ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১ মে ২০২৬ ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
২বোন নিখোঁজকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল, অজ্ঞাত স্থান থেকে দিলেন ‘ধর্মান্তরিতের’ বার্তা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Monday, 29 September, 2025, 9:10 PM

২বোন নিখোঁজকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল, অজ্ঞাত স্থান থেকে দিলেন ‘ধর্মান্তরিতের’ বার্তা

২বোন নিখোঁজকে কেন্দ্র করে ধুম্রজাল, অজ্ঞাত স্থান থেকে দিলেন ‘ধর্মান্তরিতের’ বার্তা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের আপন দুই বোন অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাদের ভিডিও বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। 

নিখোঁজ দুই বোনের নাম স্নিগ্ধা রানি (২৪) ও পূর্ণিমা রানি (১৮)। তারা উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক শৈলেন্দ্র নাথ বর্মণের মেয়ে।

স্নিগ্ধা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর পূর্ণিমা একই কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধান চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাদের বাবা।

অজ্ঞাত স্থান থেকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, নিখোঁজ দুই বোন স্নিগ্ধা ও পূর্ণিমা বোরকা পরিহিত অবস্থায় পাশাপাশি বসে আছেন। তবে তাদের মুখে নেকাব নেই। প্রায় আড়াই মিনিটের ভিডিও বার্তায় বেশি সময় কথা বলেছেন বড় বোন স্নিগ্ধা। তারা উভয়ে ২০২২ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন।

ভিডিও বার্তায় সালাম দিয়ে কথা শুরু করেন স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, ‘আমি স্নিগ্ধা রানি। আমি ২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ।’ পাশে বসে থাকা পূর্ণিমা রানি সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি পূর্ণিমা রানি। আমি ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি।

এরপর স্নিগ্ধা বলেন, ‘আমরা ১৬ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে নিজ জিম্মায় বের হয়ে আসি। এর কারণ, অনেকে বলতে পারেন যে আমরা ২০২২-এ কবুল করার পর ২০২৫ পর্যন্ত কেন বাসায় অপেক্ষা করলাম? এর কারণ হচ্ছে আমার বোন যেহেতু তখনও প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠেনি এ জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে সে যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যায় তখন আমরা ১৬ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হই। বাসা থেকে নিজ জিম্মায় বের হওয়ার পর আমরা আমাদের এফিডেভিটের কাগজটা করে ফেলি (তারা দুজনই এফিডেভিটের কাগজ প্রদর্শন করেন)।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবার ফোন বন্ধ ছিল। আমার ছোট ভাইকে ফোন দিয়ে ব্যাপারটা জানিয়ে দিই।’ নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে স্নিগ্ধা বলেন, ‘আমরা বর্তমানে যেখানে আছি আলহামদুলিল্লাহ, আমরা নিরাপত্তার সঙ্গে এবং নিজ জিম্মায় স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করছি। নিরাপত্তার জন্য আমাদের মোবাইল নম্বরটি কিছুদিনের জন্য বন্ধ রেখেছি।’

তাদের ইসলাম গ্রহণের কারণে প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের হয়রানি করা হচ্ছে দাবি করে স্নিগ্ধা বলেন, ‘আমরা বিশ্বস্ত মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আমাদের ইসলাম কবুলের জন্য আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা প্রকাশ্যভাবে ইসলাম ধর্ম কবুল করেছি। আমাদের কেউ চাপাচাপি-জোরাজুরি কিছুই করেনি। আমরা নিজ ইচ্ছায়, স্বজ্ঞানে এবং সুস্থ মস্তিষ্কে ইসলাম ধর্ম কবুল করেছি। তার পরও আমাদের প্রতিবেশীকে কেন হয়রানি করা হচ্ছে আমরা আসলে ব্যাপারটা জানি না। প্রশাসন এবং আমাদের পরিবারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে আপনারা এ রকম হয়রানিমূলক কাজ একদম করবেন না। প্রশাসনের কাছে বিনীত অনুরোধ যে আমরা এই হয়রানি থেকে বাঁচতে চাই। আপনারা অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ।’

বার্তার শেষ দিকে পরিবারের উদ্দেশে স্নিগ্ধা বলেন, ‘আমরা যেখানে আছি, আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছি, স্বাভাবিক আছি। আমাদের নিয়ে আপনারা একদমই পেরেশান হবেন না। আমরা ইনশাআল্লাহ আপনাদের সঙ্গে অবশ্যই যোগাযোগ করব। আরো অনুরোধ, আমাদের এই ইসলাম কবুলের জন্য আমাদের চারপাশের কোনো প্রতিবেশী বা যে কাউকে হোক কোনো প্রকার হয়রানিমূলক কাজ করবেন না।’

পুরো ভিডিও বার্তায় পাশে বসে থাকা ছোট বোন পূর্ণিমা রানি নিজের পরিচয় দেওয়া ছাড়া কোনো কথা বলেননি। পুরো সময়জুড়ে তার মুখ বেশ মলিন দেখাচ্ছিল। একটি ঘরের ভেতর ভিডিও বার্তাটি রেকর্ডের সময় ক্যামেরার পেছনে কে ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভিডিও বার্তাটির বেশ কিছু বাক্য তৃতীয় পক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী বলা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

স্নিগ্ধা ও পূর্ণিমার বাবা শৈলেন্দ্র নাথ বর্মণ বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে কথাগুলো তাদের আগে ভালো করে শিখিয়ে-পড়িয়ে বলানো হয়েছে। ছোট মেয়েটার মুখ বেশ মলিন ছিল। ওকে দেখে মনে হয়েছে ওর কান্না পাচ্ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে চলে গিয়ে সেদিন আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে শুধু বলেছিল যে ধর্ম বদলিয়েছে। এরপর কান্না করে কেটে দিছে। আর তাদের খোঁজ পাচ্ছি না। কে তাদের নিয়ে গিয়ে রাখছে, কোথায় রাখছে, কেমন রাখছে, কিভাবে রাখছে কিছু জানতে পারছি না। আমি কী করব কিছু বুঝতে পারছি না।’ 

প্রতিবেশী কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের হয়রানি করা নিয়ে মেয়েদের দাবি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এটা ওদের দিয়ে বলানো হয়েছে। যাতে আমরা খোঁজখবর না করি।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status