|
কম দামে টেকনো, আইটেল ও ইনফিনিক্স বিক্রি: ট্যাক্স ফাঁকিদাতাদের ব্যবসায় ধস
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() কম দামে টেকনো, আইটেল ও ইনফিনিক্স বিক্রি: ট্যাক্স ফাঁকিদাতাদের ব্যবসায় ধস বিটিআরসির এনইআইআর চালুর ঘোষণা ও সরকারের কঠোর নজরদারিতে কর ফাঁকির সিন্ডিকেটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়ছে অবৈধ মোবাইল বাণিজ্য। বাজার সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদন উৎসাহিত করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে নিজস্ব কারখানায় টেকনো, আইটেল ও ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের ফোন উৎপাদন করছে ট্রানশান বাংলাদেশ লিমিটেড। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ফলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের জন্য কম দামে ফোন সরবরাহ করতে পারছে। এর বিপরীতে অবৈধ ব্যবসায়ীরা বিদেশ থেকে চোরাপথে ফোন এনে ট্যাক্স না দিয়েই বিক্রি করতেন। এতে সরকারের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতো। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) 'ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)' চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ ও অরেজিস্টার্ড ফোনের নেটওয়ার্ক সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফলে যারা বিদেশ থেকে অবৈধ ফোন এনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই বিক্রি করছিলেন, তারা এখন দিশেহারা। ক্রেতারাও এখন আর ঝুঁকি নিতে চান না, কারণ ওই তারিখের পর এসব ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি বড় মোবাইল মার্কেটে গিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে চোরাচালান করা ফোনের বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেক দোকানদার আগের মতো চাহিদা না থাকায় বিদেশি ফোন আমদানি বন্ধ করেছেন। একজন বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে অনেক ফোন এনে বিক্রি করতাম। ক্রেতারা এখন সবাই ভয়ে আছে—ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার। অন্যদিকে অবৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করছেন, সরকার দেশের কিছু ব্র্যান্ডকে সুযোগ দিচ্ছে, অথচ ছোট ব্যবসায়ীদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি কিছু অবৈধ ব্যবসায়ী বৈধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। তবে মোবাইল খাতের বিশেষজ্ঞরা এই অভিযোগকে অমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, এটি ট্যাক্স ফাঁকিদাতাদের হতাশার প্রতিফলন। মোবাইল শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ফোনের দাম আরও কমলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অবৈধ ফোন বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং দেশীয় প্রযুক্তি শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
