বেহাল দশায় সাগরদিঘীর একমাত্র প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র
নতুুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Wednesday, 17 February, 2021, 2:19 PM
বেহাল দশায় সাগরদিঘীর একমাত্র প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্র
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘীর একমাত্র প্রাণীসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রটিতে নেই চিকিৎসক। অবকাঠামোর উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর না থাকা, সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনে পানি উঠা, চিকিৎসার সরঞ্জাম না থাকা, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকাসহ নানা জটিলতায় চিকিৎসাসেবা একেবারেই ভেঙে পড়েছে।
সরকারি এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক হাজার হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর খামারিরা।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সূত্রানুসারে, ১৪টি ইউপি ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঘাটাইল উপজেলায় তালিকাভুক্ত গরুর খামার রয়েছে ১৮টি। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আরো ছোট-বড় প্রায় ৬০-৭০ টি খামার রয়েছে। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ ওই অঞ্চলে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পও রয়েছে। এসব খামারে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় এক লাখ।
সরকার যখন দেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করতে বিভিন্ন উপায়ে ছাগল পালন, হাঁস- মুরগীর খামার, গবাদী পশু পালনে মানুষকে আগ্রহী করে তুলছেন, প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় অনেক যুবকের কর্মসংস্হানের ব্যবস্হা করে দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে
প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারি না থাকা ও অবহেলার কারণে আগ্রহ হারাতে বসেছে পশু পালনকারী এসব খামারি ও সাধারণ কৃষকরা। সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে সাব-প্রাণিসম্পদ কল্যাণ কেন্দ্রের জরাজীর্ণ ভবন ও সরঞ্জামাদি।
খামারিদের অভিযোগ সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের কোনো কাজেই আসছে না। গবাদি পশু ও মুরগির খামারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমাদের প্রায় ৩০ কি.মি. দূরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে এসে চিকিৎসা ও পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। এছাড়া দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অব অবস্থায় জায়গাটি পড়ে থাকায় এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল জায়গাটি নিজেদের দখলে নেয়ার পায়তারা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এম.এম মহিবুর রহমান জানান, বর্ষার প্রায় তিন-চার মাস বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকে অফিস কক্ষ ও এর আঙিনা। এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য নেই ভালো কোনো ভবন, বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম। যার ফলে, সাধারণ মানুষ ছুটে চলছে হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে এবং হরহামেশা প্রতারিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এখানে এক সময় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন খামারি বিভিন্ন কৃত্তিম প্রজনন, ছাগলের ঠান্ডা-কাশির ভ্যাকসিনসহ যাবতীয় সেবা নিতে আসতো। বর্তমানে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে খামারিরা গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, উপজেলার এই কল্যাণ কেন্দ্রটি পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ মানুষের তাদের পশু পাখির চিকিৎসার এক মাত্র ভরসা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া দূরের কথা, দাঁড়াবার পরিবেশও নেই। এর উন্নয়নে আমাদের কাছে কোনো বরাদ্ধ নেই।