|
৪১ বা ৪২ কেজিতে মণ!“ঢলতা” র নামে চলন বিলাঞ্চলের ধান কিনতে ব্যবসায়ীরা যা করছেনৃ
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ
|
![]() ৪১ বা ৪২ কেজিতে মণ!“ঢলতা” র নামে চলন বিলাঞ্চলের ধান কিনতে ব্যবসায়ীরা যা করছেনৃ মুলতঃ ধান ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ “ঢলতা” প্রথা চলনবিলাঞ্চলের ধানের হাট- বাজারে তাদের নিয়মে পরিনত করেছেন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলনবিলাঞ্চলে গত প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর যাবত হাজার হাজার কৃষকদের কাছ থেকে “ঢলতা”র নামে প্রচলিত ৪০ কেজির স্থলে ৪১ বা ৪২ কেজি ধান অন্যায় ভাবে নিয়ে ঠকিয়ে এ ভাবে ধান কিনছেন। যা দেখার কেউ নেই। পাশাপাশি তাড়াশের মাঝিড়া গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ধানের হাটে বা কৃষকের উঠানে, বাড়ির গোলা থেকে ধান বিক্রি কালে ধান ব্যবসায়ী মহাজন, ফরিয়া সিনিডকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন নিরিহ সাধারণ কৃষকেরা। এ “ঢলতা” প্রথা থেকে পরিত্রানের উপায়ও খুঁজে পাচ্ছেনা হাজার হাজার ভুক্তভোগি কৃষক। তাদের দাবী প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে ধান ব্যবসায়ীদের ধান পরিমাপ কালে “ঢলত”র নামে বস্তার ওজন বাদেও প্রতিমণে ১ থেকে ২ কেজি বেশি নেওয়া বন্ধ করা হোক। সম্মনিত কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের ১০ টি উপজেলায় প্রতি বছর প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে নানা জাতের বোরো ও বোরো আবাদ তুলে আউস, বোনা, ও রোপা আমন ধানের আবাদ করেন কৃষকেরা। তাঁরা উৎপাদিত ধানের কিছু অংশ নিজেদের খাবারে জন্য রেখে নিজেদের প্রয়োজনে অবশিষ্ট ধান বছরের বিভিন্ন সময়ে হাট- বাজারে বা বাড়ি থেকে বিক্রি করে সংসার চালিয়ে থাকেন। কিন্তু চলনবিলের প্রসিদ্ধ হাট বাজার, বা কৃষকের উঠানে, বাড়ির গোলা থেকে ধান বিক্রি কালে ধান ব্যবসায়ী মহাজন, ফরিয়াদের লোভের শিকার হচ্ছেন। যেমন- গুরুদাসপুরের বামণখোলা এলাকার কৃষক নুরুজ্জামান জানান, গত প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর যাবত চলনবিলের ৪০ থেকে ৪৫ টি প্রসিদ্ধ ধানের হাট, বিভিন্ন বাজারে ধানের আড়ত বা কৃষকের বাড়ি থেকে ধান কিনতে সকল পর্য্যায়ের ধান ক্রেতা মহাজন, মাঝারী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফরিয়ারা “ঢলতা”র নামে প্রচলিত ৪০ কেজির স্থলে ৪১ বা ৪২ কেজিতে একমণ ধান ধরছেন। যা ৪- ৫ বছর ফ’র্বে ছিলনা। আর এটা ধান ব্যবসায়ীদের অষ্যায় ভাবে কৃষক ঠকানোর কৌশল। এতে করে কৃষকের উৎপাদিত ব্যয় বহুল এবং কষ্টার্জিত ধান বিক্রির সময় হাজার হাজার এ সকল অসাধূ ধান ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এমনকি কোন কৃষক ৪১ বা ৪২ কেজিতে এক মণ ধরে ধান বিক্রি করতে না চাইলে সকল স্তরের ধান ব্যবসায়ীরা ওই কৃষকের ধান কিনছেনই না। এ ভাবে চলনবিরৈর হাট- বাজারে ধান ব্যবসায়ীদের একটি শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন, চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল এলাকার কৃষক খন্দকার ইলিয়াস হোসেন। অবশ্য, তাড়াশের নওগাঁ হাটে ধান কিনতে আসা পাবনার দাশুড়িয়া এলাকার মহাজন ফিরোজ হোসেন বলেন, ধান, রশুণ, পেয়াজ, আম, মাছ সহ অনেক কৃষিজ পণ্য কেনা বেচায় “ঢলতা” প্রথায় বিক্রি হয়। ধান এর বাহিরে নয়। সেই সাথে সকল প্রকার ধান কেনার পর মহাজনদের রোদে শুকাতে হয়। ধান শুকানোর পর মণে এক বা অর্ধ কেজি কমে যায়। তাই ধান ব্যবসায়ীদের পুঁজি রক্ষায় মণে ১ বা ২ কেজি “ঢলতা” নেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, চলনবিল একটি বৃহত এলাকা। এ অঞ্চলে প্রচুর বোরো, রোপা, বোনা আমন ধান উৎপাদন হয়। যে ধান বিক্রি কালে “ঢলতা”র নামে বস্তার ওজন বাদেও ১ বা ২ কেজি বেশি নেওয়া অপরাধ। এটা বন্ধে আমি আমার উর্ধ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলব। পাশাপাশি আইনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট খাতে অপার সম্ভবনাময় অতিথি গ্রুপ
কুড়িগ্রামে অতি উচ্চমাত্রার ক্রিস্টাল মেথ আইস মাদকসহ ১ ব্যক্তি আটক
পাইকগাছায় বিএনপির বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পে সেবা নিলেন ৩ হাজার, ৫ শতাধিক রুগীর ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা
কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, এ অঞ্চলে সর্বাধিক বরাদ্দ দেয়ার অঙ্গিকার
