ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২১ জুন ২০২৬ ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিক্ষাঙ্গন থেকে কর্মক্ষেত্র: ইংরেজি দক্ষতাই হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির নতুন মানদণ্ড
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 21 June, 2026, 2:51 PM

শিক্ষাঙ্গন থেকে কর্মক্ষেত্র: ইংরেজি দক্ষতাই হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির নতুন মানদণ্ড

শিক্ষাঙ্গন থেকে কর্মক্ষেত্র: ইংরেজি দক্ষতাই হয়ে উঠছে ভবিষ্যৎ কর্মশক্তির নতুন মানদণ্ড

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে শুধু একাডেমিক সনদ নয়, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতাও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সম্প্রতি ঢাকায় এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড। শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাক শিল্প, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, কৃষি, আতিথেয়তা খাতসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কেমব্রিজের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লিংগুয়াস্কিল টেস্ট-এর পরিচিতি। কেমব্রিজের এই আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তব কর্মক্ষেত্রের পরিস্থিতিতে ইংরেজি দক্ষতা যাচাই ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তা মূল্যায়নের সুযোগ দেয়।

আলোচনায় কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ রাজামানি, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মো. বদরুদ্দোজা, মার্কেটিং ম্যানেজার রাজগীর দেওয়ান এবং এসিস্টেন্ট ম্যানেজার সোহানা হোসেন।

আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশের পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে অরুণ রাজামানি বলেন, “বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিল্পখাত এখন বাস্তব জীবনের যোগাযোগ দক্ষতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই চাহিদার প্রেক্ষিতেই কেমব্রিজ এমন একটি আধুনিক ও বাজার-উপযোগী মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক কর্মপরিবেশের প্রয়োজন অনুযায়ী ইংরেজি দক্ষতা পরিমাপ করতে সক্ষম।”

তিনি আরও বলেন, লিংগুয়াস্কিল টেস্ট এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের ভিত্তিতে ইংরেজি দক্ষতা মূল্যায়ন করতে পারে এবং একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক যোগাযোগ দক্ষতারও প্রতিফলন ঘটে।

গোলটেবিল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন সোহানা হোসেন ও মো. বদরুদ্দোজা। তারা বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান, কীভাবে যোগাযোগ দক্ষতা নিয়োগ, কর্মী উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা এবং ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষা খাত নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ইংরেজি ভাষার প্রাথমিক চর্চা থেকে বঞ্চিত হয়, যা পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা বা জনসমক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, এখন অভিভাবকদের মধ্যে ইংরেজি শেখানোর বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং এই পরিবর্তনকে আরও সহায়তা করা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শিল্পখাতের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে সে বিষয়ে কম্পাস এডুকেশনের চেয়ারম্যান ডালসে কোরাজন জিটা লামাগনা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়াচ্ছে। নাট্যচর্চা, প্রতিযোগিতা এবং শিল্পখাতভিত্তিক সিমুলেশনের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি, শিক্ষার্থীরা শুধু ইংরেজি শিখছে না, বরং তা ব্যবহারও করছে। ফলে তারা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও অভিযোজন ক্ষমতাও গড়ে তুলতে পারছে।”

আতিথেয়তা খাতের বাস্তবতা তুলে ধরে ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালের জেনারেল ম্যানেজার মো. আল-আমিন বলেন, “আমাদের খাতে যোগাযোগই অনেক সময় প্রথম সেবা। আন্তর্জাতিক অতিথিদের সঙ্গে প্রতিদিন কাজ করতে হয়। তাই সাবলীল, আত্মবিশ্বাসী ও পেশাদার যোগাযোগ অতিথিদের আস্থা বাড়ায়, সন্তুষ্টি নিশ্চিত করে এবং সামগ্রিক সেবার মান উন্নত করে।”

প্রযুক্তি খাতের আলোচনায় উঠে আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতার যুগে ইংরেজি দক্ষতার গুরুত্ব। ক্রিয়েটিভ গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (COO) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ইংরেজি শুধু একটি দক্ষতা নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি টিকে থাকার মাধ্যম। ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ হোক কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার—সব ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ও কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শক্তিশালী যোগাযোগ দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

পরবর্তীতে আলোচনায় উঠে আসে নিয়োগ ও কর্মশক্তি উন্নয়নের বিষয়টি। সিঞ্জেন্টা বাংলাদেশের কান্ট্রি এইচআর প্রধান উপালা শফিক বলেন, “বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি বহুমাত্রিক। শুধু একাডেমিক ফলাফল নয়, বরং যোগাযোগ দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও মূল্যায়ন করা হয়। ইংরেজি দক্ষতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অন্যান্য অনেক পেশাগত দক্ষতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।”

আলোচনার পুরোটা জুড়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, ইংরেজি এখন আর কেবল একটি একাডেমিক বিষয় নয়; বরং এটি কর্মক্ষেত্রের একটি অপরিহার্য দক্ষতা। বিভিন্ন শিল্পখাতের চাহিদা ভিন্ন হলেও কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা ছাড়া বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক কর্মপরিবেশে সফল হওয়া কঠিন।

অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, যোগাযোগ দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিংগুয়াস্কিল টেস্ট এর মতো নিরপেক্ষ ও মানসম্মত মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ সংস্থাগুলোকে দক্ষতার ঘাটতি চিহ্নিত করতে এবং কর্মশক্তি উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করতে পারে।

গোলটেবিল বৈঠকটি এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে শেষ হয় যে, ভবিষ্যতের কর্মশক্তি গড়ে তোলা, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশে সফল হওয়ার জন্য ইংরেজি যোগাযোগ দক্ষতা আগামী দিনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status