ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের সংবাদ সম্মেলন
এম এ আজিজ, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: Sunday, 7 December, 2025, 6:31 PM

সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের সংবাদ সম্মেলন

সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের সংবাদ সম্মেলন

দলিল লেখকের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার। ঘুষ না দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। আর সাব-রেজিস্ট্রার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। হয়রানিতে পড়েছেন শতাধিক দলিল দাতা ও ক্রেতা। 


কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলামের বিরদ্ধে প্রেস ব্রিফিং করে এমন তথ্য জানিয়েছেন দলিল লেখক ও জুলাই যোদ্ধা  আব্দুল মোতালিব।

সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি কার্যালয়ে আজ  রোববার দুপুরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফোরকান উদ্দিন খান মানিক ও সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী। 

আব্দুল মোতালিব বলেছেন, শহরের চরশোলাকিয়ার আব্দুল করিমসহ তার আরও দুই ভাই ও দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তির একটি সুলেনামা দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য বৃহস্পতিবার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাই-বোনদের কারও জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম লেখা রয়েছে আব্দুর রশিদ, কারও পরিচয়পত্রে লেখা রয়েছে আব্দুর রাশিদ।

 তবে এর জন্য দলিলের সাথে পৌরসভার একটি প্রত্যায়নপত্র দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিদ ও রশিদ একই ব্যক্তি। সুযোগ নিয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার। তিনি রেজিস্ট্রি বাবদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। 


দলিল লেখক ১০ হাজার টাকা অফার করলেও কাজ হয়নি। এসময় মোতালিব ক্ষুব্ধতার সাথে কথা বলায় দলিলটি রেজিস্ট্রি না করে বরং মোতালিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে বলে মোতালিব জানতে পেরেছেন। আর সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম রোববার ও সোমবার ছুটি নিয়েছেন।


জেলা ও উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন বলেছেন, সাব-রেজিস্ট্রারের কর্মক্ষেত্র মিঠামইন উপজেলায়। সদরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় শরীফুল ইসলাম রোববার আর সোমবার এখানে দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত বৃহস্পতিবারও তিনি এখানে অফিস করেছেন। 


নেতৃবৃন্দ বলেন, দৈনিক ৬০ থেকে ৭০টি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য জমা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস করার নিয়ম থাকলেও সাব-রেজিস্ট্রার নরসিংদীর বাসা থেকে রোববার মোটরসাইকেলে আসেন বেলা ১২টার দিকে। অফিসে বসেন দুপুর ২টায়। বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৮ থেকে ১০টি দলিল সম্পাদন করেই উঠে যান। তখন দলিল প্রতি এক হাজার টাকা দিলে তিনি রাত ১০টা পর্যন্ত দলিল সম্পাদন করেন। কোন কোন দলিলের জন্য বেশিও নেন। 

সদর উপজেলায় প্রায় এক বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার দাবি জানিয়েছেন স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রারের জন্য। তখন সপ্তাহে পাঁচ দিন দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হবে। এখন রেকর্ড রুম থেকে পুরনো দলিলের নকল নিতে গেলেও সমস্যা হচ্ছে। 

কারণ নকল নিতে গেলেও সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর লাগে। এখানে জেলা রেজিস্ট্রারের পদটিও শূন্য আছে বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহের দায়িত্বে আছেন রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা। তিনি কিশোরগঞ্জে অফিস করেন সোমবার ও মঙ্গলবার। এখানে একজন স্থায়ী জেলা রেজিস্ট্রারও প্রয়োজন বলে নেতৃবৃন্দ মনে করেন।


অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে এসকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।  জেলা রেজিস্ট্রারকে বারবার ফোন দিলেও ওনি রিসিভ করেননি।   ফলে ওনার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status