ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১৮ মে ২০২৬ ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ঢাকা শহরজুড়ে ৫০ গ্রিলকাটা চোরের সন্ধান
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 1 November, 2021, 12:21 PM

ঢাকা শহরজুড়ে ৫০ গ্রিলকাটা চোরের সন্ধান

ঢাকা শহরজুড়ে ৫০ গ্রিলকাটা চোরের সন্ধান

গ্রিলকাটা চুরির তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সোহাগ ও জুয়েল ২ হাজারের বেশি চুরি করেছে। কোনো বাসায় চুরি করতে তারা সময় নেন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। ১০-১২ তলা ভবনেও তারা পাইপ বেয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সোহাগ এ কাজে বেশি পারদর্শী।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্রিলকেটে চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে অন্তত ৫০ চোরের সন্ধান মিলেছে। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ একটি গ্রিলকাটা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তারাই দিয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তালিকা করে এখন বাকি চোরদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালের সামনে থেকে সোহাগ ও জুয়েল নামে দুই চোরকে আটক করে ডিবি গুলশান বিভাগ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গত কয়েক মাসে উত্তরা, বনানী এলাকার কয়েকটি গ্রিলকাটা চুরির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। সোহাগ নিজে একটি চোরচক্রের নেতা এবং জুয়েল তার সহযোগী।

গ্রিলকাটা চুরির তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, সোহাগ ও জুয়েল ২ হাজারের বেশি চুরি করেছে। কোনো বাসায় চুরি করতে তারা সময় নেন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। ১০-১২ তলা ভবনেও তারা পাইপ বেয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সোহাগ এ কাজে বেশি পারদর্শী। এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি চুরি করে আসছেন। পাঁচ ওস্তাদ পাল্টে এখন তিনি নিজেই ওস্তাদ। তার অধীনে কাজ করে একটি চক্র। আর ওস্তাদ হিসেবে যোগাযোগ রয়েছে বিভিন্ন এলাকার চোরদের সঙ্গে।

সোহাগ ও তার সহযোগী জুয়েলের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে নগরীতে সক্রিয় চোরদের তালিকা করে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘তুরাগ, উত্তরা পশ্চিম ও বনানী থানার ৩টি ঘটনার মামলা তদন্ত করতে গিয়ে মো. নজরুল ইসলাম সোহাগ ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঢাকায় অন্তত ২ হাজার ভবনে চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে আরও একাধিক চোরের নাম বলেছে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ওই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

আট বছর বয়সে চুরি শুরু সোহাগের

নজরুল ইসলাম সোহাগের বাড়ি চাঁদপুরে। ছোটবেলাতেই বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। থাকতে শুরু করেন মতিঝিলে। শুরুতে কাগজ কুড়িয়ে চলতেন। তখন কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যারা চুরি করে। দু-একটি চুরিতে তিনি নিজেও অংশ নেন।

একপর্যায়ে মতিঝিলের কাগজের মাঠ এলাকার এক ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্য হয় সোহাগের। ওই ব্যবসায়ীই তাকে বিভিন্ন বাসার গ্রিল কেটে ভেতর থেকে মালপত্র নিয়ে আসার প্রশিক্ষণ দেন।

ছোট হওয়ার কারণে সোহাগ খুব সহজেই যেকোনো বাসার ভেতরে ঢুকতে পারতেন। এ কারণে গ্রিলকাটা চোরের ওস্তাদদের কাছে তার কদর বেড়ে যায়।

একসময় ওই ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে ওস্তাদ বদল করেন সোহাগ। এভাবে অন্তত পাঁচ ওস্তাদের হাত বদল হওয়ার পর তিনি নিজেই এখন চোরের সর্দার বনে গেছেন।

চুরি করতে করতেই হেরোইন ও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন সোহাগ। চুরির অর্থের বেশির ভাগই তিনি নেশার পেছনে ব্যয় করেন বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, সম্প্রতি এক গাড়িচালককে দলে ভিড়িয়েছেন সোহাগ। চুরির পর ওই গাড়িতে করে মালপত্র নিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই চালকেরও সন্ধান করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সোহাগের সাবেক ওস্তাদরা বর্তমানে জামিনে আছেন। জামিনে এসে আবারও তারা একই কাজে যুক্ত হচ্ছেন। পরিচালনা করছেন পৃথক পৃথক গ্রুপ।

এসব চক্রের সদস্যরা রাজধানীর আশপাশে বসবাস করেন। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে তারা ঢাকায় এসে বাসা রেকি করার পর চুরি করে। চুরি শেষে তারা ঢাকা ছেড়ে দেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রেজাউল হক জানান, সোহাগের দেয়া তথ্য মতে গ্রেপ্তার করা হয় তার প্রধান সহযোগী জুয়েলকে। এই জুয়েলও মাদকাসক্ত। জুয়েলের কাজ বিভিন্ন বাসা রেকি করে সোহাগের কাছে তথ্য সরবরাহ করা। এরপর সুযোগ বুঝে তারা ওই বাসায় চুরি করেন।

১০ থেকে ১২ তলা একটি ভবনের পাইপ বেয়ে তারা খুব সহজেই উঠতে পারে বলে স্বীকার করেছেন। এরপর কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই হাত দিয়ে গ্রিল ভেঙে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই মালপত্র লুটে নেন।

গুলশান বিভাগের উপকমিশনার জানান, চোরেরা রেকি করার সময় অপেক্ষাকৃত নির্জন, অন্ধকার, সিসিক্যামেরা নেই, গার্ড দুর্বল বা বেঘোর ঘুমে থাকে এমন বাসাগুলো টার্গেট করে। সুযোগ পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই চুরি করে তারা পালিয়ে যায়।

পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি বাড়ির মালিক ও বাসিন্দাদের বাড়ি বা বাসার নিরাপত্তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status