ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
ভাঙা কোমরে ক্রাচে ভর, কাঁধে তার সংসার
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 17 March, 2022, 7:29 PM

ভাঙা কোমরে ক্রাচে ভর, কাঁধে তার সংসার

ভাঙা কোমরে ক্রাচে ভর, কাঁধে তার সংসার

সড়ক দুর্ঘটনায় ভেঙে যায় জহুরুলের কোমরের হাড়। কোনোভাবেই সোজা হয়নি তার ভাঙা কোমর। তখনই চিরসঙ্গী হয় তার ক্রাচ। তবুও থমকে যায়নি জহুরুলের জীবন। এক যুগ ধরে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটছেন কাঁধে নিয়ে ঝাঁড়ুর বোঝা। ক্রেতার অপেক্ষায় ঘুরেন পথে পথে, করেন ঝাঁড়ু বিক্রি।

৬০ বছর বয়সী জহুরুল ইসলাম বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কড়িরহাট গুচ্ছগ্রামের (ভূমিহীন ও বাস্তহারা লোকজনদের বসবাসের জন্য সরকার নির্মিত আবাস স্থল) বাসিন্দা। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ওই উপজেলায় বসবাস করে আসলেও ছিলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের বাসিন্দা। যমুনা নদীর ভাঙনে বাড়ি-ঘর হারিয়ে নন্দীগ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। পেশায় ছিলেন কৃষিশ্রমিক। প্রায় ১৪ বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। ভেঙে যায় তার কোমরের হাড়। এরপরে আর দাঁড়াতে পারেননি কোমর সোজা করে। শুরু হয় তার ক্রাচে ভর দিয়ে পথচলা। একপর্যায়ে শুরু করেন পথে পথে ঘুরে ঝাঁড়ু বিক্রি করা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রচণ্ড রোদে বগুড়া শহরের ফুলতলা এলাকায় কাঁধে ঝাঁড়ু বোঝাই অবস্থায় দেখা মেলে তার। কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, দাম্পত্য জীবনে তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান আছে। সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরা কৃষিশ্রমিক। তারা আলাদা থাকেন। ৫০ বছর বয়সী স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে নিয়ে তার সংসার। ঘরে বসে থাকলে খাবার জুটবে না। তাই শরীরের এমন অবস্থাতেও পথে পথে ঘুরে ঝাঁড়ু বিক্রি করেন।

তিনি আরো জানান, তার স্ত্রী গ্রাম ঘুরে ঝাঁড়ু তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন। পরে ঘরে বসে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে ঝাঁড়ু তৈরি করেন। সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন ঝাঁড়ু বিক্রি করতে বের হন তিনি। মাসে ছয় হাজার টাকার ঝাঁড়ু বিক্রি করেন।

বগুড়া ফুলতলা এলাকার চা দোকানি মানিক মিয়া জানান, জহুরুলকে মাঝে মধ্যে কাঁধে ঝাঁড়ু বোঝাই করা অবস্থায় ফেরি করতে দেখা যায়। তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। চলতেও হয় তার ক্রাচে ভর দিয়ে। এরপরেও আত্মনির্ভরশীল জহুরুল। কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা না করে নিজেই আয় করছেন। অনেকে তাকে  সাহায্য করার উদ্দেশ্যে বিনা প্রয়োজনে তার কাছ থেকে ঝাঁড়ু কেনেন।

জহুরুল ইসলাম জানান, আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে ভটভটির যাত্রী হয়ে নন্দীগ্রাম থেকে বগুড়া শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের রানীরহাট এলাকায় তাকে বহন করা ভটভটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। ভেঙে যায় তার কোমরের হাড়। কোনোভাবেই আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেননি। এরপর থেকেই ক্রাচে ভর দিয়ে চলেন।

জহুরুল আরও জানান, ঝাঁড়ু বিক্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে ভালোভাবেই তার সংসার চলছে। বগুড়া সদর, নন্দীগ্রাম ও শাজাহানপুর উপজেলা ঘুরে ঘুরে ঝাঁড়ু বিক্রি করেন। যতদিন শরীর চলে ততদিন নিজেই আয় করবেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status