|
সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের সংবাদ সম্মেলন
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
|
![]() সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের সংবাদ সম্মেলন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলামের বিরদ্ধে প্রেস ব্রিফিং করে এমন তথ্য জানিয়েছেন দলিল লেখক ও জুলাই যোদ্ধা আব্দুল মোতালিব। সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি কার্যালয়ে আজ রোববার দুপুরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফোরকান উদ্দিন খান মানিক ও সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী। আব্দুল মোতালিব বলেছেন, শহরের চরশোলাকিয়ার আব্দুল করিমসহ তার আরও দুই ভাই ও দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তির একটি সুলেনামা দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য বৃহস্পতিবার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাই-বোনদের কারও জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম লেখা রয়েছে আব্দুর রশিদ, কারও পরিচয়পত্রে লেখা রয়েছে আব্দুর রাশিদ। তবে এর জন্য দলিলের সাথে পৌরসভার একটি প্রত্যায়নপত্র দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিদ ও রশিদ একই ব্যক্তি। সুযোগ নিয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার। তিনি রেজিস্ট্রি বাবদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। দলিল লেখক ১০ হাজার টাকা অফার করলেও কাজ হয়নি। এসময় মোতালিব ক্ষুব্ধতার সাথে কথা বলায় দলিলটি রেজিস্ট্রি না করে বরং মোতালিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে বলে মোতালিব জানতে পেরেছেন। আর সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম রোববার ও সোমবার ছুটি নিয়েছেন। জেলা ও উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন বলেছেন, সাব-রেজিস্ট্রারের কর্মক্ষেত্র মিঠামইন উপজেলায়। সদরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় শরীফুল ইসলাম রোববার আর সোমবার এখানে দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত বৃহস্পতিবারও তিনি এখানে অফিস করেছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, দৈনিক ৬০ থেকে ৭০টি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য জমা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস করার নিয়ম থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার নরসিংদীর বাসা থেকে রোববার মোটরসাইকেলে আসেন বেলা ১২টার দিকে। অফিসে বসেন দুপুর ২টায়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৮ থেকে ১০টি দলিল সম্পাদন করেই উঠে যান। তখন দলিল প্রতি এক হাজার টাকা দিলে তিনি রাত ১০টা পর্যন্ত দলিল সম্পাদন করেন। কোন কোন দলিলের জন্য বেশিও নেন। সদর উপজেলায় প্রায় এক বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রারের জন্য। তখন সপ্তাহে পাঁচ দিন দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হবে। এখন রেকর্ড রুম থেকে পুরনো দলিলের নকল নিতে গেলেও সমস্যা হচ্ছে। কারণ নকল নিতে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর লাগে। এখানে জেলা রেজিস্ট্রারের পদটিও শূন্য আছে বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহের দায়িত্বে আছেন রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা। তিনি কিশোরগঞ্জে অফিস করেন সোমবার ও মঙ্গলবার। এখানে একজন স্থায়ী জেলা রেজিস্ট্রারও প্রয়োজন বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
