ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩
ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক, নাগরিক সেবা বঞ্চিত তৃণমূল জনগোষ্ঠী
জোবায়ের সোহাগ, শ্রীবরদী
প্রকাশ: Tuesday, 24 December, 2024, 6:57 PM

ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক, নাগরিক সেবা বঞ্চিত তৃণমূল জনগোষ্ঠী

ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক, নাগরিক সেবা বঞ্চিত তৃণমূল জনগোষ্ঠী

জনরোষের ভয়ে দীর্ঘদিন যাবত ইউনিয়ন পরিষদে যেতে পারছে না শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ দলীয়  দাপুটে চেয়ারম্যান ও গোসাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সভাপতি শাহ জামাল ইসলাম আশিক। বিগত দিনে দলের প্রভাব বিস্তার, অনিয়ম দূনীতি ও গ্রাম্য বিচার সালিশীতে পক্ষপাতিত্ব ,  নীরিহ মানুষের নামে  বিস্ফোরক ও গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানি, বিচারের নামে নিরীহ ব্যক্তিদের পরিষদে ও তার বাসায় আটকিয়ে নির্যাতন ও  অর্থ আদায় সহ নানা কারনে ইউপি চেয়ারম্যান আশিকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে  ইউনিয়ন বাসি। গত ৫ আগস্ট  স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের থেকেই তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছেনা।

ফলে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়ন বাসি। এতে করে স্থবির হয়ে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। ইউপি সচিব মনোয়ার হোসেন নিয়মিত অফিস না করায় নাগরিক সেবা নিতে যাওয়া মানুষকে পড়তে  হচ্ছে দুর্ভোগে। জানা যায়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা মার্কা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় শাহ জামাল ইসলাম আশিক। দলের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হওয়ার সুবাদে আওমামী সরকারের আমলে তিনি পুরো ইউনিয়নে একক আধিপত্য বিস্তার করেন।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তে পরিচালিত করেন ইউনিয়ন পরিষদের সকল  কার্যক্রম। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার বিরুদ্ধে

করা হতো গায়েবী  ও বিস্ফোরক মামলার আসামী ও নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে নির্যাতন। নানা অনিয়ম দুনীতির কারনে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান আশিক। তার বিরুদ্ধে একাধিক সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের বৃহৎ একটি অংশ সভা সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

অবশেষে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় আদালতে মামলা। চেয়ারম্যান আশিকের  হাত থেকে রেহায় পায়নি দলের নেতাকর্মীরাও। একাধিক দলীয় নেতা কর্মীদের নামেও তিনি ঢুকিয়ে দেন মামলা। গত ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এলাকা ছাড়েন তিনি। চলে যান 

আত্মগোপনে হঠাং মাঝে মধ্যে তাকে এলাকায় দেখা গেলেও পরিষদে যায় না তিনি। তার ছেলে ও স্ত্রী পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একটি সূত্র। গোসাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান ১ মো আজহার আলী বলেন শেখ হাসিনার পতনের পর ইউপি চেয়ারম্যান আশিক নিয়মিত অফিস করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তারের ভয় ও জনরোষের কারনে তিনি এলাকা ছেড়েছেন।  তাকে পরিষদে পাচ্ছে না ইউনিয়ন বাসি। এ কারনে ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষ। তার  বিতর্কিত  কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা তার অপসারনের দাবি করছেন। ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান  বাদশা বলেন, ৫ ই আগস্টের পর থেকেই চেয়ারম্যানের নিয়মিত দেখা মিলছে না। শুনেছি সে নাকি আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে কোথায় আছেন আমরা জানি না। তবে তার অনুপস্থিতিতে কে তার স্বাক্ষর প্রদান করছে তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজু মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান তো নিয়মিত আসেন না পরিষদে। শুনেছি ঢাকায় থাকেন নাকি তিনি। এর চেয়ে বেশি আমি কিছু জানি না।মাটিয়াকুড়া গ্রামের আব্দুল বারেক জানায়

বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে তার দোসর ইউপি চেয়ারম্যান আশিক ও তার সহযোগীরা আমাদের নির্যাতন করেছে। বিগত দিনে অত্র ইউনিয়নে কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হয়নি। লুটে খেয়েছে আশিক। গত ৫ ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান আশিক পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। গোসাইপুর গ্রামের অনার্স পড়ুয়া  শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে আমরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। 
পরিষদে গিয়েও চেয়ারম্যানের দেখা মিলছে না। গিলাগাছা গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন বিগত নির্বাচনে আশিক দলের প্রভাব বিস্তার করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় নৌকা প্রতিক নিয়ে। তার কারনে এ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের নামে গায়েবী মামলা হয়। বিনা কারণে গ্রেপ্তার হয়ে হাজত বাস করে অনেকেই। পালিয়ে বেড়াতে হয় তার বিরোধীদের। তার নির্যাতন থেকে বাদ পড়েনি নিজের দলের নেতাকর্মীরাও। গোসাইপুর ইউপি সচিব মনোয়ার হোসেন বলেন চেয়ারম্যান কোথায় আছেন আমি জানিনা তবে তার সাথে আমার মোবাইল ফোনে কথা হয়। চেয়ারম্যান নিয়মিত পরিষদ আসেন না। চেয়ারম্যান অনুপস্থিতিতে কে তার স্বাক্ষর করছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ জামাল ইসলাম আশিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায় আমি সাময়িক অসুবিধার কারণে বাইরে আছি। সন্ধ্যার পর আপনাদের সাথে কথা বলবো। এ প্রসঙ্গে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status