|
দেশে বৈধ আমদানি শূন্য, অবৈধ পথে আসছে লাখ লাখ স্মার্টফোন
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে জমজমাট ব্যবসা, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা; রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() দেশে বৈধ আমদানি শূন্য, অবৈধ পথে আসছে লাখ লাখ স্মার্টফোন অভিযোগ রয়েছে, অ্যাপল গেজেট, সুমাস টেক, এসএমএম গেজেট, ড্যাজেল মোবাইল শপ ও রিজওয়ান কমপ্লেক্সের আমিন স্টোরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘আনঅফিশিয়াল’ পরিচয়ে আমদানি করা হ্যান্ডসেট বিক্রি করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের দিয়ে ফোনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে অবৈধ আমদানি বা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে দেশে মোট ১৬ লাখ ৪৫ হাজার মোবাইল ফোন উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৯২ হাজার ছিল চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট-সমর্থিত ফোন, ৩১ হাজার পঞ্চম প্রজন্মের স্মার্টফোন এবং ৮ লাখ ২২ হাজার দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর সাধারণ ফিচার ফোন। এর আগের মাস আগস্টে উৎপাদিত হয়েছিল ২২ লাখ হ্যান্ডসেট। ওই মাসে বৈধ আমদানির কোনো রেকর্ড নেই। জুলাইয়ে বৈধ পথে আমদানি হয়েছিল দ্বিতীয় প্রজন্মের ২৫ হাজার ফোন। ওই মাসে দেশে উৎপাদিত হয় ১৮ লাখ হ্যান্ডসেট। বৈধ আমদানির সঙ্গে বাজারের সরবরাহের এই পার্থক্য অবৈধ হ্যান্ডসেটের প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, দেশে দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি বন্ধের পরিকল্পনার আলোচনা থাকলেও সেপ্টেম্বরে উৎপাদিত ফোনের প্রায় অর্ধেকই ছিল এ প্রযুক্তির সাধারণ হ্যান্ডসেট। ফলে এসব ফোনের ভবিষ্যৎ বাজার নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অবৈধ পথে হ্যান্ডসেট বাজারজাত হলে সরকার শুল্ক ও কর বাবদ রাজস্ব হারাতে পারে। একই সঙ্গে বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন। বাজারে নকল, নিম্নমানের ও সংস্কার করা পুরোনো ফোন নতুন বলে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এসব ফোনের মান, ব্যাটারির নিরাপত্তা ও নির্ধারিত বিকিরণসীমা মেনে চলার বিষয়টি কারিগরিভাবে যাচাই করা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিস্তার ঠেকাতে শুধু বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান যথেষ্ট নয়। আমদানির উৎস, শুল্ক পরিশোধ, সরবরাহব্যবস্থা এবং অনলাইন প্রচারণার সঙ্গে জড়িতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বৈধ আমদানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসার কারণ এবং বাজারে বিক্রি হওয়া ফোনের প্রকৃত উৎস প্রকাশের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ছাড়া শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা কঠিন। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন বলেন, যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা সিটি শপিং মলসহ দেশের হাজার হাজার মোবাইল ফোনের দোকানে বিক্রি হওয়া আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেটের বড় অংশই লাগেজের মাধ্যমে দেশে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে লাখ লাখ ফোন এভাবে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এসব ফোনের আমদানি শুল্ক ও কর যথাযথভাবে পরিশোধ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
