|
কুড়িগ্রামের রৌমারীর হলহলিয়া নদীতে ১টি সংযোগ সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রামের রৌমারীর হলহলিয়া নদীতে ১টি সংযোগ সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ দেশ স্বাধীনের পর থেকে অনেক রাজনৈতিক নেতা সেতু নির্মানের লোভ দেখিয়ে ভোট নিয়ে কেউ চেয়ারম্যান কেউ এমপি মন্ত্রী হয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করলেও ওই ৩ ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সেতু নির্মানে কেউই জোড়ালো ভুমিকা রাখেনি। তাই প্রায় সময় ওই ৩ ইউনিয়নের মানুষজনের জীবনহানীসহ সম্পদের ক্ষতি ও দূর্ঘটনার স্বীকার হয়ে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন বলছে সেতুর জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরে কাজ শুরু হবে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদী বিচ্ছিন্ন রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা, চরশৌলমারী এবং দাঁতভাঙ্গা এই তিনটি ইউনিয়নের ৩০ টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ নিজ উপজেলা রৌমারীর সাথে যাতায়তের জন্য একটি সংযোগ সেতুর আকাঙ্খা বহুদিনের। ইউনিয়ন ৩ টির মধ্যে শান্তিরচর, খড়ানিরচর, কাজাইকাটা,গাছবাড়ি, চর কাজাইকাটা, আনন্দবাজার, ফুলকারচর, সোনাপুর,গেন্দার আলগা, নামাজের চর, খেয়ারচর, ডিগ্রীরচর, বাংলাবাজার, চর ইটালুকান্দা, লাউবাড়ি,উত্তর নামাজের চর, জাহাজের আলগা, দইখাওয়ারচর, হবিগঞ্জ, ফুলকার চরসহ আরও বেশকিছু চরের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ শুধুমাত্র একটি সংযোক সেতুর অভাবে নিজ উপজেলা হয়ে জেলা শহরে যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় চরম দুভোর্গে দিনযাপন করছে। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা, মর্জিনা বেগম, মজিবর, সমশের আলীসহ অনেকে জানান, উপজেলার হলহলিয়া নদীর উপর একটি সেতু না থাকায় বছরের পর বছর ধরে চর শৌলমারী, সাহেবের আলগা এবং দাতঁভাঙ্গা ইউনিয়নের মানুষজন চরম দূর্ভোগে যাতায়াত করে আসছে। সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গর্ভবতী নারি, জরুরি রোগির চিকিৎসাসেবা, আইনগতসেবা এবং একই সাথে যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপন্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না তারা। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অনেক আন্দোলন করেও লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর উদ্যোগে ৪শত ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাকো নির্মাণ করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজার- হাজার মানুষজন চলাচল করছে ওই সাকো দিয়ে। বর্ষা মৌসুমে কর্দামাক্ত পথে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয় দারিদ্রপীড়িত এই জনপদের মানুষজনকে। উপজেলার সাথে যোগাযোগের একমাত্র পথে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার স্বীকার ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন পথচারীরা। বর্ষা মৌসুমে এই কষ্ঠ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয়রা এও জানায়, সেতু এবং রাস্তার সমস্যা সমাধান হলে নিজ উপজেলা রৌমারী হয়ে জেলা শহরে মাত্র আড়াই থেকে তিন ঘন্টায় যাতায়াত করা যাবে যা এখন লাগছে ৬-৭ ঘন্টা। সংযোগ সেতুটি নির্মাণ হলে সকল পেশাজীবি মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের বিশেষ করে ওই ৩ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের জোরালো ভুমিকা রাখা সম্ভব হবে। এজন্য স্থানীয়রা সংযোগ সেতুটি নির্মাণে বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছে। এ ব্যাপারে কথা হয় রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জল কুমার হালদারের সাথে। তিনি জানান, কাজাইকাটা এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৬৩০মিটার চেইনেজ সেতুর জন্য জেলায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছরে সেতুর কাজ শুরু হবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
