|
সন্তানের জন্মের পর ভারতীয় নারীদের মধ্যে অবসাদ উদ্বেগ বাড়ছে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() সন্তানের জন্মের পর ভারতীয় নারীদের মধ্যে অবসাদ উদ্বেগ বাড়ছে তার কথায়, "খিদে কমে আসছিল, সবকিছুতেই অনীহা বোধ করতাম। কথায় কথায় রাগ হতো। কিন্তু কেন এরকম হচ্ছিল, বুঝতে পারছিলাম না।" বেশ কিছুদিন একই সমস্যায় ভোগার পর, চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন তিনি। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, কলকাতার আরও একজন নারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী বলেন, "দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে আমি প্রায়শই মেজাজ হারিয়ে ফেলতাম। বাচ্চাটা কেঁদে উঠলে রাগ হতো। এক এক সময় সহ্য করতে না পেরে আমি কানে বালিশ চেপে বসে থাকতাম।" প্রথমে পরিবারের সদস্যদের না জানালেও পরে তিনি সমস্যার কথা তাদের জানান। তার কথায়, "বাড়ির কেউ আমার পরিস্থিতি বুঝতে পারছিল না। তারা ভাবত আমি বাচ্চার দেখাশোনার দায়িত্ব এড়াতে চাইছি বা অ্যাটেনশন (মনোযোগ আকর্ষণ করতে) চাইছি। অথচ আমার ভিতরে কী চলছিল সেটা কাউকে বোঝাতে পারছিলাম না।" মধ্য তিরিশের ওই নারী জানিয়েছেন, তার প্রথম সন্তানের জন্মের পরও তার কাছাকাছি অভিজ্ঞতা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেননি। তবে দ্বিতীয়বার অনুরূপ অভিজ্ঞতা হওয়ায় তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এবং জানতে পারেন তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের জন্মের পর মায়েদের অবসাদে ভোগার ঘটনা নতুন নয়। বিশ্বজুড়ে সন্তান প্রসবের পর অনেক নারীরই পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসবোত্তর অবসাদ দেখা দেয়। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০% গর্ভবতী নারী এবং সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ১৩% নারী অবসাদের সঙ্গে লড়াই করেন। উন্নয়নশীল দেশে গর্ভাবস্থায় ১৫.৬% নারী এবং সন্তান প্রসবের পরে ১৯.৮% নারী এই ধরনের অবসাদের মুখোমুখি হন। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের পর মায়েদের যে অবসাদ দেখা যায় তা মারাত্মক আকার নিতে পারে। সময় মতো চিকিৎসা না করালে মায়েদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। মায়েদের মানসিক অবসাদ শিশুদের জন্যও ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। ![]() সন্তানের জন্মের পর ভারতীয় নারীদের মধ্যে অবসাদ উদ্বেগ বাড়ছে সন্তান প্রসবের পর অবসাদের সঙ্গে লড়াই করা নারীদের সংখ্যা ভারতেও উল্লেখযোগ্য। নতুন মায়েদের মধ্যে অবসাদ স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. কৃষ্ণা ঘোষ বলেছেন, "গর্ভাবস্থা থেকে সন্তানের জন্ম পর্যন্ত একজন নারী নানান শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যান। পোস্টপার্টাম স্টেজে অর্থাৎ সন্তানের জন্মের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে মায়েদের মধ্যে যে ধরনের অবসাদ দেখা যায়, তাকে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বলা হয়।" "ভারতীয় নারীদের মধ্যে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কিন্তু উদ্বেগের কারণ। এদের মধ্যে একটা বড় অংশই অচিহ্নিত থেকে যান, চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না।" তিনি জানিয়েছেন কারও কারও ক্ষেত্রে সমস্যা বিরূপ আকার নিতে পারে। নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট ডা. রাজর্ষি নিয়োগী বিষয়টাকে বিশদে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ''পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনকে আমরা ব্রড ক্যাটাগরিতে পোস্টপার্টাম মুড ডিজঅর্ডার বলে থাকি। এর মধ্যে পোস্টপার্টাম ব্লুজ, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন এবং পোস্টপার্টাম সাইকোসিস রয়েছে।" পোস্টপার্টাম ব্লুজের ক্ষেত্রে মন ভাল না থাকা, মেজাজ হারিয়ে ফেলা, ঘুমে ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যেতে পারে। অনেক সময় চিকিৎসকের ইন্টারভেনশন ছাড়া, সামান্য কাউন্সেলিং বা জীবন যাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব। ডা. নিয়োগীর কথায়, "অনেক সময় মেজর কোনও ইন্টারভেনশন ছাড়াই পোস্টপার্টাম ব্লুজ অ্যাড্রেস করা সম্ভব। দ্বিতীয় ধরনের যে অবসাদ অর্থাৎ পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কিন্তু মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডারের আকার ধারণ করতে পারে।" ডা. নিয়োগী বলেন, "এক্ষেত্রে মনখারাপ, কনফিডেন্স কমে যাওয়া, কান্নাকাটি করার মতো সমস্যা দেখা যায়। মা হওয়ার পর নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে খাপ খাইয়ে নেবেন তা বুঝতে পারেন না।" "এই সময় নানান চিন্তা ভাবনা আসে। মা ভাবতে থাকেন তিনি হয়ত বাচ্চাকে ভালভাবে মানুষ করতে পারবেন না, যত্ন নিতে পারবে না।" সন্তানের জন্মের পর পোস্টপার্টাম স্টেজে মায়েদের মধ্যে তৃতীয় যে ধরনের অবসাদ দেখা যায় তাকে পোস্টপার্টাম সাইকোসিস বলে। ডা. নিয়োগী ব্যাখ্যা করেছেন, "পোস্টপার্টাম সাইকোসিস আরও গুরুতর। সন্তানের জন্মের প্রথম সাতদিনের মধ্যে দেখা যায় এবং এটা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের সিভিয়ার ফর্ম। যেখানে মা ভায়োলেন্ট হয়ে পড়তে পারেন। তিনি ডিলিউশনে ভুগতে থাকেন।" কখন লক্ষণ দেখা যেতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত সন্তানের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ্যে আসতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শিশুর জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে অবসাদের লক্ষণ দেখা যায়। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাড়ি ফিরে মায়েদের মধ্যে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন লক্ষ্য করা যেতে পারে। সাধারণত আট মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত এই অবসাদ স্থায়ী হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অবসাদের পিছনে একাধিক কারণ সন্তান প্রসবের পরে মায়েদের মধ্যে অবসাদের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। রাজর্ষি নিয়োগী বলেব, "এই অবসাদের পিছনে বায়ো-সাইকো-সোশ্যাল মডিউল কাজ করে। ডিফিকাল্ট প্রেগনেন্সি এবং সিজারিয়ান সেকশনের ক্ষেত্রেও মায়েদের মধ্যে এই ধরনের অবসাদের চান্স বাড়ে। সন্তানের জন্মের পর মায়ের রক্তে হরমোনের মাত্রা হঠাৎই কমে যায় এবং এই রেট অফ ফলের ওপর নির্ভর করে কোন মায়ের পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হবে এবং কার হবে না। রেট অফ ফল যত বেশি সেই মায়ের ঝুঁকি তত বেশি।" "এর আগে সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে যদি মায়ের পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন হয়ে থাকে তাহলে তার পরবর্তী সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রেও আবার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তার যদি আগে মানসিক কোনও সমস্যা থেকে থাকে সেক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ে।" "সাইকো সোশ্যাল ফ্যাক্টরের মধ্যে দেখা গিয়েছে কন্যা সন্তানের জন্মের পর মায়েদের মধ্যে অবসাদের ঝুঁকি বাড়ে।" এর কারণ 'সামাজিক চাপ'। ডা. কৃষ্ণা ঘোষ দীর্ঘদিন একটা সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে ছিলেন। তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, "অনেক সময় মেয়ে হয়েছে শুনে শ্বশুরবাড়ির কেউ আর মাকে দেখতেই এলেন না। তার জন্য পরিষ্কার জামা কাপড়ও অনেক সময় থাকে না। কাজেই বাড়ি ফিরে গেলে তার প্রতি পরিবারের আচরণ কেমন হবে তা অনুমান করা যায়।" "এই সমস্ত ঘটনা কিন্তু পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।" প্যারেন্টিং কনসাল্টেন্ট পায়েল ঘোষ জানিয়েছেন, একজন নারীর সঙ্গে তার স্বামী, শ্বশুরবাড়ি এবং বাপের বাড়ির সম্পর্কের উপরেও তার মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভর করে। তার কথায়, "শিশুর জন্মের পর সদ্যজাতর যেমন যত্নের প্রয়োজন মায়েরও কিন্তু ততটাই গুরুত্ব সহকারে দেখাশোনার প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা হয় না।" "স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কিন্তু পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।" পাশপাশি একজন নতুন মায়ের খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। পায়েল ঘোষ বলেছেন, "বাচ্চার ঘুম ও খাওয়ার সময় অনুযায়ী নিজের সমস্ত কিছু ঠিক করতে হয় মায়েদের। পর্যাপ্ত ঘুম হয় না, সময় মতো খাওয়া হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়ির সবাই শিশুকে নিয়ে মেতে থাকেন মায়ের দিকে তেমন খেয়াল থাকে না।" এই সমস্ত কিছুই মায়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। "অনেকসময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে মা হন অনেকে, কিম্বা পরিকল্পনা ছাড়াই মা হন। এক্ষেত্রে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি থকে যায়," বলেছেন ডা. নিয়োগী। কতটা মারাত্মক হতে পারে?’ বিশেষজ্ঞদের মতে সময় মতো চিকিৎসা না হলে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে এই ধরনের অবসাদ। ব্যাঙ্গালোরে ২০২২ সালে এক নারী চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায় তিনি সদ্য মা হয়েছিলেন এবং পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। এমন আরও অনেক ঘটনা আছে। আবার সদ্যজাত শিশুর মৃত্যুর একাধিক ঘটনায় মায়েদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এবং তদন্তের সময় দেখা গিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে এই মায়েরা প্রসবের পর অবসাদে ভুগছিলেন। কয়েক মাস আগে গুজরাতের আহমেদাবাদে ২২ বছরের এক নারীর বিরুদ্ধে তার তিনমাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সময় জানা যায় মা অবসাদে ভুগছিলেন। ডা. নিয়োগী জানিয়েছেন ২০১২ সালে এমনই এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। তিনি বলেছেন, "খড়দহের বাসিন্দা ওই নারী বিয়ের প্রায় ১২ বছর পর মা হয়েছিলেন। তার ডিফিকাল্ট প্রেগনেন্সি (গর্ভাবস্থার সময় কিছু জটিলতা) ছিল। পরে আইভিএফ এর মাধ্যমে তিনি যমজ মেয়েকে জন্ম দেন। তার সিভিয়র পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন ছিল যা পোস্টপার্টাম সাইকোসিসের দিকে যাচ্ছিল।" তিনি সদ্য মা হওয়া ওই নারীর পরিবারকে জানান তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। ডা. নিয়োগীর কথায়, "পোস্টপার্টাম সাইকোসিসের ক্ষেত্রে অনেক সময় মায়েরা ভাবতে থাকেন সন্তানের যত্ন নিতে তারা অক্ষম। তাই নিজেদের শেষ করে দেওয়া ভাল। এরপরেই চিন্তা আসে, তার অবর্তমানে সন্তানকে কে দেখবে, তাই অনেক সময় সন্তানকে শেষ করার পর মায়েরা আত্মহত্যা করতে যান।" খড়দহের ওই নারীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। ডা. নিয়োগী বলেন, "আমি ওই মাকে হাসপাতালে ভর্তির কথা বললেও তার পরিবার রাজি হয়নি। বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর তিনি একদিন তার দুই যমজ মেয়েকে কুঁয়োয় ঠেলে ফেলে দেন এবং পরে নিজে যখন ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন তখন তাকে পড়শীরা আটকায়।" পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং তিনি পরের কয়েক বছর সংশোধনাগারে কাটান। সেখান থেকে মুক্তির পর আবার মা হন তিনি। ডা. নিয়োগী বলেন, "এইবারেও তার পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন দেখা দেয়। কিন্তু এইবার আর তার পরিবার রিস্ক নেয়নি।" স্টিগমা সন্তানের জন্মের পর মায়েদের মধ্যে অবসাদ নতুন ঘটনা না হলেও এই নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। হলিউড এবং বলিউডের একাধিক তারকা সন্তানের জন্মের পর অবসাদের সঙ্গে লড়াইয়ের বিষয়ে সরব হয়েছেন। কিন্তু এখনও এই নিয়ে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না অনেক মা। প্যারেন্টিং কন্সালট্যান্ট পায়েল ঘোষ বলেন, "মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার বিষয়ে এখনও আমরা দ্বিধাবোধ করি। আর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দিতে চান না অনেকে।" "প্রথমত এটাই বোঝানো মুশকিল হয়ে যায় যে সন্তানের জন্ম একটা আনন্দের বিষয়। তাই মা হওয়ার পর অবসাদ কেন হবে? দ্বিতীয়ত অবসাদ হলেও অনেকেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে চান না।" তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, "শিশুর জন্মের পর একজন সদ্যজাতর যেমন যত্নের প্রয়োজন তেমনই মায়েরও যত্নের প্রয়োজন।" মোকাবিলার উপায় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের সঙ্গে মোকাবিলা করার একমাত্র উপায় হল একে চিহ্নিত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ করা। মিজ ঘোষ বলেছেন, "মায়েদের যত্ন নেওয়া ভীষণ জরুরি। মায়েদের সময় মতো খাওয়া, ঘুম ও মানসিক সাপোর্ট দরকার। সেটা পরিবারের তরফ থেকে এলে ভাল হয়।" "কিন্তু আজকাল নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি। তাই কেউ না থাকলে, মায়েদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। নিজের খেয়াল রাখতে হবে।" ডা. নিয়োগী অন্য একটা বিষয় উল্লেখ করেছেন। তার কথায়, "মা ও শিশু দু'জনের যত্নের প্রয়োজন। মা যখন শিশুকে খাওয়াবেন বা যত্ন লেবেন তখন কোনও একজন সঙ্গে থাকলে ভাল হয়।" "আর চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ কারটা খুব দরকার।" এই প্রসঙ্গে গ্রামের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন ডা. ঘোষ। তিনি বলেছেন, "শহরে এই বিষয়ে আলোচনা হলেও গ্রামে এখনও হয় না। তবে গ্রামে শিশুদের দেখাশোনার জন্য পরিবারের সদস্যরা থাকেন যেটা শহরে হয় না। " "সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের আরও কাজ করা দরকার বলে আমি মনে করি।"
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
