|
ইনফিনিক্স স্মার্টফোনে বারবার বিস্ফোরণ, ঝুঁকিতে গ্রাহকের জীবন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() বামে: নারায়ণগঞ্জের হট ৬০আই মডেলের একটি ফোন, ডানে: ভোলার তানভীর হোসেন ইনফিনিক্স নোট ৫০ প্রো বিস্ফোরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়। এর আগেও ভোলায় ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের ফোন বিস্ফোরণে এক যুবক দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। একের পর এক এমন অভিযোগে প্রশ্ন উঠেছে, গ্রাহকের হাতে থাকা স্মার্টফোন কতটা নিরাপদ? আর ফোনের ব্যাটারি কিংবা অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি থাকলে তার দায় নেবে কে? নাহিদ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার দিকে ফোনে কথা বলার সময় হঠাৎ সেটি অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠে। বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত ফোনটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেন। এর পরপরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে এবং ফোনটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেটি পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় এক বছর আগে ফোনটি কিনেছিলেন নাহিদ। স্বাভাবিক ব্যবহারের মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটায় তিনি উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, ফোনটি হাত থেকে ফেলতে কয়েক সেকেন্ড দেরি হলেই তাঁর কান, মাথা ও হাত গুরুতরভাবে পুড়ে যেতে পারত। এর আগে ইনফিনিক্স নোট ৫০ প্রো মডেলের ফোন বিস্ফোরণে ভোলার তানভীর হোসেন নামে এক যুবক দগ্ধ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। গত বছরের ১২ জানুয়ারি রাতে ব্যক্তিগত পড়াশোনা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর পকেটে থাকা ফোনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তাঁর শরীরের, বিশেষ করে পায়ের কিছু অংশ পুড়ে যায়। প্রথমে তাঁকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই ঘটনায় তানভীরের বড় ভাই মোহাম্মদ ইউসুফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, পকেটে থাকা ফোন বিস্ফোরণে তাঁর ভাই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। সে সময় ইনফিনিক্সের জ্যেষ্ঠ ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপক মো. ইফতেখার উদ্দিন সানি জানিয়েছিলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবেন। তবে নারায়ণগঞ্জের সর্বশেষ ঘটনায় কোম্পানির বক্তব্য, ফোনটির কারিগরি পরীক্ষার ফল কিংবা তদন্তের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে: স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সেই ফোনই যদি কথা বলার সময় কিংবা পকেটে থাকা অবস্থায় আগুন ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা, ক্ষতিগ্রস্ত ফোনের কারিগরি পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে একই মডেলের ফোনে নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
