|
এআই সঙ্গীর দিকে ঝুঁকছেন আফগান নারীরা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() এআই সঙ্গীর দিকে ঝুঁকছেন আফগান নারীরা প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আফগান নারীরা এখন বন্ধুত্বের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে নারীদের ওপর একের পর এক দমনমূলক নীতি আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। এরপরই কেউ কেউ এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। গড়ে উঠছে এআইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৮ বছর বয়সী লিমা বিবিসি-কে জানিয়েছেন, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বই পড়ি বা এআই-এর সঙ্গে কথা বলি—নিজেকে প্রকাশ করার জন্য, কথা বলার জন্য, প্রশ্ন করার জন্য বা শুধুই একজন বন্ধুর মতো আচরণ করার জন্য।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এই এআই অ্যাপে আসার প্রিয় তারকার মতো চরিত্র তৈরি হয়। আমি বিশ্বের যে কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে পারি, যা খুশি বলতে পারি। নিজেকে মিথ্যা আশাও দিতে পারি এবং তাদের বন্ধু বা পরিবারের মতো মনে করতে পারি।’ এআই ছাড়াও লিমা স্বস্তি খুঁজে পান সংগীতে। তার পছন্দের শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন বিলি আইলিশ, বিটিএস, টামিনো, লানা ডেল রে, লেডি গাগা, শন মেন্ডেস ও চার্লি পুথ। তিনি বলেন, ‘আমি সারাদিন গান শুনি, আর রাতে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে থাকি।’ তালেবানের শাসনামলে নারীদের শিক্ষা, কাজ এবং স্বাধীন চলাফেরার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে মেয়েরা ষষ্ঠ শ্রেণির পর আর পড়াশোনা করতে পারে না। নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন না, এমনকি ধাত্রীবিদ্যা শেখারও অনুমতি নেই। তাদের কর্মসংস্থানেরও কোনো সুযোগ নেই। এ ছাড়া নারীদের পারলার বা জিমে যাওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই দমননীতি থেকে বাঁচতে অনেকেই ভার্চুয়াল জগতে আশ্রয় নিচ্ছেন, যা প্রযুক্তির এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে বিবিসি আফগানিস্তানে ১২ জন নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তালেবান শাসনের মধ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে জারিনা নামে এক মনোবিজ্ঞানী জানান, ২০২১ সালে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি হঠাৎ করেই বদলে যায়। এটি অনেকের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক নারীর পরিস্থিতি আলাদা। একেকজন একেক রকম পরিবেশ ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কেউ তাদের কাছের মানুষকে হারিয়েছেন, কেউ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন, স্কুলছাত্রীরা শিক্ষার সুযোগ হারিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে যেতে দেখেছেন।’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
