ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬ ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় পরিবর্তন, কী লাভ অর্থনীতি ও গ্রাহকের?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 30 January, 2025, 1:36 PM

সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় পরিবর্তন, কী লাভ অর্থনীতি ও গ্রাহকের?

সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় পরিবর্তন, কী লাভ অর্থনীতি ও গ্রাহকের?

নতুন বছরের শুরুতেই সঞ্চয়পত্রের জন্য নতুন মুনাফার হার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ গত ১৫ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সব ধরণের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বাড়ানো হয়েছে যার কোনোটিতেই সুদের হার ১২ শতাংশের কম নয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ছয় মাস পর সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার পুনরায় নির্ধারণ করা হবে।

এর মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের সুদ হার ‘বাজারভিত্তিক’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সঞ্চয় অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের জন্য দুটি পরিসীমা বা স্তরে বিভাজন করা হয়েছে। সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রথম স্তর, সাত লাখের ওপরে দ্বিতীয় স্তর। সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগকারীরা যে হারে সুদ পাবেন, এর চেয়ে বেশি অংকের বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবেন তার চেয়ে কিছুটা কম হারে।

কী লাভ হয়েছে গ্রাহকের?

নিয়মিত ও ঝুঁকিহীন আয়ের মাধ্যম হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বিনিয়োগের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পরিণত হয়েছে সঞ্চয়পত্র। লাখ-লাখ পরিবার রয়েছে যারা সঞ্চয়পত্রের অর্জিত মুনাফা দিয়ে 

তবে বিগত বছরগুলোয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে সরকার নানা ধরনের নিয়মকানুন আরোপ করে। ২০২১ সালে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমিয়ে দিলে অনেকেই এতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারান। এর ফলে মানুষ সঞ্চয়পত্রের বদলে শেয়ার বাজার বা অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করবে, ২০২২ সালে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার।

এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ। ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সঞ্চয়পত্র ভেঙে ফেলার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, সুদের হার কমে যাওয়ায় লোকজন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। জনসাধারণ সঞ্চয়পত্রের প্রতি আকৃষ্ট হতো না। মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য সুদের হার কমপিটিটিভ (প্রতিযোগিতামূলক) করা হয়েছে বলে মনে করি।

নেট বিক্রি বেশি হলে সরকারে হাতে টাকা আসবে। 
তবে সঞ্চয়পত্রের সুদহার বাড়ার ফলে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়বে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত নন জানিয়ে অর্থনীতিবিদ কে মুজেরী বলেন, সহসা মূল্যস্ফীতি কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামনে রমজান, তাই মূল্যস্ফীতি বরং আরো উচ্চ হতে পারে। এমন অবস্থায় সুদের হার বাড়ালেই বিক্রয় এবং সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়বে কী-না, এটি একটি প্রশ্ন। 

তবে, একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মানুষকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকে ‘আকর্ষণীয়’ করতেই সুদহার ‘বাজারভিত্তিক’ করার উদ্যোগটি তারা বাস্তবায়ন করছেন। 

অবশ্য, অর্থনীতিবিদ কে মুজেরী মনে করেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বাড়িয়ে রাজস্ব ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তিনি বলেন, এখন সঞ্চয়পত্র থেকে যে আয়টা হয়, সেটা কিছুটা হলেও বাড়বে। ফলে তাদের হাতে কিছু বাড়তি অর্থ আসবে, যা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার কিংবা সন্তানের পড়ালেখার ব্যয়বহনের মতো বিষয়গুলোতে কিছুটা সুবিধা তারা পাবেন। কিন্তু, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির যদি পরিবর্তন না হয়, তাহলে সামগ্রিক অর্থনীতির খুব একটা উপকার এতে হবে না। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status