ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬ ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আশফাক দম্পতির নিষ্ঠুর আচরণই ছিল নিত্যসঙ্গী
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 19 February, 2024, 11:26 AM
সর্বশেষ আপডেট: Monday, 19 February, 2024, 11:35 AM

আশফাক দম্পতির নিষ্ঠুর আচরণই ছিল নিত্যসঙ্গী

আশফাক দম্পতির নিষ্ঠুর আচরণই ছিল নিত্যসঙ্গী

অভাবের তাড়নায় কমলগঞ্জের এক চা শ্রমিকের কিশোরী কন্যা প্রীতি ওরাংয়ের জায়গা হয়েছিল ঢাকার এক বিলাসী ফ্ল্যাটে। কিন্তু সেখানে ছিল না মায়ের মমতা, বাবার ভালোবাসা। গৃহকর্তা ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের অবহেলা আর বঞ্চনাই ছিল গৃহকর্মী প্রীতির নিত্যদিনের পাওয়া। আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এসব তথ্য উঠে আসে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিতিঙ্গা চা-বাগানের শ্রমিক লুকেশ ওরাংয়ের মেয়ে প্রীতি ওরাং দুই বছর আগে সৈয়দ আশফাক দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যোগ দেয়। এর পর থেকেই তার ওপর শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন। বিভিন্ন সময় সে তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে ছটফট করলেও মন গলত না পাষণ্ড আশফাক ও তাঁর স্ত্রীর। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঢাকায় এসেও মেয়ের মুখ দেখতে পারতেন না বাবা লুকেশ।


দালানে বন্দি জীবনে ছটফট করতে হতো প্রীতিকে। তার প্রতি এই নিষ্ঠুরতার তথ্যগুলো উঠে আসে তদন্তে। প্রীতির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আশফাক দম্পতিকে আসামি করে মামলা করেন লুকেশ। ওই মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রবিবার আদালতে হাজির করা হয় দুই আসামিকে।


চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজেশ চৌধুরীর আদালত আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে উপস্থাপিত জিজ্ঞাসাবাদ প্রতিবেদনে ডিএমপির তেজগাঁও গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নি.) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, মামলা তদন্তে জানা যায়, প্রীতি তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে কান্নাকাটি করত। মাঝেমধ্যে সেই সুযোগ দেওয়া হলেও সে মন খুলে কথা বলতে পারত না। সৈয়দ আশফাক দম্পতির অবিরত চাপের মুখে দ্রুত কথা শেষ করতে বাধ্য হতো সে। প্রীতির আত্মীয়স্বজন ঢাকায় এলেও তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেত না।


আসামিদের রিমান্ডে পাওয়ার পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনাসংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তাঁরা কৌশলে উত্তর এড়িয়ে যান। তবে আসামিরা যে তথ্য প্রদান করেছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এদিকে আসামি ও স্থানীয় তদন্তে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট একই বাসার একই জানালা দিয়ে ফেরদৌসী নামের আরেক গৃহকর্মী নবম তলা থেকে নিচে পড়ে যায়। পরে চিকিৎসা করলে সে প্রাণে বেঁচে যায়।

তদন্ত সূত্র জানায়, প্রীতির মতোই একই পরিস্থিতিতে পড়েছিল সেই শিশু গৃহকর্মী ফেরদৌসী (৭)। সে-ও দিনের পর দিন মা-বাবার আদর থেকে বঞ্চিত ছিল। কারো সঙ্গে কথা বলা এবং দেখা করার সুযোগ পেত না। এক পর্যায়ে বন্দি বাসায় ছটফট করতে করতে ওই বাসার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায়ও সৈয়দ আশফাক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে অর্থের জোরে ওই মামলা রফা করে ফেলেন আসামিরা।

এদিকে অবহেলার কারণে প্রীতি ওরাংয়ের মৃত্যুর দায়ে করা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

শুনানি শেষে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের মোহাম্মদপুর থানার জেনারেল রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন আদালতে ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার ও আশরাফুল আলম।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি স্বামী-স্ত্রীকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই দিন বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক নাজমুল হাসান প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুজন রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।

এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি নিহত কিশোরীর বাবা লুকেশ ওরাং বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। পরদিন ৭ ফেব্রুয়ারি ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক (৫৬) ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া খন্দকারকে (৪৬) আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত ওই দিন রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status