শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক তরুণী। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে বাড়িতে প্রেমিকা আসার পর থেকেই পলাতক প্রেমিক সাগর সরদার।
ওই তরুণী ও স্থানীয়রা জানান, বাহেরচর গ্রামের মিজান সরদারের ছেলে গার্মেন্টস শ্রমিক সাগর সরদারের সঙ্গে বছর খানেক আগে প্রথম বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হতো তাদের। দেখাও হয়েছে একাধিকবার।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই তরুণীর বাড়িতে আসে প্রেমিক সাগর। পরে একটি রুমে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায় তরুণীর বাবা ও এলাকাবাসী। পরে দরবার সালিশ বসে। এসময় স্থানীয় রশিদ ব্যাপারী, সোবাহান মাদবর, হাবি সরদার, মিন্টু ফরাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সালিশে প্রেমিক সাগর জানায়, দেড় মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু এর কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া পরেরদিন বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই তরুণীকে বিয়ে করবে এই শর্তে প্রেমিক সাগরকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ছেড়ে দেয়ার পর সাগর পলাতক ও মোবাইল নম্বরও বন্ধ রয়েছে।
তাই আজ সকাল ৮টার দিকে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন ওই তরুণী। কিন্তু তাকে মেনে নিতে আপত্তি জানান প্রেমিকের বাবা-মা।
তরুণী বলেন, আমার সঙ্গে সাগরের এক বছর যাবত সম্পর্ক। গত মঙ্গলবার একটা ঘটনা ঘটছে। পরে সাগর বলেছে, আমাকে তিনি বিয়ে করেছে। এখন এলাকাবাসী সবাই জানে সাগর আমার স্বামী। তাই স্ত্রীর মর্যাদা পেতে স্বামীর বাড়িতে এসেছি। তিনি পালিয়েছে, মোবাইল নম্বরও বন্ধ। সাগর স্ত্রী হিসেবে মেনে না নিলে আমি আত্মহত্যা করবো।
ওই তরুণীর মা বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে সাগের সম্পর্ক। সাগর বলছে বুধবার আমার মেয়েকে বিয়ে করবে। কিন্তু বিয়ে করেনি। তাই মেয়ে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে সাগরের বাড়িতে উঠেছে। মেয়েকে বিয়ে না করলে আমি সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করবো।
এদিকে সাগরের মা আয়শা বেগম বলেন, আমরা এ ব্যাপারে আগে কিছু জানতাম না। শুনলাম আমার ছেলে সেদিন পানি খেতে গিয়েছিল ওই মেয়ের বাড়ি। মেয়ের বাবা-মার সঙ্গে পারিবারিক কলহ রয়েছে। তাই তারা আমার ছেলে এবং ওই মেয়ের ইজ্জত নিয়ে খেলছে। আজ হঠাৎ করে মেয়েটি আমাদের বাড়িতে এসে ওঠেছে।
ডামুড্যা থানার ওসি শরীফ আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। বিষয়টির খোঁজ খবর নিচ্ছি।