|
ক্ষুধার্ত শিশুকে পাশবিক নির্যাতনে হত্যা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ক্ষুধার্ত শিশুকে পাশবিক নির্যাতনে হত্যা তবে এ ঘটনায় হওয়া হত্যা মামলা তদন্তে লোমহর্ষক তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যায় জড়িত আল আমীন নামের এক ব্যক্তিকে শুক্রবার গাজীপুরের টঙ্গী থানার ষ্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। পিবিআই তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অজ্ঞাত ওই শিশু মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে বরিশাল থেকে ঢাকায় আসে। রাজধানীর কোন এক খাবার হোটেলে কাজ নেন। কিন্তু সেখানে বনিবনা না হওয়ায় কাজ ছেড়ে দেয়। বাড়িতে ফিরে যেতে আসেন কমলাপুর রেলস্টেশনে। তার কাছে কোনো টাকা না থাকায় তীব্র ক্ষুধা লাগলেও কিছু খেতে পারছিল না। এক দিন না খেয়ে থাকার পর রেলস্টেশনেই আল আমিন ও সাদ্দাম নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় শিশুটির। তারা শিশুটিকে খাবার কিনে দেন। নতুন জামা ও স্যান্ডেল কিনে দিয়ে কৌশলে আবাসিক হোটেল আনোয়ারাতে নিয়ে দুই দিন ধরে পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করে শিশুটিকে। পিবিআই তদন্তে নেমে গত শুক্রবার অভিযুক্ত আল আমীন নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয় আল আমীন। অপর আসামি সাদ্দাম এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার আল আমীন পিবিআইকে জানিয়েছে, গত ১২ জুলাই সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে অজ্ঞাতনামা ওই শিশুর সঙ্গে পরিচয় হয় আল আমীন ও সাদ্দামের। শিশুটি তাদের কাছে জানতে চায় বরিশালের ট্রেন কখন ছাড়বে। আল আমিন জানায় বরিশালে ট্রেন যায়না। পরিচয়ের একপর্যায়ে শিশুটি তাদের জানায় সে গত ১ দিন যাবত কিছুই খায় নি। তখন আল-আমিন শিশুটিকে রেলস্টেশনের পাশ থেকে খাবার কিনে দেয় এবং জামা ও জুতা কিনে দেয়। শিশুটিকে সারাদিন তাদের সঙ্গেই রাখে। সন্ধ্যার পরে শিশুটিকে আল-আমিন যাত্রাবাড়ী থানাধীন আনোয়ারা (আবাসিক) হোটেলের ২৬৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে সাদ্দাম হোটেলে যায় এবং দুই জন পালাক্রমে শিশুটির সঙ্গে যৌন সংগম করে। এসময় অসুস্থ হয়ে পরে শিশুটি। পরবর্তীতে গত ১৩ জুলাই সকালে আল আমিন ও সাদ্দাম ফের শিশুটির সঙ্গে যৌন সংগম করতে চাইলে সে তীব্র বাধা দেয় এবং অসুস্থ বলে জানায়। তখন আসামী আল-আমিন ও সাদ্দাম তাকে কোমরের বেল্ট দিয়ে পিটায়, একপর্যায়ে মাথা ও মুখে ঘুষি মারে। শিশুটি কে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পিবিআই ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) এর পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাশবিক নির্যাতন করে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার আল আমীন আদালতে খুনের কথা স্বীকার করেছে।’ তিনি বলেন, হত্যার শিকার শিশুটির পরিচয় আমরা এখনো জানতে পারিনি। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। তবে গ্রেফতার আল আমীন জানিয়েছে, শিশুটির বাড়ি বরিশালে। জানা গেছে, যাত্রাবাড়ী থানায় হওয়া হত্যা মামলাটি গত ১৭ জুলাই পিবিআই এর শিডিউল ভুক্ত হয়। পিবিআই এর এসআই মো. কবির হোসেনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, ভিডিও ফুটেজ ও অজ্ঞাতনামা আসামীর মোবাইল এর প্রযুক্তিগত সহায়তায় আসামীদেরকে সনাক্ত করা হয়। আসামী মো. আল-আমিনকে গাজীপুরের টঙ্গী থানার ষ্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
