|
৪ বছর পর মিলি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ৪ বছর পর মিলি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন প্রায় সাড়ে চার বছর পর বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত শেষে নিহতের স্বামী-ছেলেসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল আমলি আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন। আসামিরা হলেন—নিহত মিলির স্বামী সমির কুমার রায়, ছেলে রাহুল রায়, সমিরের ভাইয়ের ছেলে স্বপন কুমার রায় ওরফে মানিক ও মিলির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ানো জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোহাগ। সিআইডির ঠাকুরগাঁও জেলার সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান স্কুলশিক্ষিকা মিলি চক্রবর্তী। তারা দুজনে মোবাইলে ফেসবুকের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করতেন। আর মিলির ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড তার ছেলে রাহুল রায় জানতেন। তাতে রাহুল রায় তার মায়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পরকীয়ার বিষয়টি জানতে পারেন ও ম্যাসেঞ্জারে তাদের বার্তা, ছবিসহ ভিডিও দেখে ফেলেন। পরে এ বিষয়টি তার স্বামীও জেনে যান। ঘটনার দিন (২০২১ সালের ৮ জুলাই) মিলির সঙ্গে তাদের তর্ক হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও বুকে আঘাত করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর রাত ৩টার দিকে মিলিকে ঘর থেকে বের করে বাইরে নিয়ে যান তারা। পথে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী জিজ্ঞাসা করলে স্বামী ও ছেলে বলেন, অসুস্থ হওয়ায় মিলিকে তারা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তাকে হাসপাতালে না নিয়ে সমির, স্বপন কুমার রায়, রাহুল রায় পরামর্শ করে বাড়ির পাশের একটি গলিতে কেরোসিন ঢেলে মিলির শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত্যুর পূর্বে মিলিকে মাথায় ও বুকে আঘাত করা হয় পরে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যা করা হয়। এএসপি সুমিত চৌধুরী আরও জানান, ২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে হত্যাকারীরা এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়েছিলেন তাই প্রতিবেদন দাখিল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবে ৫ আগস্টের পর মামলার তদন্তে কোনো রকম প্রভাব ছিল না। এটা তো কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়। এটা পারিবারিক ও ব্যক্তিগত একটি বিষয়। আমিনুল ইসলাম সোহাগ যে দল-ই করুক সেটি বিষয় না। এটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমিনুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড। পরিবার বাদী না হওয়ার বিষয়ে এএসপি জানান, হত্যার ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পরে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল মিলির পরিবার। তাই বার বার পুলিশের অনুরোধের পরেও তারা কোনো মামলা করতে রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তভার সিআইডি কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের হাতে যায়। সে সময় ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনের দ্বারপ্রান্তে ছিল সিআইডি। তবে তৎকালীন সরকার দলীয় এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের চাপে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে মামলার দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। এ মামলায় মিলির স্বামী সমির কুমার রায় ও সমিরের ভাতিজা স্বপন কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ছেলে রাহুল রায় ও আমিনুল ইসলাম সোহাগ বর্তমানে জামিনে আছেন। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৮ জুলাই শহরের মোহাম্মদ আলী সড়কে নিজ বাসার পাশে থেকে সান্ত্বনা রায় মিলি চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এর দুই দিন পর ১০ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে আরও উন্নত তদন্তের স্বার্থে ২০২১ সালের ৫ আগস্ট মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
