ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
মুনিয়া নাটকে নুসরাতের ৫ ভুল
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 6 May, 2021, 7:31 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 6 May, 2021, 9:16 PM

মুনিয়া নাটকে নুসরাতের ৫ ভুল

মুনিয়া নাটকে নুসরাতের ৫ ভুল

মুনিয়ার আত্মহত্যা নিয়ে যে অপমৃত্যুর মামলা সেটি তদন্ত করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এই মামলার বাদি মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত। নুসরাত এই মামলার বাদি হলেও এই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষ করে এই মামলা করার পেছনেরে মোটিভ এখন তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে যে নুসরাত নির্মোহভাবে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশী হয়ে মামলাটি করে নি বরং তিনি মামলা করতে গিয়ে তার অন্যরকম পক্ষপাত ছিলো।  আইনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং আইনকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার সুস্পষ্ট কিছু তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে মুনিয়ার আত্মহত্যা নিয়ে করা মামলার ক্ষেত্রে নুসরাত ৫টি ভুল করেছেন এবং এই ভুলগুলোর সবই হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় কথাবার্তা বলার জন্য এবং একটি কথা সাথে আরেকটি কথার অসামঞ্জস্যতার জন্য।

যে ৫টি ভুল

১. মুনিয়ার লাশ নামানো নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য: মুনিয়ার লাশ নামানো নিয়ে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত একাধিক রকম তথ্য দিয়েছেন। তিনি পুলিশের কাছে প্রথমে বলেছেন ফ্যানের সঙ্গে লাশটি ঝোলানো ছিলো।  তিনি এবং অন্যরা এসে এটি নামিয়েছেন। অন্য একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন লাশ সোয়ানো ছিলো। এক জায়গায় তিনি বলেছেন অন্য একজন লাশ নামিয়েছে তারপর তিনি দেখেছে। এরকম মোট ৪ রকমের বক্তব্য পাওয়া গেছে। কিন্তু এই অপমৃত্যুর মামলার ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলেছেন যে, মুনিয়া যে আত্মহত্যা করেছেন এটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই লাশ নিয়ে ৪ রকমের বক্তব্যের মাধ্যমে বাদি নুসরাতের এর পেছনের মোটিভ ধরা পড়েছে। বিষয়টিতে জল ঘোলা করা এবং কাউকে ফাঁসিয়ে দেয়ার মোটিভ ছিলো। লাশের তথ্য বারবার অদলবদল করার মধ্য দিয়ে।

২. বাড়িভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি: এই বাড়িটি নুসরাতের নামে ভাড়া করা এবং এই বাড়িওয়ালার সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং অ্যডভান্সের ২ লাখ টাকা নুসরাতই দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন তার স্বামী স্ত্রী এবং ছোট বোনকে নিয়ে এখানে থাকবেন।  এই বাড়িটি যে তার নামে ভাড়া ছিলো এ নিয়ে নুসরাত অনেক বিভ্রান্তি করেছেন। একটি বাড়িতে যদি কারও মৃত্যু হয় তাহলে সেই বাড়িটির অভিভাবকেরই প্রথম দায়িত্ব থাকে মৃত্যু সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ করার জন্য। কিন্তু  নুসরাত যে বাড়ির মূল ভাড়াটে ছিলেন সেই তথ্যটি তিনি গোপন করেছিলেন।

৩. অতিউৎসাহী হয়ে অসংলগ্ন বক্তব্য: এই মামলাকে কার্যকর করার জন্য নুসরাত অতিউৎসাহী হয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন, মিডিয়ার আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং সব জায়গায় তিনি কথা বলতে গিয়ে অসংলগ্ন বক্তব্য করেন। আর এইসব অসংলগ্ন বক্তব্য করতে গিয়ে বাদি হিসেবে তার অবস্থান ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং একাধিকরকম বক্তব্যের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।
 
৪. মুনিয়ার অতীত নিয়ে মিথ্যাচার: মুনিয়ার অতীত নিয়ে নুসরাত একের পর এক মিথ্যাচার করেছেন বলেও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। কারণ আত্মহত্যার প্ররোচানার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত মানুষগুলো যোগসূত্র এবং সর্বশেষ কার সঙ্গে মুনিয়ার কথা হয়েছে, কি রকমভাবে কথা হয়েছে। নুসরাত নিজেই তাকে বলেছেন যে মুনিয়া তাকে কলা আনতে বলেছে, তাড়াতাড়ি আসতে বলেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। মৃত্যুর আগে যদি চাপমুক্ত থাকে মুনিয়া তাহলে প্ররোচনায় আত্মহত্যা হলো কীভাবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৫. একজনকে অভিযুক্ত করার টার্গেট: এই পুরো মামলাটিতে দেখা যায় যে একটি উদ্দেশ্য ছিলো একজনকে অভিযুক্ত করা এবং তাকে টার্গেট করা। মুনিয়ার মৃত্যুর সময় নুসরাত এখানে ছিলেন না, নুসরাতের সঙ্গে মুনিয়ার কথাবার্তা হয়েছে স্বাভাবিক মানুষের মতো এবং কখনও মুনিয়া কোনো রকম উত্তেজনাকর ও হতাশাজনক কোনো কথাবার্তা বলেননি নুসরাতের বক্তব্য অনুয়ায়ি। তাহলে একজনকে হঠাৎ করে অভিযুক্ত করলেন । এসে তিনি লাশ পাওয়ার সাথে সাথে বুঝলেন আত্মহত্যার প্ররোচনাকরী ওই ব্যক্তি। তিনি কি তাহলে অন্য কারও ইন্ধনে বা কাউকে খুশি করতে এই মামলা করেছেন এই প্রশ্ন এখন তদন্ত সামনে চলে আসছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status