ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কুড়িগ্রাম ডিসি পার্কে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Tuesday, 24 June, 2025, 2:23 PM

কুড়িগ্রাম ডিসি পার্কে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ

কুড়িগ্রাম ডিসি পার্কে অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ

কুড়িগ্রামে বিনোদন প্রেমীদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন একটি বিনোদন পার্ক হোক।কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক জনাব নুসরাত সুলতানার ঐকান্তিক  ইচ্ছা ও প্রচেষ্টায় অবেশেষে 'ডিসি পার্ক'- নামে পার্কটির বালু ভরাটের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে জানা গেছে খুব তাড়াতাড়ি অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। 

আজ মঙ্গলবার ২৪ জুন সকালে প্রস্তাবিত ডিসি পার্কে বালু ভরাটের কাজ দেখতে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা পার্কটির কোন জায়গায় কি কি অবকাঠামো নির্মাণ হবে, দেখতে কেমন হবে, স্থানীয় ও ভাসমান ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা তাদের পরবর্তী  ব্যবসা ও ব্যবসায়ী পরিকল্পনা, আশপাশে বসবাসরত লোকজন তাদের ঘরবাড়ির শোভা বর্ধণ কে কিভাবে পরিবর্তন করবেন এ নিয়ে চলছে এক মহা কর্মযজ্ঞ। 

অনেকে জানায়, তারা জেনেছে পার্কটিতে সরকারি ভাবে একটি মোটেল, পিকনিক স্পট, গাড়ি পার্কিং, শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড, খেলার মাঠ, অডিটোরিয়াম, সুমিং পুল, অন্যান্য রাইড, মিউজিয়াম, ওয়াটার থিমপার্ক, রেস্টুরেন্ট, দর্শনীয় লেক, ভাওয়াইয়া কর্নার, কছিমুদ্দিন কর্নার, আব্বাস উদ্দিন কর্নার, ধারলা কর্নার, শাহীদ আবু সাইদ কর্নার, গোলাপ বাগান, বিভিন্ন গাছের বাগান, রেস্ট হাউস, মিনি চিড়িয়াখানা, দোকানঘর, নামাজের জন্য মসজিদসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

খুব শীঘ্রই নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে বলে তারা নির্ভর যোগ্যসূত্রে জানতে পেয়ে বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষে অবকাঠামোর কোথায় কিকি হবে বিস্তারিত না জানালেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উল্লেখিত অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

কুড়িগ্রাম ধরলা ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে প্রস্তাবিত 'ডিসি পার্ক' এলাকার লোকজন এবং আগত বিনোদন প্রেমীরা ইতোমধ্যে উল্লেখিত অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়গুলো জানতে পেয়ে মহাখুশি। 
 
প্রস্তাবিত 'ডিসি পার্ক'- সংলগ্ন চায়ের দোকান্দার সহিদুল, চপ- পিয়াজুর দোকান্দার এরশাদুল, পানের দোকান্দার জাভেদ ও ওহাব মিয়া, কাচামাল ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া এবং ব্রিজ ও নদীরক্ষা বাঁধের ওপর গড়ে ওঠা বিনোদন স্পষ্টে অস্থায়ী ফুচকা ব্যবসায়ী মামুন, চুড়ি - ফিতা ও খেলনা ব্যবসায়ী খোতেজা বেগম ও তার স্বামী সওদাগার দেলদার হোসেন তাদের ব্যবসা এখন বড় হবে ভেবে আশায় বুক বেঁধে আছে। তারা জানান, পার্কটা হলে পার্ককে ঘিরে তাদের ব্যবসা বানিজ্য ভালো চলবে, অনেকে আবার নতুন নতুন ব্যবসা করবে। এতে বিশেষ করে আমাদের এলাকায় বেশকিছু মানুষের কর্মসংস্থানও বেড়ে যাবে, অভাব কমে যাবে।

সওদাগর দেলদার হোসেন বলেন, হামরা শুনব্যার নাগছি পার্কের নাম নিয়া কেনটেয় কাই বলে ভেজাল বাজাইছে তার জন্যে শেষম্যাষ পার্ক বলে হবার নোয়ায়। কাই তাই, ধরি আনি হামার হাতোত দেন না ক্যা। দেখমো এ্যালা ওই কাই এমপি মন্ত্রী হইছে। কুড়িগ্রামোত কতো এমপি মন্ত্রী দেখলোং টেন্ডারবাজি, দলবাজি আর মারামারি ছাড়া কুড়িগ্রামের উন্নয়ন কাইও করে নাই। কুড়িগ্রামের ডিসি স্যার পার্ক বানবার চাইছে বানাউক নাম দিয়া হামরা কি করমো।

প্রস্তাবিত ডিসি পার্কে ঘুরতে আসা নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক, জনৈক আইনজীবী বলেন, এখন সবাই ফেইসবুক ব্যবহার করছে। এদের মধ্যে অনেকেই মূর্খ, অর্ধ শিক্ষিত, অবুঝ অনেক কামলা- কিস্যান, দিনমজুর এবং উদ্ভট কিছু যুবক এবং একইসাথে শিক্ষিত- অশিক্ষিত কিছু বেকুব যারা কুড়িগ্রাম উন্নয়নে সে কিংবা তার বাপদাদারা কখনো একটি কলা গাছও  লাগায়নি তারাই এখন নামকরণ নিয়ে বেশিবেশি লাফাচ্ছে- বিতর্ক করছে। 

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাদের নামকরণ মূখ্য বিষয় নয়। তারা এতোই সুচতুর যে, নামকরণের বিষয়টি কীভাবে ঘোলাটে করে জেলা প্রশাসকের আস্থাভাজন কিংবা কাছাকাছি হওয়া যায়, আর হতে পারলে সারাদিন জেলা প্রশাসকের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থেকে কখনো তৈল মর্দন, কখনো তেলবাজি, কখনো ধান্ধাবাজি করে ফায়দা হাসিল করবে সেই অপচেষ্টায়  লিপ্ত রয়েছে। 

তিনি এও বলেন, সময় পরিবর্তন হয়েছে, ওই সমস্ত তেলবাজরা ফেইসবুকে কি লিখলো না লিখলো, কে কোন ভুয়া জরিপ চালালো সেদিকে নজর না দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে তার পরিকল্পনা মাফিক কুড়িগ্রাম উন্নয়নে যা-যা করা দরকার সেটি করলে কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষ তাকে আজীবন মনে রাখবে।

আইনজীবীর সাথে ঘুরতে আসা শহরের পরিচিত মুখ চৌধুরী পাড়ার হাবিবুর রহমান টিটু মিয়া বলেন, কুড়িগ্রামে কিছু আজগুবি সূধি ও সুশীল আছে এরা আরও বেশি ভয়ঙ্কর। বিগত সময়ে দেখা গেছে ওরা নেক্কারজনক ভাবে দালালী করেতে গিয়ে কুড়িগ্রামের উন্নয়নে নিজেরাও কোন অবদান রাখতে পারেনি, কেউ অবদান রাখতে চাইলে দলবলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে অবদানকারির স্বাভাবিক চলাফেরাকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এরা মূলতঃ কিছুই পারে না।

বিগতদিন গুলিতে দেখেছি ওরা শুধু সরকারি কোন আপ্যায়নে, কোন অনুষ্ঠানে চেয়ার দখল করে বসে থাকতে। অন্যায় কাজে এদের কোন প্রতিবাদ করতে দেখিনি, উন্নয়ন কাজেও এদের সহযোগিতা করতে দেখা যায়নি। তিনি উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি কুড়িগ্রাম ডায়াবেটিক হাসপাতালের নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও শুধু জায়গার দখল দেখাতে না পারায় ১০ তলা ভবনের কাজ করা সম্ভব হয়নি। 

এধরণের আরও একটি উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কথিত আছে এর আগে কুড়িগ্রাম শহর থেকে ধরলা ব্রিজ হয়ে শুল্কুর বাজার থেকে রৌমারী যাওয়ার জন্য তৎকালীন এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জার রহমান একটি পাকা সড়ক নির্মাণে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন টাকার বাজেট নিয়ে এসেছিলেন। 

বিষয়টি সে সময় প্রকাশ পাওয়ায় ওইসময়ে ওই সমস্ত তেলবাজ, ধান্ধাবাজ সূধি- সুশীল নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে কখনো নিজ নামে, কখনো সংগঠনের নামে, কখনো সমিতির নামে চাঁদাদাবি করায় তিনি অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত কুড়িগ্রাম - ৪ আসনের এমপি জাকির হোসেনের সরানাপন্ন হন। জাকির হোসেন সড়কটির নির্মাণ কাজ তার নিজ স্বার্থে চিলমারী হয়ে রৌমারী করার আগ্রহ প্রকাশ করায় সড়কটি আর নির্মিত হয়নি। পরে বাজেটের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত গেছে। 

কুড়িগ্রাম ডিসি পার্ক নির্মাণে জেলা প্রশাসকের সাহসী উদ্যোগে ওই সমস্ত ঘিলু বিহীন বিতর্ককারি ফেইসবুক যোদ্ধা, চাদাবাজ, তেলবাজ নামধারী সুধি ও সুশীলদের জন্য আমাদের কাঙ্খিত পার্কটির নির্মাণ কাজ যাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে সেদিকটি খেয়াল রাখার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জোর দাবী জানান এবং একই সাথে জেলার উন্নয়ন কাজে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে এবং সাধারণ মানুষের নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন জেলার উন্নয়ন কাজে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাতে না পারে সেটি কঠোর হস্তে দমন করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নেয়ারও দাবী করেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status