বাজারে বিক্রি হওয়া প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের মোড়কের গায়ে লেখা পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের সঙ্গে সরকার অনুমোদিত গবেষণাগারে পরীক্ষার ফলাফলে বিরাট ফারাক। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের খাদ্য নিরাপত্তা শাখার অনুসন্ধানে এমনটাই উঠে এসেছে। অন্যদিকে পণ্যের গুণগতমান নির্ণায়ক প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই বলছে, এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।
পণ্যের গুণগতমান যাচাইয়ে মাঠপর্যায় থেকে বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। পরীক্ষাগারের ফলাফলে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
১৩টি পণ্যের মধ্যে ৮টিরই মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি বেশ কয়েকটি প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের মোড়কের গায়ে লেখা পুষ্টিগুণের উপাদানের সঙ্গে গবেষণা ফলের যথেষ্ট তফাৎ পায় সিটি করপোরেশনের খাদ্য নিরাপত্তা শাখা।
ডিএসসিসির খাদ্য নিরাপত্তা পরিদর্শক কামরুল হাসান বলেন, মান মোতাবেক যা থাকার কথা ছিল, এ পণ্যের টেস্ট রিপোর্টে তা পাওয়া যায়নি। ১৩টি নমুন সংগ্রহ করে দেখেছি এর মধ্যে ৮টিই নিম্নমানের। তবে, এ বিষয়ে যোগোযাগ করা হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য শতভাগ মানসম্মত বলে দাবি করে। আরলা ফুড বিডি লি. এর হেড অব মার্কেটিং গালিব বিন মোহাম্মদ বলেন, আমাদের পণ্যের মানের ব্যাপারে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সঙ্গে আমরা মোটেও একমত না। এদিকে পণ্যের মান নির্ণায়ক সংস্থা বিএসটিআই-এর উপপরিচালক রিয়াজুল ইসলাম জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, নির্দিষ্ট মাত্রার উপাদান না থাকায় সাময়িক অসুস্থতার পাশাপাশি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারেন সাধারণ মানুষ। ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান অমি বলেন, এটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে যারা যথাযথ কর্তৃপক্ষ আছে, তাদের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যালসিয়ামের জন্য খাব, অ্যাসেনসিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্য খাব। কিন্তু এতে আমরা সেটা পাচ্ছি না। ওই খাদ্য উপাদানটার অভাব নিজের অজান্তেই শরীরে থেকে যাচ্ছে। কাজেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অচিরেই এ জালিয়াতি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও আদালতে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।