চিত্রনায়ক জায়েদ খান ও চিত্রনায়িকা নিপুণ। এক সময় দুইজনের মধ্যে ছিল মধুর সম্পর্ক। চলচ্চিত্রে জুটি বেঁধে করেছেন অভিনয়। গানে দুলিয়েছেন কোমর। জায়েদের নির্বাচনে সহযোগিতাও করেন নিপুণ। জায়েদও প্রতিদানে নিপুণকে স্থান দেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কমিটিতে। কিন্তু আচমকা করোনার সময় তাদের দ্বন্দ্ব বেড়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, সম্প্রতি সমাপ্ত চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ উত্তাপ ছড়িয়েছেন নিপুণ-জায়েদ খান। ভোট যুদ্ধ এখন ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। চলচ্চিত্রে জায়েদ-নিপুণের একটি গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে । আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘জমিদার বাড়ির মেয়ে’ সিনেমায় ‘পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও আজ দুজনে হারাবো, চলো পালাই’ শিরোনামের এ গানে দুজন পর্দায় কোমর দুলিয়েছেন।
তারা আরো বলেন, ২০১৭ সালে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পরও নিপুণের সঙ্গে জায়েদ খানের মধুর সম্পর্ক ছিল। সে বছর মিশা সওদাগর সভাপতি ও জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অন্যদিকে চিত্রনায়িকা মৌসুমী কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে শপথ বাক্য পাঠ করেননি। এরপর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সদস্যপদ থেকে মৌসুমীর পদত্যাগ করলে সেখানে চিত্রনায়িকা নিপুণকে নেন জায়েদ খান। নিপুণকে নিয়ে দুই বছর সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে মিশা-জায়েদের কমিটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গতবছর করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে হঠাৎ জায়েদ-নিপুণের মধুর সম্পর্কে তিক্ততা নেমে আসে। গতবছর করোনার প্রকোপ বাড়লে সাইমন সাদিককে নিয়ে নিজ উদ্যোগে চলচ্চিত্রের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান নিপুণ। জায়েদ খানও এ সময় সংগঠনের সদস্যদের প্রতি সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেন। ধারণা করা হয়, নিপুণ সে সময় থেকেই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পারেন জায়েদ খানও। এ থেকেই দুজনের সম্পর্কে ফাটলের সূত্রপাত।
জানা গেছে, এবার নির্বাচনে প্রথমে শাকিব খানকে নিয়ে প্যানেল করতে চেয়েছিলেন নিপুণ। শাকিকের সাড়া না পেয়ে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বেছে নেন তিনি। অন্যদিকে জায়েদ খান-মিশা সওদাগর প্যানেল অটুট থাকে এবং এ নির্বাচনে নিপুণ-জায়েদ খানের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। দুজনের আচরণ প্রমাণ করে দেয়, এ বিরোধ শুধু নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ছিল না, এর শেকড় আরো পেছনে।
নির্বাচনে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে শিল্পীদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন নিপুণ। বিষয়টি সত্য-মিথ্যা এখনো প্রমাণিত হয়নি। যদিও শেষ পর্যন্ত জায়েদ খানের কাছে তিনি ১৩ ভোটে হেরে যান। এরপর কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনরায় গণনার জন্য আপিল করেন এ চিত্রনায়িকা। আপিলেও তার পরাজয় ঘটে। অর্থাৎ মুখে চলচ্চিত্রের মানুষগুলো যতোই বলুক ‘নির্বাচন শেষে আমরা সবাই এক’ কাজে এর প্রমাণ দেননি নিপুণ।
সর্বশেষ জায়েদ খানও হুমকি দিয়েছেন তাকে যেভাবে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে তাতে তিনি মামলা করবেন। শুধু তাই নয়, মামলায় এক নম্বর আসামি করবেন নিপুণকে।
স্বাভাবিক কারণে বোঝাই যাচ্ছে নিপুণ-জায়েদ সম্পর্ক এখন আর মধুর নেই, সাপে-নেউলে পরিণত হয়েছে। তবে শিগগিরই এ বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক মিটে যাবে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।