ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৮ মে ২০২৬ ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ফিরছেন মামুনুল, আবার চাঙা হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 8 August, 2023, 1:57 AM

ফিরছেন মামুনুল, আবার চাঙা হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম

ফিরছেন মামুনুল, আবার চাঙা হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম

আবার চাঙা হয়ে উঠছে দেশের বহুল আলোচিত কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবিন্যাস আসছে এ মাসেই। 

২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর গঠিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির নেতারাই আবার কমিটিতে ফিরছেন বলে জানা গেছে। অদৃশ্য চাপে ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল রাতে ওই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নড়েচড়ে বসছে হেফাজতে ইসলাম। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। বিলুপ্ত কমিটির নেতারা ফিরলে দাবি আদায় আন্দোলন আরও বেশি বেগবান হবে বলে মনে করছেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। এতে তারা আরও চাঙা হবেন। 

দুই বছর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর কেন্দ্র করে সংঘাতের পর অদৃশ্য চাপে আমিরের দায়িত্বে থাকা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এর পর নতুন আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 

নানা ঘটনার মুখে কমিটি বিলুপ্তির দেড় মাসের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম। ওই কমিটিতে আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির পদে রেখে ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০২১ সালের ৭ জুন ঢাকার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদি কমিটি ঘোষণা করেন। 

এতে বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আলোচিত মাওলানা মামুনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ যারা সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন, তাদের কমিটিতে রাখা হয়নি। 

তবে শনিবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি অদৃশ্য চাপে বিলুপ্ত কমিটির সব সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। 

এর পর কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা তার ফেসবুকে ওয়ালে লেখেন, ‘আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর সময়ে গঠিত হেফাজতের কমিটি বহালের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে হেফাজতের নতুন জাগরণের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। এতে হেফাজতে ইসলাম আগের রূপে ফিরবে বলেও তিনি দাবি করেন।’ 

হেফাজত চাঙা হচ্ছে— এমনটি দাবি করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মী তথা কারা নির্যাতিতরা বর্তমান কমিটিতে ফিরলে হেফাজত চাঙা হবে। এর পর চাঙা ভাব নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা তাদের ১৩ দফা দাবি আদায়ে আরও বেশি বেগবান হবে। তাই অতিসত্বর বিলুপ্ত কমিটির নেতাকর্মীদের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিলুপ্ত কমিটির স্বেচ্ছায় পদত্যাগকারী ও মৃত্যুবরণকারী ছাড়া অন্যসব নেতাকর্মী চলতি মাসে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে ফিরছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মামুনুল হক, নাসির উদ্দিন মুনির, সহকারী মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন আল রাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, সহপ্রচার সম্পাদক গাজী ইয়াকুব ওসমানি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক হারুন ইজহার, আজহারুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, আতাউল্লাহ আমিন এবং মঞ্জুরুল ইসলাম আফিন্দিসহ আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের অনেকে ইসলামি সংগঠনের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন।

শনিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় মাওলানা মামুনুল হকসহ কারাবন্দি সব উলামায়ে কেরামের দ্রুত মুক্তি এবং ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হেফাজত নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। অবিলম্বে নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এ সংগঠন কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেয়নি। ভবিষ্যতেও নেবে না। হেফাজতের কোনো নেতার রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে সেটি তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়। তবে হেফাজত কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে না।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে হেফাজত ফের নড়েচড়ে বসছে। হেফাজতের নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর হয়েছে। তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ হেফাজতের শীর্ষ নেতারা। 

হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরিস বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে কেউ রাজনৈতিক দল হিসাবে নিলে ভুল করবে। কারণ হেফাজত কোনো দল বা গোষ্ঠীর পক্ষপাত তুষ্ট হয়ে তেমন নির্দিষ্ট কোনো কাজ এখন পর্যন্ত করেনি, ভবিষতেও করবে না। আমরা মূলত আল্লামা আহমদ শফীর নির্দেশিত পদ অনুসরণ করছি এবং ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। 

কোনো নির্বাচনে হেফাজত কখনো প্রভাবিত করেনি দাবি করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে জনগণ তাদের ইচ্ছেমতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। তবে যেহেতু এটি ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ সে ক্ষেত্রে যে সরকার ধর্মীয় রীতিনীতিকে অগ্রাধিকার দেবে জনগণ তাদের বেছে নেবে। তাই যে দল সরকারে আসুক না কেন তাদের উচিত আলেম-ওলামাদের প্রতি এবং ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি সজাগ থাকা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status