লা লিগায় শীর্ষ চারে থেকে শেষ করলেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরের মৌসুমে জায়গা নিশ্চিত করবে বার্সেলোনা। তবে বার্সেলোনা কোচ জাভি হার্নান্দেজ আরো উঁচুতে থেকে ইউরোপ সেরার মঞ্চে ফিরতে চান। এই কিংবদন্তি জিততে চান ইউরোপা লিগের শিরোপা।
ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতাটির শেষ ষোলোর প্রথম লেগে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছিল বার্সেলোনা। টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ তুরস্কের ক্লাবটির মাঠে খেলতে নামবে কাতালান ক্লাবটি।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় ম্যাচটি শুরু হবে। ২০০০-০১ মৌসুমের পর এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ইউরোপা লিগে নেমে গেছে বার্সেলোনা।
উয়েফা কাপ ও ইউরোপা লিগ মিলিয়ে শেষ ষোলোয় নিজেদের আগের আট লড়াইয়ের সাতটিতেই পরের রাউন্ডে উঠেছিল বার্সেলোনা। প্রতিযোগিতাগুলোর এই পর্যায়ে একবারই বাদ পড়েছিল তারা, ২০০৩-০৪ ইউরোপা লিগে সেল্টিকের বিপক্ষে (দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ গোলে হার)।
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন দল পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি খেলার সুযোগ পায়। নিজ নিজ লিগে অবস্থানের ভিত্তিতেও দলগুলোর সামনে ইউরোপ সেরার মঞ্চে খেলার সুযোগ থাকে। বার্সেলোনার সামনে দুটি পথই খোলা রয়েছে।
লা লিগায় এই মুহূর্তে ছন্দে থাকা বার্সেলোনা ২৭ ম্যাচে ১৪ জয় ও ৯ ড্রয়ে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে আছে তৃতীয় স্থানে। স্পেনের শীর্ষ লিগের প্রথম চার দল সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে খেলার সুযোগ পায়।
সেই সম্ভাবনা থাকলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জাভি ফিরতে চান রাজকীয়ভাবে। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এই লক্ষ্যের কথা বলেন তিনি। জাভি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিশ্চিত করা।
তিনি আরো বলেন, এখন আমরা ইউরোপা লিগে আছি। এটা জেতা আমাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রবেশের সুযোগ করে দেবে। আমরা খুব রোমাঞ্চিত, এটা ইউরোপা লিগ হলেও আমরা সত্যিই শিরোপাটির (জেতার) জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।
এরপর জাভি বলেন, আমাদের জন্য এটি একটি ফাইনাল (দ্বিতীয় লেগ), বাঁচা-মরার লড়াই। প্রথম লেগের প্রথম অংশে ভালো খেলতে পারিনি। আমরা যেমন খেলতে চাই তার উদাহরণ হতে পারে ওসাসুনার বিপক্ষে (৪-০ গোল জয়) ম্যাচটি।
গালাতাসারাইয়ের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও বার্সেলোনার জন্য দারুণ ইতিবাচক। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের ৯ মুখোমুখি লড়াইয়ে পাঁচটি জিতেছে তারা, গালাতাসারাইয়ের জয় একটি; বাকি তিনটি ড্র। গালাতাসারাই তাদের একমাত্র জয়টি পেয়েছিল ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২-১ গোলে।
অতীত ইতিহাস বার্সেলোনার পক্ষে থাকলেও জাভির মতে প্রতিপক্ষের মাঠে কাজটা মোটেও সহজ হবে না। শেষ ষোলোর প্লে-অফে নাপোলির বিপক্ষে লড়াই থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন তিনি।
প্লে-অফের প্রথম লেগ ১-১ ড্রয়ের পর ফিরতি লেগে নাপোলিকে তাদের মাঠেই ৪-২ গোলে হারায় কাতালান দলটি। জাভির ভাষায়, এটি একটি ফাইনাল, আর সেটা এমন এক স্টেডিয়ামে হতে যাচ্ছে যেখানে তারা (গালাতাসারাইয়ের ভক্তরা) দলকে দারুণভাবে উৎসাহ দেয়।
তিনি এরপর বলেন, আমরা ইতোমধ্যে (নাপোলিতে) যা করেছি, তার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করতে হবে। প্রথম লেগে আমরা সেরা ফলাফল পাইনি, তবে আমি এটিকে সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমরা নাপোলির বিপক্ষেও একই পরিস্থিতিতে ছিলাম এবং আমরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম।