ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
তারাগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বসবাসের অযোগ্য, ব্যবহার হচ্ছে গোডাউন হিসেবে
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 22 July, 2025, 7:51 PM

তারাগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বসবাসের অযোগ্য, ব্যবহার হচ্ছে গোডাউন হিসেবে

তারাগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বসবাসের অযোগ্য, ব্যবহার হচ্ছে গোডাউন হিসেবে

ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নির্মিত হয়েছে অসংখ্য ঘর। কিন্তু বাস্তবায়নের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই অধিকাংশ ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে দরজা-জানালা, ছাদ থেকে চুঁইয়ে পড়ে পানি, ফাটল ধরেছে দেয়ালে। অধিকাংশ শৌচাগার অকার্যকর, কোথাও পানির সংযোগ নেই। এমন অবস্থায় প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার ফরিদাবাদ, শ্যামগঞ্জ ফাসিরডাঙ্গা, কাচারীপাড়া, রহিমাপুর, ঘনিরামপুর আদর্শপাড়া, উজিয়াল, পদ্মপুকুর, ধোলাইঘাট, খিয়ারডাঙ্গা ও চিলাপাক আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকাগুলোতে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ঘরেই ফাটল ধরেছে, পলেস্তারা খসে পড়েছে, বর্ষার পানি ছাদ ও মেঝে ফুঁড়ে ঢুকে পড়ে। বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব ঘর।

ঘনিরামপুর আদর্শপাড়ার মল্লিকা বেগম জানান, ঘর পেয়ে প্রথমে খুব আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। বৃষ্টির রাতে ঘরের ভেতরে পানির জন্য দাঁড়ানোরও জায়গা থাকে না। রহিমাপুরআশ্রয়নের বাসিন্দা ভ্যানচালক ওমর আলী বলেন, টিনের চাল অনেকবার খুলে গেছে। কয়েকবার টিএনও অফিসে জানিয়েছি, কিন্তু কেউ এসে দেখেনি। এখনো বৃষ্টি হলে ঘরে পানি পড়ে।

আরেকজন বাসিন্দাইসমত আরা বেগম  বলেন, তিন সন্তান নিয়ে ঘরটিতে থাকছি এই ভাঙাচোরা ঘরে থেকে বাচ্চাগুলোর অসুখ লেগেই থাকে। কী করব, থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ভূমিহীনদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে অনেক বিত্তবান ঘর পেয়েছেন। রহিমাপুর আশ্রয়নে বরাদ্দপ্রাপ্ত জাহিদুল (রোশনা) ও এরশাদ নিজের বাড়িতে থাকেন, বরাদ্দকৃত ঘরগুলো ব্যবহার করছেন গোডাউন হিসেবে। শুধু তারাই নন, এমন আরও অনেক ঘর বর্তমানে গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রতিটি ঘরে শৌচাগার থাকলেও বেশিরভাগই এখন অকেজো। কোথাও পানি নেই, কোথাও প্যান ভেঙে পড়ে আছে। অনেকে বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় স্যানিটেশন করছেন। নারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

খিয়ারডাঙ্গার আশ্রয়নের বাসিন্দা মাজেদা খাতুন জানান, ল্যাট্রিন অনেক আগেই ভরে গেছে। এখন বাইরে যেতে হয়, খুব কষ্ট হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঘর নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। ২/৩ নম্বর ইট, কম সিমেন্ট, দুর্বল নকশা—সব মিলিয়ে ঘরগুলো টিকছে না। কাজ শেষে আর কেউ এসে ঘরগুলোর অবস্থা দেখেনি। একজন গ্রামবাসী বলেন, ঘর হস্তান্তরের পর কেউ এসে খোঁজ নেয়নি। অনেকে থাকছে না, কেউ কেউ গোডাউন বানাইছে।

এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমার দায়িত্বে থাকাকালে এসব ঘর নির্মাণ হয়নি, তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল রানা বলেন, যাদের জমি থাকা সত্ত্বেও ঘর বরাদ্দ হয়েছে, তাদের তালিকা তদন্ত করে দেখা হবে। যেসব ঘরে স্যানিটেশন বা কাঠামোগত সমস্যা আছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status