|
শ্যামনগরে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরলেন আলফাত হোসেন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() শ্যামনগরে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরলেন আলফাত হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া এই নেতা বলেন, সাতক্ষীরা ৪ আসন শ্যামনগর উপজেলাটি একটি পৌরসভা এবং ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে কেন্দ্র করে এই সংসদীয় আসনটি। নদী ভাঙন,শিশুশ্রম, বেকারত্ব, কর্মহীনতা সহ নানান সমস্যায় জর্জরিত এই আসনের মানুষেরা। অন্য অনেক এলাকার চেয়ে অনেক বেশি অবহেলিত এই জনপদের মানুষেরা। শিক্ষাক্ষেত্রে সুযোগে ঘাটতির কারণে বেশ পিছিয়ে আছে এখানকার মানুষেরা। সুন্দরবনের কোলঘেষা এলাকাগুলোতে তো শিক্ষার্থীদের কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। যুদ্ধ করতে হয় ঝড়-ঝঞ্ঝা সহ প্রাকৃতিক নানান দূর্যোগে। লোনা পানির কারণে নানান ধরণের রোগ-ব্যাধিও প্রবল মাত্রায় পৌঁছেছে এখানে। বিশেষ করে লোনা পানির কারণে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে নারীদের অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় এখানে। আলফাত হোসেন বলেন, সাতক্ষীরা -০৪ শ্যামনগর আমার নির্বাচনী এলাকায় আরেকটি বড় সংকট নিরাপদ সুপেয় পানির ভয়াবহ অভাব। গ্রীষ্মকাল এলেই হাহাকার শুরু হয়। নিরাপদ পানির সংকট মোকাবেলায় নানান উদ্যোগের তাগাদা দিলেও এখন পর্যন্ত সেরকম কার্যকরি কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত শ্যামনগরে স্বাস্থ্যসেবা সুচিকিৎসার সেবা পৌঁছেনি।রাস্তাঘাট সংস্কার যোগাযোগ ব্যবস্থা ইন্টারনেট সেবাও ভয়াবহ দূর্বল শ্যামনগরের কিছু এলাকায়। গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত এই নেতা আরো বলেন, এতো সংকট ও সমস্যা থাকার পরও এই এলাকার মানুষেরা খুবই আন্তরিক, পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনি চিন্তার। শ্যামনগরে নারীদের উদ্যোগে প্রাকৃতিক বীজ মেলার উৎসব হয়ে থাকে প্রতিবছর। এই অঞ্চলের কৃষকেরা নানান জাতের ধানের উদ্ভাবন করে থাকেন, যা জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে। হোয়াইট গোল্ড খ্যাত চিংড়ির চাষও হয় এখানে। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনও। এছাড়া এই অঞ্চলের মানুষেরা কৃষ্টি, কালচার, সামাজিকতা, বিপদের অন্যের প্রতি সহমর্মি হওয়ার অন্যন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন। তবে এতো কিছুর পরও সম্ভবত উপকূলবর্তী এই আসনটি সবচেয়ে অবহেলিত। আলফাত হোসেন আরো বলেন, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আমার দল গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগরে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলগতভাবে সাংগঠনিক সক্ষমতা কম থাকলেও আমি মনে করি, মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ লড়াই অব্যাহত রাখতে পারবো আমরা৷ তিনি সাতক্ষীরা -৪ আসনের শ্যামনগর বাসীর উদ্দেশ্য বলেন, এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি বা না করি কিংবা বিজয়ী হই বা না হই আমার নির্বাচনী এলাকার উপরোক্ত সমস্যাগুলো দূরীকরণে সামনের দিনগুলিতে আমি কাজ করে যাবো। কাজের পরিকল্পনা হিসাবে তিনি প্রাথমিকভাবে ব্যাপক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নত উপকূলীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কার্যকরি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান। এছাড়া নদী ভাঙ্গন রোধসহ স্থানীয়ভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। এছাড়াও তাহার নির্বাচনী এলাকার দীর্ঘদিনের সংকট ও সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গঠন; নিরাপদ পানীয় জলের স্থায়ী ব্যবস্থা করা; একটি বাড়ি একটি শেল্টার তৈরি প্রকল্প গ্রহণ; দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘোষণা; উপকূলের রক্ষাকবচ সুন্দরবন রক্ষা; স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ ও ভঙ্গুর স্লুইসগেট মেরামত করা এগুলো আমার নির্বাচনী ইশতেহারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
