|
৫০০ টাকার বিনিময়ে জীবিত শিশুটিকে মৃত বলে ফেলে দেয়ার দায়িত্ব দেন নার্স!
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ৫০০ টাকার বিনিময়ে জীবিত শিশুটিকে মৃত বলে ফেলে দেয়ার দায়িত্ব দেন নার্স! প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানান তাকে ক্লিনিকের একজন নার্স বলেছিলেন, শিশুটি মৃত। তাই কোথাও ফেলে দিতে। এর জন্য ফারুককে দেয়া হয় ৫০০ টাকা। তবে তিনি ফেলে না দিয়ে শিশুটিকে নিয়ে যান কবরস্থানে। সেখানে দাফনের জন্য কবরস্থানের লোকজনকে ২০০ টাকা দেন। আর বাকি ৩০০ টাকা তিনি রাখেন। গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পৌরসভার কবরস্থানে দাফনের জন্য কার্টনে এক নবজাতককে নিয়ে আসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। সেখানে দায়িত্বে থাকা ফারুক মিয়া নামের একজন দাফনের আগে আজান দেন। এ সময় কার্টনে থাকা শিশুটি কান্না শুরু করে। কার্টন খোলার সময় দৌড়ে পালিয়ে যায় অজ্ঞাতপরিচয়ের ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে ফারুক মিয়া চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় অর্ধমৃত নবজাককে পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তবে সেখানে ৮ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায় শিশুটি। ওই রাতেই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই কবরস্থানে দাফন করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, কবরস্থানের প্রবেশ পথ ও আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ পর অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ক্লিনিকের কোন নার্স তাকে এমন কাজ করতে বলেছিল তার জানার চেষ্টা চলছে। সেইসঙ্গে শিশুটি কোন প্রসূতির সন্তান তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান জানান, এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘কে বা কারা শিশুটিকে এভাবে কবরস্থানে রেখে গেলে তা খুঁজে দেখতে ডিবিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ঘটনার ২ দিনের মধ্যে জড়িত ব্যক্তি এবং শিশু যে ক্লিনিকে জন্ম নেয়, তা খুঁজে বের করতে সক্ষম হয় তারা।’ এই ঘটনার সঙ্গে আরো কে কে জড়িত, তাদেরও চিহ্নিত করে আটক করা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
