকে তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়। প্রথম দিকে বাবা নিয়মিত মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারলেও ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে আর মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হতো না। সর্বশেষ শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বিথী ফোন করে জানায়, শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে বাবার কাছে হস্তান্তর করলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ও দগদগে পোড়া ক্ষত দেখা যায়। শিশুটি স্বাভাবিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। আঘাতের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরবর্তীতে শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাকালে শিশুটি জানায়, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বরের পর থেকে বিথী, শফিকুর রহমান এবং আরও দুইজন গৃহকর্মী বিভিন্ন সময়ে তাকে মারধর করতেন এবং রান্নার কাজে ব্যবহৃত গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিতেন। এ ঘটনায় ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী এনডিসির পক্ষ থেকে আহত শিশুটির চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
