|
ভারতের হায়দরাবাদে 'করাচি বেকারি'তে কারা ভাঙচুর করল?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ভারতের হায়দরাবাদে 'করাচি বেকারি'তে কারা ভাঙচুর করল? সামাজিক মাধ্যমে ওই ভাঙচুরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে যে ১০-১৫ জন লোক গেরুয়া পতাকা নিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে দোকানটিতে। বিশেষ করে 'করাচি বেকারি' নাম লেখা সাইনবোর্ড ভাঙতে দেখা যায় তাদের। এদের 'ভারত মাতার জয়' স্লোগান দিতেও শোনা যায়। শামশাবাদ বিমানবন্দর থানার ইন্সপেক্টর কে বালারাজু বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, "ঘটনাটি শনিবার ১০ই মের। বিজেপির কর্মীরা ওই ভাঙচুর চালিয়েছেন।" তবে তেলেঙ্গানা রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র পি কিশোর রেড্ডি বলছেন, কোনও ভুল বোঝাবুঝির জন্য এটা হয়েছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। পুলিশ বলছে ভাঙচুরের জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেউ আহত হয় নি, আবার কাউকে গ্রেফতারও করা হয় নি। তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী হায়দরাবাদে করাচি বেকারির মূল দোকানে এই প্রথম ভাঙচুর চালানো হল এমনটা নয়। এর আগে পুলওয়ামায় হামলার সময়ও একবার হায়দরাবাদের করাচি বেকারির সামনে কিছু মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং সাইনবোর্ড ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মধ্যে আবারও সে ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে করাচি বেকারির বিভিন্ন শাখার সামনে। গত পাঁচই মে বিশাখাপত্তনমের করাচি বেকারিতে বিক্ষোভ দেখায় জন জাগরণ সমিতি নামে একটি সংগঠন। সংগঠনের দাবি, "নাম পরিবর্তন না হলে করাচি বেকারির মালিকদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হোক।" এ ছাড়া ১০ দিনের মধ্যে করাচি বেকারি দোকানগুলোর নাম পরিবর্তন না করলে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। ভারতীয় সংস্থা 'করাচি বেকারি' বেকারির মালিকরা ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পরে বেকারির নামকরণ নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছিলেন। "করাচি বেকারি" শুরু করেছিলেন খানচাঁদ রমনানি, যিনি দেশভাগের সময়ে ভারতে চলে আসেন। এই নাম দিয়ে ১৯৫৩ সালে ব্যবসা শুরু করেন তারা এবং হায়দরাবাদ ভিত্তিক একটি ভারতীয় সংস্থা এটি। এই নামের জনপ্রিয়তা পরে সারা দেশ ও বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে," বিবৃতিতে জানিয়েছিল সংস্থাটি। সেখানে লাল রঙ দিয়ে লেখা হয়েছিল, "করাচি বেকারি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয়। আমাদের অনুরোধ কেউ যেন ভুল বুঝবেন না।" দেশভাগের পরে পাকিস্তান থেকে বড় সংখ্যায় সিন্ধি হিন্দুরা ভারতে চলে এসে নানা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। এরা বেশিরভাগই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। করাচি বেকারির প্রতিষ্ঠাতাও সেভাবেই হায়দরাবাদে এসে নিজের বেকারি খুলেছিলেন। মালিকের জন্ম হয় করাচিতে মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার মতো কিছু সংগঠনও 'করাচি' নামটির বিরোধিতা করেছিল। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় 'করাচি বেকারি'র যে দোকানটি ২০২১ সালে করোনার জন্য যখন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল, তখন এরকম একটা খবর রটেছিল যে নামের কারণেই দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও করাচি বেকারির তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছিল। সেখানে লেখা হয়েছিল, 'করাচি' শব্দটি কেবল আমাদের জন্মস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় সংস্থা।" সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যে বেকারির তরফে আবারও একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সংস্থার বর্তমান মালিক রাজেশ রামনানি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা আটই মে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, "আমরা তেলেঙ্গানা পুলিশ এবং সরকারকে অনুরোধ করছি এই নাম অক্ষুণ্ণ রাখতে আমাদের সহযোগিতা করুন। "আমার দাদু এই বেকারি শুরু করেছিলেন। তিনি পাকিস্তান থেকে সেই ভালবাসা থেকেই সংস্থার সৃষ্টি। আমরা পুরোপুরি ভারতীয়," জানিয়েছেন মি. রামনানি। তবে এই বিতর্কের মাঝেও করাচি বেকারি সামাজিক মাধ্যমে অনেক মানুষের সমর্থন পাচ্ছে। কী বললেন বিজেপি নেতা? তেলেঙ্গানা বিজেপির মুখপাত্র পোরেড্ডি কিশোর রেড্ডি বিবিসিকে বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, "নিশ্চয়ই কেউ অজ্ঞতা থেকে এ কাজ করেছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। হামলাকারী কারা সেটাও জানা যায়নি। কারও মনে এরকম একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে করাচি মানেই পাকিস্তান। তাদের আবেগ জেগে উঠেছে এবং কিছু অজ্ঞ মানুষ খেপে গেছেন।" "কিছু মানুষ এই ধরনের আবেগ ব্যবহার করছে। এ ধরনের কাজ সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। আমরা নিন্দা জানাই। করাচি বেকারিটি হায়দরাবাদের এবং সিন্ধিদের মালিকানাধীন। যারা ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা আসলে বিজেপির লোক কি না, সেটা এখনও জানা যায় নি," বলছিলেন মি. রেড্ডি।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
