ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রকৃতি কন্যার গ্রীষ্মকালীন রূপ: বাকৃবির মনোমুগ্ধকর ক্যাম্পাস
তাসনীম সিদ্দিকা
প্রকাশ: Friday, 30 May, 2025, 8:23 PM

প্রকৃতি কন্যার গ্রীষ্মকালীন রূপ: বাকৃবির মনোমুগ্ধকর ক্যাম্পাস

প্রকৃতি কন্যার গ্রীষ্মকালীন রূপ: বাকৃবির মনোমুগ্ধকর ক্যাম্পাস

ঋতুচক্রের আবর্তনে এখন গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে যখন জনজীবন ও প্রকৃতি উভয়েই ক্লান্ত এবং অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই 'প্রকৃতি কন্যা' নামে খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) তার অপরূপ সৌন্দর্যের মহিমা নিয়ে মানুষের মন ও চক্ষুকে শীতলতা দান করে। কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা, সোনালুর ঝলমলে হলুদ আর জারুলের স্নিগ্ধ বেগুনি রঙে চারিদিক যেন এক বর্ণিল উৎসবে সেজে ওঠে। আরও হরেক বাহারি ফুলের সমারোহে বাকৃবির ক্যাম্পাস এই গ্রীষ্মের রুক্ষতাকে ছাপিয়ে এক মনোমুগ্ধকর রূপে মহিমান্বিত হয়ে ওঠে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য আশ্রয়স্থল।


বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গা যেমন পশুপালন অনুষদ,ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, বোটানিক্যাল গার্ডেন ।আর যেটি না বললেই নয় কৃষ্ণচূড়া রোড এক বিশেষ আকর্ষণ। গ্রীষ্মকালে এই রাস্তার দু'পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাল ফুলে ভরে ওঠে, যা এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের সৃষ্টি করে। যখন এই ফুলগুলো ঝরে মাটিতে পড়ে, তখন মনে হয় যেন একটি প্রাকৃতিক লাল গালিচা বিছানো হয়েছে, যা পথচারীদের মুগ্ধ করে তোলে। এই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে মাঝে মাঝে পথশিশুদেরও দেখা যায়, যারা লাল গালিচার উপর খেলা করে অথবা উৎসুক চোখে আসা-যাওয়া করা মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের এই প্রাণোচ্ছল হাসি দেখে মনে হয় যেন এই রঙিন গালিচা তাদের জীবনের নির্মমতা থেকে ক্ষণিকের আশ্রয়স্থল।

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেগুনি জারুল ফুল এবং হলদে রঙের সোনালু যেন সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নদীর কূল ছুঁয়ে বয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ বাতাস আর বেগুনি জারুল ফুলের কোমলতা যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর হৃদয়ে এক গভীর মুগ্ধতার রেশ ফেলে রাখে। জারুল যেন গ্রীষ্মের রুক্ষতা ভুলিয়ে দিয়ে, চোখের সামনে মেলে ধরে এক স্নিগ্ধ, বেগুনি মায়াজাল।

নীল আকাশের বিশাল ক্যানভাসে সোনালু ফুল যেন স্বর্ণের গয়নার মতোই ঝলমল করছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, গাছের ডালে ডালে অজস্র থোকায় ঝুলে থাকা এই হলুদ ফুলগুলো দিয়ে আকাশ নিজেই নিজেকে সোনার অলঙ্কারে সাজিয়ে তুলেছে। প্রতিটি ফুল যেন এক একটি ছোট প্রদীপ, যা একত্রিত হয়ে প্রকৃতির এই অপূর্ব সৃষ্টিকে আরও উজ্জ্বল ও মোহনীয় করে তুলেছে।পশুপালন অনুষদের সামনে, ব্রক্ষ্মপুত্র নদ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় দেখা যায় এই সোনালু গাছ। 
 
এই সুন্দর মুহূর্তটিকে স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে অনেককে ছবি তুলতে দেখা যায়। এক বিকেলে সহপাঠীদের সাথে নিয়ে ছবি তোলার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী নাসরিন জাহান বলেন, 'সারাদিন একঘেয়ে ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য দেখে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। এই গাছগুলো যেমন মনে প্রশান্তি দেয়, তেমনি এই তীব্র গরমেও পরিবেশ শীতল রাখতে সাহায্য করে। ক্যাম্পাসে আরও গাছ লাগানো উচিত।'

ক্যাম্পাসের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের আনাগোনা দেখা যায়।ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, 'পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। ক্যাম্পাসে এসে অনেক ভালো লাগছে।বাচ্চারা এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ভীষণ উপভোগ করছে।'

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status