|
বাউফলে নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
মোঃ আল আমিন আকন
|
![]() বাউফলে নার্স ও চিকিৎসকদের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ভুক্তভোগী নারী ইতি বেগম (২২) পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাব্বির সিকদারের স্ত্রী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে প্রসব বেদনা নিয়ে ইতি বেগমকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে জরুরি বিভাগে তখন কোনো চিকিৎসক বা সহায়তাকারী কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। রোগীকে উপরে নেওয়ার জন্য ট্রলি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজনও পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনরা নিজেরাই তাকে উপরের তলায় নার্সদের কক্ষে নিয়ে যান। পরিবারের অভিযোগ, ডেলিভারি রুমে ভর্তি করার পর সারারাত ইতি বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও দায়িত্বরত নার্সরা বিষয়টি চিকিৎসককে অবহিত করেননি বা ফোন করেননি। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে সকালে প্রসবের পর নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয়। নবজাতকের বাবা সাব্বির সিকদার বলেন, রাতে কোনো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই আমার সন্তান মারা গেছে। বারবার নার্সদের অনুরোধ করলেও তারা চিকিৎসককে ফোন দেয়নি কিংবা কোনো সহযোগিতা করেনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাতে জরুরি বিভাগের কল অন ডিউটিতে ছিলেন চিকিৎসক ফাতেমা বেগম যুথী। তিনি হাসপাতাল কোয়ার্টারে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় শিরিন ও শিপ্রা নামের দুইজন নার্স হাসপাতালে দায়িত্বে ছিলেন। এ বিষয়ে দায়িত্বরত সিনিয়র নার্স শিরিন বেগম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জরুরি রোগী এলে আগে ভর্তি করতে হয়, এরপর চিকিৎসক দেখেন। আমি ডাক্তার নই। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। রোগীর ডেলিভারি ব্যথা বেশি ছিল, সেটি আমি দেখেছি। রাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ফাতেমা বেগম যুথী বলেন, রাতে কোনো রোগী আসার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। সকালে রোগীর বিষয়ে জানতে পারি এবং তখন কোনো ভর্তি কাগজও ছিল না। পরে ভর্তি করে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলে দেখা যায়, নবজাতক আর জীবিত নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। রোগীর পরিবার অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাতে চিকিৎসকরা কল অন ডিউটিতে থাকেন। জরুরি রোগী এলে কল করলে চিকিৎসক এসে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
