নয় মাস আগে কূটনৈতিক ই-পাসপোর্টটি নিয়েছিলেন জাতীয় সংসদের সিনিয়র সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। আগে তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ছিল। সেটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি ই-পাসপোর্টটি গ্রহণ করেন। কিন্তু ৯ মাসের মাথায় গত মঙ্গলবার প্রাধিকার বলে প্রাপ্ত ওই কূটনৈতিক পাসপোর্টটিও (ই-পাসপোর্ট) ছেড়ে দেয়ার আবেদন করেন তিনি। বিষয়টি রহস্যজনক। কেন তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্টটি ত্যাগের আবেদন করলেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা। কারণ আবেদনে পাসপোর্ট ত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ ছিল না।
আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাবের চৌধুরীর পাসপোর্ট বাতিলের আদেশ জারি করেছে। সেই আদেশের কপি সরকারের পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টকে পাঠিয়ে তার অনুকূলে একটি সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করতে অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হয়েছে। পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বশীল সূত্র গতকাল জানিয়েছে, সেগুনসবাগিচার আদেশের কপি পেলেও এখন পর্যন্ত সাবের চৌধুরী সাধারণ পাসপোর্ট পেতে কোনো আবেদন করেননি।
ফলে তার আগের পাসপোর্ট সার্ভারে বহাল রয়েছে। সূত্র মতে, সাবের চৌধুরী গত জুলাইতে বর্তমান পাসপোর্টটি নিয়েছেন তার আগের এমআরপি কূটনৈতিক পাসপোর্টের মেয়াদপূর্ণ হওয়ার পর। সেই এমআরপি’র নাম্বার ছিল-DC-0006234।তবে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার সাবের চৌধুরীর মোবাইলে ফোন করা হলেও যোগাযোগে করা কিংবা তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যান্ড এমআরপি অনুবিভাগের সহকারী সচিব জিএম ইফতেখার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত আদেশে (জিও) উল্লেখ করা হয়, গত ৪ঠা এপ্রিল ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী (১৮২ ঢাকা-৯) নিজের অধিকারে থাকা কূটনৈতিক পাসপোর্ট, যার নম্বর D-00010893 বাতিলের আবেদন করেন। সেই সঙ্গে তার অনুকূলে একটি সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করতে অনাপত্তি সনদ (এনওসি) প্রদানের আর্জি জানান।
চৌধুরীর আবেদন যার নম্বর SSKA/182-Dhaka-09/2023/0078 এর প্রেক্ষিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তার ব্যবহার করা পাসপোর্টটি বাতিল করা হয়। সেই সঙ্গে তার অনুকূলে একটি সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করতে অনাপত্তি জ্ঞাপন করা হয়।