|
আলু সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষক
দীপক সরকার, বগুড়া
|
![]() আলু সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষক কৃষি বিভাগ বলছে, এবছর অধিক সংখ্যক জমিতে আলু চাষ করেছেন বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষক। পাশাপাশি ফলনও হয়েছে বাম্পার। এত বেশী পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষককে। তবে হিমাগারের বাহিরেও কৃষি বিভাগীয় প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কৃষকের দুই হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করতে পেরেছে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, স্থানীয় এবং উচ্চ ফলনশীল মিলে ৪৮টি জাতের আলুর আবাদ হয় বগুড়ায়। এর মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে এস্টারিক্স (স্থানীয়ভাবে স্টিক নামে পরিচিত) নামে উচ্চফলনশীল জাতের আলু। চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৫ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৯১০ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে আবাদ হয়েছে ৬০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার ১৭৫ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদি জমি ও ফলন দুটিই বেড়েছে। গত বছর হেক্টর প্রতি ২১ দশমিক ৬ টন আলু উৎপাদন হলেও এবার ২৩ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। ![]() আলু সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষক শিবগঞ্জ উপজেলার অনন্তবালা গ্রামের কৃষক সেলিম উদ্দিন বলেন,দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করে এবার তার লোকসান হয়েছে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা। কৃষি বিভাগের মতে বগুড়া জেলার সাড়ে ৩৭ লক্ষ জনসংখ্যার জন্য বছরে আলুর চাহিদা রযেছে ৩ লাখ মেট্রিক টন। আর জেলার ৪২ টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা যায় ৪ লাখ মেট্রিক টন। ফলন ভাল হওয়ায় দুই বিঘা জমিতে ৮৫ মণ আলু পেয়েছেন। ভাল দাম না পাওয়ায় এখনও তার বাড়িতে ৫০ মণ আলু রয়েছে। সংরক্ষণের অভাবে সেই আলুতে পচন ধরতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, গ্রামের প্রতিটি কৃষকের ঘরে আলু অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এবার এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৪ থেকে ১৬ টাকা। এসব আলু এবার জমিতে বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে। হিমাগার খরচ বৃদ্ধি হওয়ার কারণে অনেকে কৃষক আলু সংরক্ষণের আগ্রহ হারিয়েছেন। অনেকে আবার হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সুযোগই পাননি। বগুড়া সদরের ঘোলাগাড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, মৌসুমের শুরুতে দাম ভাল পাওয়া গেলেও এখন আলু বিক্রি করে লেকসান হচ্ছে। তিনি বলেন সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাকড়ি জাতের আলু উৎপাদন হয়েছে ২০০ মণ। আলুর চাহিদা এতটাই কম যে, গরিব মানুষকে বিনামূল্যে দিলেও তা নিচ্ছে না। তাইতো ভাল দামে বিক্রি করতে না পারায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। কৃষকেরা বলছেন, এবার মাঠ থেকেই বেশির ভাগ আলু মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে হিমাগারে মজুত করেন। ফলে প্রকৃত চাষীদের আলু রাখার জন্য জায়গা হয়নি হিমাগারে। ফলে বাধ্য হয়ে চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে বাড়িতেই আলু সংরক্ষণ করছেন। ![]() আলু সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে বগুড়া ও জয়পুরহাটের কৃষক হিমাগার মালিকরা জানান, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলায় ৫৫টি হিমাগার রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টন। এ দুই জেলায় এবার আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২১ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টন (২১৩ কোটি ১৫ লাখ কেজি)। এ নিয়ে জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, “এ বছর ৪৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর বেশি। আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার টন। জেলায় মোট ২০টি হিমাগারে দুই লাখ টন আলু সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এ বছর আলু উৎপাদনের পরিমান বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।” তিনি আরো বলেন, “একই কারণে অধিক পরিমান আলু বাজারে সরবরাহ হওয়া কৃষক দাম কিছুটা কম পেয়েছে বলে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” এছাড়া অন্তত তিনমাস পর্যন্ত ঘরেই আলু সংরক্ষণের কৌশল কৃষকদের শেখানো হয়েছে বলেও জানান কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মোঃ সামছুদ্দিন ফিরোজ বলেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলে আলুর ফলন বেশি হয়েছে। এছাড়াও আলু চাষও হয়েছে অনেক বেশি জমিতে। যার ফলে বাজারে আলুর দাম তুলনামূলক কম। এত বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করতে কৃষকের পাশাপাশি কৃষি বিভাগও হিমশিম খাচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
