|
এসআই লিয়াকত আলী
মেজর সিনহাকে ৩ রাউন্ড গুলি করে হত্যা, ওসি প্রদীপের ন্যায় বিচার দাবি স্বজনদের
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মেজর সিনহাকে ৩ রাউন্ড গুলি করে হত্যা, ওসি প্রদীপের ন্যায় বিচার দাবি স্বজনদের ![]() মেজর সিনহাকে ৩ রাউন্ড গুলি করে হত্যা, ওসি প্রদীপের ন্যায় বিচার দাবি স্বজনদের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে থেকে ডাকাত সন্দেহ অবহিত হয়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই লিয়াকত আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত ৯টার দিকে শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে মেজর সিনহা মো. রাশেদ খাঁনের গাড়ি থামান। মেজর সিনহা পরিচয় দিলে প্রথমেত তাকে যাওয়ার সংকেত দেয়। কিন্তু আবারও পিস্তল তাক করে তাকে থামিয়ে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। এসময় সিনহা ও তার সঙ্গেী শিফাত হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নামেন। শিফাত গাড়ির পিছনের দিকে চলে যান। কিন্তু এসআই লিয়াকত কোনো কথা না বলেই সিনহাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করেন। এরপর সিনহা ও শিফাতকে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনার সময় খবর পেয়ে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ভিডিও ধারণ করলে পরিচয় জেনেও তার পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন লিয়াকত। এসময় ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিনহাকে জীবিত দেখতে পান। পৌনে ১০টার দিকে একটি মিনি ট্রাকে করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেও সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট দেরি করে একঘন্টা ৪৫ মিনিট পরে পৌছানো হয়। কতর্ব্যরত চিকিৎসক সিনহাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একজন সামরিক পোষাকধারী কর্মকর্তাকে পরিচয় দেওয়ার পরে কোনোরূপ বিবেচনা ছাড়াই এসআই লিয়াকত গুলি ছুড়ে, যা সামরিক বাহিনীর প্রতি গভীর অশ্রদ্ধা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। লিয়াকত মাদকাাশক্ত অবস্থায় এ ঘটনা ঘটাতে পারেন। পাশাপাশি একজন ব্যক্তি হাত উঁচু করার পরে তাকে আটক না করে সরাসরি গুলি করা আইন বহি:ভৃত। মৃত্যু নিশ্চিত করে সিনহার মরদেহ হাসপাতালে নেওয়াা একটি পৈশাচিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। টেকনাফে মাদক নির্মূলের নামে পুলিশ সদস্যদের মাঝে একটি হত্যার প্রতিযোগিতা চলমান, যা অনেক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। পাশাপাশি মেজর সিনহা অবসরে যাওয়ার পরেও হাইকিংয়ের উদ্দেশ্যে সামরিক পোশাক পরা আইন বহির্ভূত। এ ঘটনায় যথাযথ তদন্ত করে এসআই লিয়াকত ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই লিয়াকত আলী সঙ্গীয় ফোস নিয়ে তিন রাউন্ড গুলি করে মেজর সিনহা মো. রাশেদ খাঁনকে হত্যা করেছেন বলে ঘটনার পর করা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওসি প্রদীপ দাশের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ষড়স্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও এলাকার লোকজন। তারা বলছেন, ন্যায় বিচার থেকে প্রদীপ বঞ্চিত হচ্ছেন। হত্যকাণ্ডের সঙ্গে প্রদীপ দাশ জড়িত নয় দাবি করে স্বজনরা আদালত ও সরকারের কাছে তার ন্যায় বিচারের আবেদন জানিয়েছেন। ডকুমেন্টারী ট্রাভেল ফিল্মের শ্যুটিং শেষে রিসোর্টে ফেরার পথে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত ৯টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খাঁন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ভ্রমণ বিষয়ক এই প্রামাণ্যচিত্র তৈরির জন্য তিনি একটি বেসরকারি বিশ্বদ্যিালয়ের তিন শিক্ষার্থীসহযোগীকে নিয়ে ৩ জুলাই কক্সবাজারে গিয়ে একটি রিসোর্টে উঠেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড সেসময় দেশজুড়ে আলোড়ন তুলে। এসময় সিনহার তিন সহযোগীকেও আটক করেছিলো পুলিশ। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ বাহিনী। এঘটনায় একটি হত্যা মামলাসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করে। চারটি মামলার দুটি মাদক রাখার অভিযোগে এবং একটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে। আর ৫ আগস্ট টেকনাফ বিচারিক আদালতে হত্যা মামলাটি করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এ মামলায় বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের এসআই লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে আসামি করা হয়। চারটি মামলারই তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। পরে র্যাব এ ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ১২ জন পুলিশ সদস্য ও ৩ জন গ্রামবাসী। পুলিশের করা তিনটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় র্যাব। আর হত্যা মামলায় তড়িঘড়ি করে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে কক্সবাজার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এই হত্যা মামলার রায়ে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজারের আদালত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও এসআই লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় দিয়েছে। এছাড়া এই মামলায় আরও ৬ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত ৭ আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ। আদালত মৃত্যুদন্ড ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামীদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ডও দিয়েছেন। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন এপিবিএনের এসআই শাহজাহান আলী, কনস্টেবল মো. রাজীব, মো. আব্দুল্লাহ, পুলিশের কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, লিটন মিয়া ও পুলিশের কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
