|
আফগানিস্তানের সাথে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() আফগানিস্তানের সাথে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় স্বাগতিকরা। শেষটা রাঙালো ৬ উইকেটে জিতে। বৃষ্টি আইনে নির্ধারিত ১৭ ওভারে ১১৯ রান করতে হতো বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ এই রান টপকে যায় চার উইকেট হারিয়ে। সাকিব ১১ বলে একটি করে চার ও ছয়ে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। বল হাতে ২ উইকেটও নেন তিনি, তাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন এই অলরাউন্ডার। দুই ম্যাচে ৩৭ রান করে ৪ উইকেট নিয়ে সিরিজের সেরাও সাকিব। এই সিরিজ জয়ে প্রথমবার টানা চারটি দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। গত সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারানোর পর মার্চে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ধারায় এলো এই সিরিজেও জয়। আফগানিস্তানের বিপক্ষেও বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় এই প্রথমবার। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচের শুরুটা ছিল তাসকিনের বারুদের গন্ধে। গতি আর আগ্রাসনের ঝড় তোলেন তিনি প্রথম স্পেলে। ম্যাচের প্রথম ওভারে পরাস্ত হয়েও ব্যাটের কানায় লেগে ছক্কা পেয়ে যান রহমানউল্লাহ গুরবাজ। পরের বলেই আরেকটি শর্ট ডেলিভারিতে তাকে ফিরিয়ে শোধ তোলেন তাসকিন। টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ করেন ৫০ শিকার। নিজের পরের ওভারে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তিনি বিদায় করেন দেন আরেক ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাইকেও। তাসকিনের সঙ্গে হাসান মাহমুদ ও নাসুম আহমেদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে আফগানিস্তান প্রথম ৫ ওভারে করতে পারে মোটে ২১ রান। পরের ওভারে মোস্তাফিজের বলে দুটি বাউন্ডারিতে পাওয়ার প্লেতে ৩০ ছাড়াতে পারে তারা। অষ্টম ওভারে বৃষ্টি নেমে খেলা বন্ধ থাকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময়। বিরতির পর নাসুমের টানা দুই জীবন পান মোহাম্মদ নবী। প্রথমটিতে কাভারে সহজ ক্যাচ ছাড়েন সাকিব আল হাসান, পরেরটিতে বল গ্লাভসে নিতে পারেননি লিটন। পরের ওভারেই অবশ্য নবীকে ফেরান মোস্তাফিজ। আগের ম্যাচে ফিফটি করা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এবার ২২ বল খেলে করতে পারেন ১৬। রান করতে ধুঁকছিলেন তিনে নামা ইব্রাহিম জাদরানও। তার রান তখন ২৩ বলে ১৩। পরে মোস্তাফিজকে ছক্কা মেরে ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত পুষিয়ে দিতে পারেননি। ইব্রাহিম ও নাজিবউল্লাহ জাদরানকে এক ওভারেই বিদায় করেন সাকিব। আফগানিস্তানের জন্য তখন একশ রানই খানিকটা দূরের পথ। আজমতউল্লাহ ওমারজাই ও করিম জানাত সেই পথটুকুতে এগিয়ে নেন দলকে। ২৯ বলে ৪২ রানের জুটি গড়েন দুজন। তবে তাদেরকে শেষ পর্যন্ত টিকতে দেয়নি বাংলাদেশ। বরং প্রবল দাপটে ঘুরে দাঁড়ান বোলাররা। শেষ ওভারে রশিদ খানের বিশাল একটি ছক্কা ছাড়া শেষ তিন ওভারে আর কোনো বাউন্ডারি আসেনি। আফগানদের রান তাই ১২০ ছুঁতে পারেনি। সেই পুঁজি নিয়ে তারা পারেনি শক্ত চ্যালেঞ্জ গড়তে। ১২০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ৬৭ রান করা বাংলাদেশ হঠাৎ ছন্দ হারায়। ৭৬ রানে নেই ৩ উইকেট। সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয় হাল ধরেন। তাদের জুটিতে ১৫তম ওভারে একশ হয় বাংলাদেশের স্কোর। নিজের প্রথম ছক্কা হাঁকানোর পরের বলে হৃদয় বিদায় নেন। ৩১ রানের জুটি ভাঙলে সাকিব আর শামীম হোসেন সব শঙ্কা দূর করে জয় এনে দেন। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে চার মারেন শামীম, তাতে জয় নিশ্চিত হয়। ওয়ানডে সিরিজ হেরে গেলেও টি-টোয়েন্টিতে জয়ের স্বস্তিই সঙ্গী হলো বাংলাদেশের।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
