স্বাস্থ্যসেবার অভাবে সাজেকের দুর্গম জৌপুই পাড়ায় সন্তান প্রসবের সময় প্রসূতির মৃত্যু
ভূবন ত্রিপুরা,সাজেক
প্রকাশ: Saturday, 7 November, 2026, 9:34 PM
স্বাস্থ্যসেবার অভাবে সাজেকের দুর্গম জৌপুই পাড়ায় সন্তান প্রসবের সময় প্রসূতির মৃত্যু
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম জৌপুই পাড়ায় সন্তান প্রসবের সময় ওয়ারেন্টি ত্রিপুরা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সন্তান প্রসব করতে না পেরে তিনি মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ারেন্টি ত্রিপুরা জৌপুই পাড়ার বাসিন্দা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাস এবং আশপাশে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও জরুরি প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা না থাকায় সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে সন্তান প্রসবের সময় এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সাজেক ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে এখনো উন্নত চিকিৎসাসেবা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ধাত্রী, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা অপ্রতুল। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও প্রসূতিদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না থাকায় এমন পরিস্থিতিতে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অত্র মৌজার হেডম্যান দহিন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন,ওয়ারেন্টি ত্রিপুরার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
তিনি আরো বলেন, ৩৬ নং সাজেক ইউনিয়ন আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন সেই সাথে এলাকাটি দুর্গম যার কারণে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের প্রাণহানি প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে তাই সরকারের কাছে সাজেকবাসীর জন্য একটি হসপিটাল নির্মাণের জোর দাবি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, সাজেকের দুর্গম এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা কার্যকর স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু, প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হোক।
তাঁরা আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর কত মায়ের প্রাণ ঝরে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর পড়বে—এমন প্রশ্নও তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় সাজেকের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, রাঙামাটি জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আর কোনো মাকে যেন চিকিৎসার অভাবে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়।