ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসার জন্য ছয় সদস্যের একটি মেডিকেল টিম বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা ছাড়েন তারা।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক ডা. এসএম আইউব হোসেন।
তিনি জানান, বরিশাল মেডিকেলে ভর্তি দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ছয় চিকিৎসকের একটি দল বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ছয় সদস্যের মেডিকেল টিমে রয়েছেন- জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাশরুর রহমান আবির ও ডা. নুর আলম, রেজিস্টার ডা. মোরশেদ কামাল, ডা. মৃদুল কান্তি সাহা এবং ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের ডা. ইশতিয়াক ও ডা. মুনতাসির।
এদিকে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে লঞ্চ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৭টি মরদেহ। তিনটি মরদেহ নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে আরো ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করার খবর জানান দমকল কর্মীরা। তবে এখনো পর্যন্ত মৃতদের পরিচয় জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দমকল কর্মীরা অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক লঞ্চের ইঞ্জিন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিল। ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালের ঠিক আগে গাবখান সেতুর কিছু আগে লঞ্চের ইঞ্জিনরুমে আগুন লেগে যায়। এরপর সেই আগুন পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে।
রাত তিনটার দিকে আগুন লাগলে যাত্রীরা অনেকেই লঞ্চ থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বাঁচেন। যাত্রীদের ধারণা, হতাহতের সংখ্যা অনেক।