ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করলেন ওসির স্ত্রী
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 8 July, 2021, 7:05 PM

রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করলেন ওসির স্ত্রী

রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করলেন ওসির স্ত্রী

বরিশাল নগরীতে রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে পরিদর্শকের ছেলেও স্থানীয়দের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। তবে নির্যাতনকারীর কারও নাম জানাতে পারেনি পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীর নাম মনি (১১)। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার পিতা মন্টু হাওলাদারের মেয়ে।

শিশু গৃহকর্মী অভিযোগ করে- দীর্ঘদিন ধরে রূপাতলী এলাকায় ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের বাসায় কাজ করত। এ সময় তাকে অনেকবারই বকাঝকা করা হতো। বৃহস্পতিবার সে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে নগরীর চৌমাথা এলাকায় মিজানুর রহমানের স্ত্রী রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করে। এ সময় তার ছেলেও চড়-থাপ্পড় দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, মাইয়াডা চৌমাথা বাজারের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিল। এর মধ্যে এক মহিলা ও একজন ছেলে মাইয়াডার হাত ধইরা টান দেয় এবং ওরে মারা শুরু করে। এ সময় মাইয়াডা চিল্লাইয়া কইতে থাহে- ‘মুই আমনেগো লগে যামু না, ওই বাসায় মইরা গেলেও যামু না’। হেই সময় লোকজন জমা হইয়া যায় এবং শিশুটিকে মারার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি মারধরকারী ওই মহিলা ও ছেলেকে পুলিশে দেয়ার কথা কইলে পুলিশের মায়রে বাপরে তুইলা গালাগালি করে।

মমতাজ নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, মানুষ মানুষরে এমনে পিডাইতে পারে না। ওরা জানোয়ার। গরিব মারলে তো আর বিচার হইবে না। হেরা বড় মানুষ। ওই পোলায় জানাইছে হের বাপেও ডিবির বড় অফিসার।

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম বলেন, ওই বাচ্চাডারে যে সময় মারতে আছিলো ওই মহিলা আর পোলাডায় তহন মাইনষের ভিড় হইয়া গেলে ট্রাফিক পুলিশ আইয়া পুলিশ বক্সে নেয়। পরে হেই মহিলারে মন্দ কইয়া থানা পুলিশরে ডাইকা শিশু মাইডারে থানা পুলিশের কাছে দিয়া দেয়।

অভিযুক্ত মহিলার স্বামী জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিন দিন আগে শিশুটির মা-বাবা আমাদের বাসায় রেখে যান। আমার স্ত্রী অসুস্থ। আজ সকালে সে রিপোর্ট দেখানোর জন্য বাইরে বের হয়েছে। আমি বাসায় একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এই সুযোগে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়।

১২ বছরের শিশু আপনার বাসায় কী কারণে রেখেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুটি অসহায় হওয়ায় তার মা আমার বাসায় দিয়ে গিয়েছিলেন। আমার সন্তানদের সঙ্গী হিসেবে থাকতো শিশুটি। তাকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়নি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছি। ৬ দিন আগে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করেছে। সেখানে বকাঝকা করায় মেয়েটি ক্ষুদ্ধ হয়ে বাসা থেকে আজ সকালে বের হয়ে যায়। পরিদর্শকের পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়, ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে পেলে তারা বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি না যেতে চাইলে টানাহেঁচড়া হয়। যে বিষয়টি দৃষ্টিকটু। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। শিশুটি বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে, তার পরিবার এসে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, যেহেতু শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি ও বাবা-মায়ের অভিযোগ সব কিছু শুনেই ঘটনার তদন্ত করে যা সামনে আসবে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status