মধুখালী বেরেস্বর মাঝি বাড়ীর খাল পূন:খনন (অংশ-১) এর নামে সরকারেরর ৩৪ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। পূর্বে খননকৃত খাল প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে লোক দেখানো নাম মাত্র কাজের মাধ্যমে ওই টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এই আত্মসাতের ঘটনায় সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বেলেস্বর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সমিতি নামে একটি সংগঠন ও এলসিএস দলনেতা সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস এবং ফরিদপুর মৎস্য অফিস ও পরিমাপ কমিটির সদস্যগন।
খাল পূন:খনন কাজ বাস্তবায়ন কারী ঠিকাদার সাংগুরা গ্রামের রাসেল। তিনি ঢাকায় থাকেন। কাজ তদারকীর দায়ীত্বে (এসও) রাজবাড়ী জেলা মৎস অফিসের উপ-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহম্মেদ তপু ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজনা ইউনিয়নের বেলেস্বর বাজার মাঝি বাড়ীর ব্রীজ থেকে মন্ডল বাড়ী ব্রীজ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর একটি খাল ২০২০-২০২১ অর্থবছরে খনন করা হয়। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে টেকসই ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পাদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় মৎস্য বিভাগ থেকে ওই খাল পুন:খননের জন্য ১৯,৯৪,০০০/= লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
এজন্য মধুখালীর বেলেস্বর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন (এলসিএস) সমিতি নামে একটি সংগঠনকে দায়ীত্ব প্রদান করা হয়। এর মধ্যে এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হন গাজনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া। সরেজনিন খাল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বেলেস্বর মাঝি বাড়ী ব্রীজ খালের উত্তর প্রান্ত তথা ব্রীজ থেকে শুরু করে সামান্য অংশে কিছুটা সিডিউল মোতাবেক কাজ করা হয়েছে। খালের বাকী দুই পাশ থেকে ঘাস পরিস্কার করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি।
অপরদিকে, বেলেস্বর মাঝি বাড়ীর শেষ সিমানা থেকে মন্ডল বাড়ীর ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার খান পুন:খননে খালের তলায় সিডিউল আনুযায়ী খালের পাড় থেকে পাঁচ ফুট ঢালুর পর আরও পাঁচ ফুট ঢালুর কাজ করে আট ফুট চওড়ার পাড় বাঁধানোসহ খালের তলায় দুই-ছয় ফুট গভীর করার কথা রয়েছে।
অথচ,সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। এমনকি খালের পাড় বাঁধানোর কাজেও শুভংকরের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। পুকুর পাড়ের ব্যাক্তি মালিকানা জমিতে মাটি ছিটিয়ে পাড় বাঁধানো দেখানো হয়েছে। যা একটু বৃষ্টি হলেই পাড়ের মাটি খালের ভিতর যাবে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। বেলেস্বর মাঝি বাড়ী থেকে মন্ডল বাড়ী ব্রীজ পর্যন্ত খাল পুন:খনন করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজটি সমাপ্ত করেন নাই।
পরিদর্শনকালে বেলেস্বর পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সমিতিরি কয়েকজন সদস্য (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, সংগঠনের নামে প্রকল্প দেয়া হলেও কীভাবে টাকা এসেছে, কোথায় ব্যয় হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। অত্র এলাকায় উপস্থিত আমিরুর ও কাশেম বলেন, খাল খননের কোনো ঘটনাই তাদের চোখে পড়েনি। ঘাস পরিস্কার ছাড়া কিছুই করা হয়নি। প্রায় ২০ লাখ টাকা এলসিএস কমিটি ও মৎস্য অধিদপ্তরের পরিমাপ কমিটি এবং সংশ্লিষ্টি ঠিকাদার যোগসাজশ করে পুুরো টাকা লুটপাট করেছে।
গাজনা ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, কাগজে-কলমে খাল পুন:খনন প্রকল্পটি করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। ঘাষ পরিস্কার করতে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মতন খরচ হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা সবাই মিলে প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি করে লুটপাট করেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রাসেল এর ম্যানেজার শাহজাহান নতুন সময়কে বলেন, মোট প্রকল্পটি হবে ০৫ কিলোমিটার। গাজনা ইউনিয়নের বেলেস্বর বাজার মাঝি বাড়ী ব্রীজ থেকে ভায়া মন্ডল বাড়ী ব্রীজ হয়ে সাংগুরা নদী পর্যন্ত। প্রথম দুই কিলোমিটার করা হয়েছে। পরবর্তী এক কিলোমিটার গাজনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া করছেন, বাকী দুই কিলোমিটার ঠিকাদার রাসেল তথা আমরা করবো। তবে কাজ ভালো হয়েছে।
চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়ার ম্যানেজার মাজেদ নতুন সময়কে বলেন, পূর্বের দুই কিলোমিটার যেভাবে খনন করা হয়েছে আমিও ঠিক তেমনি খনন কাজ করছি, আমরা এক কিলোমিটার খান পূন:খনন কাজ করছি, আমাদের বরাদ্ধ প্রায় ১৪ লাখ টাকা, গাজনা ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলার জন্য তিনি এই প্রতিনিধিকে জানান।
সংশ্লিষ্টি ঠিকাদার রাসেলের কাছে মোবাইল ফোনে খাল খনন অনিয়ম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, কোনো অনিয়ম হয়নী, যারা আপনার নিকট বলেছেন, তারা খাল খননের নিয়ম-কানুন জানেন না, আমি ঢাকায় আছি, ফরিদপুর সবাই আমাকে চিনেন-জানেন, আমি কলেজের ভিপি ছিলাম, বর্তমান ঢাকায় আছি। বাড়ী আসলে দেখা হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দেখভালের দায়ীত্বে থাকা প্রকৌশলী ফিরোজ আহম্মেদ তপু বলেন, কাজের অনিয়ম-দূর্নীতি থাকলে পরিমাপ কমিটি তদন্ত করবেন, ঠিকাদার ৫০% বিল পেয়েছেন, বাকী বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।