ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
একসঙ্গে তিন সন্তানের প্রসবে খুশি, তবে দুশ্চিন্তায় বাবা-মা
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 4 December, 2021, 10:25 AM

একসঙ্গে তিন সন্তানের প্রসবে খুশি, তবে দুশ্চিন্তায় বাবা-মা

একসঙ্গে তিন সন্তানের প্রসবে খুশি, তবে দুশ্চিন্তায় বাবা-মা

দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছে একসঙ্গে তিন ছেলে সন্তান। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় এ তিন সন্তান জন্ম দেন ২২ বছর বয়সী ববিতা বেগম। এতে খুশিতে আত্মহারা হলেও বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। বর্তমানে এক মাস বয়সী তিন সন্তান সুস্থ থাকলেও লালন-পালন আর চিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন মা-বাবা।

ববিতা বেগম গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহাদত মেম্বার পাড়ার দিনমজুর মো. কিরণ মুন্সির স্ত্রী। তিন শিশুর নাম রাখা হয়েছে তামিম, তাসিন ও তানজিল।

জানা গেছে, নদীভাঙনে সব হারিয়ে ববিতা-কিরণ দম্পতি আশ্রয় নেন দৌলতদিয়া শাহাদাত মেম্বার পাড়া এলাকায়। সেখানেই তিন শতাংশ জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলেন বসতি। দিনমজুরিসহ হরেক রকমের কাজ করে সংসার চালান তারা। চলতি বছরের ৪ নভেম্বর গৃববধূ ববিতা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তিন ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এর কিছুদিন পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিলে মাসহ তিন ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন কিরণ। এছাড়া তাদের পাঁচ বছর বয়সী আরো একটি ছেলে রয়েছে।

বর্তমানে কিরণ দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এ কাজ করে তিন শিশুর খরচসহ ছয়জনের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন শিশুদের পেছনে খরচ প্রায় ৭ থেকে ৮শ’ টাকা। কিন্তু দিনে আয় মাত্র ৫শ’ টাকা। ফলে তিন সন্তানসহ চার সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন ববিতা-কিরণ দম্পতি।

প্রতিবেশীরা জানান, কিরণ দিনমজুরের কাজ করেন। এতে সংসার চলে না। এখন তিনটি ছেলেসহ চার সন্তান নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। যা আয় করেন তা দিয়েও তিন শিশুর খাবারের টাকা হয় না। ওই তিন শিশুসহ পরিবারে ছয়জন সদস্য। কোনো সাহায্য সহযোগিতা পেলে বাচ্চাগুলো নিয়ে বাঁচতে পারবেন তারা।

গৃহবধূ ববিতা জানান, তিন সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন। কাজ করলে দিন শেষে ৫শ’ টাকা পান। আর কাজ না করলে টাকা পান না। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা পেলে তার সন্তানদের লালন-পালন করতে পারতেন।

তিন শিশুর বাবা কিরণ জানান, তিন ছেলে সন্তান হওয়ায় তিনি খুশি। কিন্তু দিনমজুরের কাজ করে তাদের খাবারসহ অন্যান্য খরচ জোগাতে পারছেন না। কাজ করলে দিনে ৫শ’ টাকা পান। কিন্তু শিশুদের দুধ কিনতে লাগে ৬৫০ টাকা। এরসঙ্গে অন্যান্য খরচসহ সাংসারিক খরচ রয়েছে। বর্তমানে তার চার সন্তানসহ ছয়জনের পরিবার। দিনমজুরের কাজ করে বাচ্চাদের লালন-পালনসহ সংসারের খরচ মেটাতে পারছেন না তিনি। ফলে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান বলেন, তিন শিশু আল্লাহর নিয়ামত। এ শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বাবা-মায়ের দায়িত্ব অনেক। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status